‘রাহুলের নতুন জিম সেট আপ, বই, পোস্টার কালেকশন পড়ে রয়েছে…’, আবেগপ্রবণ সন্দীপ্তা সেন

‘রাহুলের নতুন জিম সেট আপ, বই, পোস্টার কালেকশন পড়ে রয়েছে…’, আবেগপ্রবণ সন্দীপ্তা সেন

কলকাতা: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Banerjee)-এর সঙ্গে একটা সময়ে তাঁর জুটি ছিল ভীষণ জনপ্রিয়। ধারাবাহিক থেকে শুরু করে একাধিক কাজ একসঙ্গে করেছেন তাঁরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ও ফিকে হয়েছে। একসঙ্গে কাজ করাও হয় না দীর্ঘদিন। রাহুলের অকাল প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করলেও, শেষযাত্রায় দেখা যায়নি তাঁকে। তবে রাহুলের মৃত্যুর কয়েকদিন পরে, সোশ্যাল মিডিয়ায় লম্বা পোস্ট করলেন অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন (Sandipta Sen)।

সদ্যই রাহুলের মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সন্দীপ্তা। সেখানে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়েছেন সন্দীপ্তা। ঘরের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে রাহুলের ব্যবহৃত সমস্ত জিনিস। বাড়িতে রয়েছে রাহুলের পোষ্য ও। অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘এতগুলো দিন কেটে গেল, এখনও ঠিক মেনে নিতেই পারছি না, রাহুল আর নেই। রাহুল অরুণোদয় ব্যানার্জি – অত্যন্ত ভালো মানুষ, বন্ধু, গুণী অভিনেতা, সহ-অভিনেতা, লেখক , কবি … ; এইরকম একজন মানুষ কে আমরা হারালাম।’

সন্দীপ্তা আরও লিখেছেন, ‘রাহুলের খুব প্রিয় একটা লাইন ছিলো চন্দ্রবিন্দুর , ” আমরা কমতি পড়লে loan দিই জন্মদিন “… প্রিয় লাইন যে এইভাবে সত্যি হয়ে যাবে , সেটা ভাবতেই পারিনি। আমরা প্রত্যেকে গভীরভাবে শোকাহত, খুব কাছের মানুষ চলে গেলে যে দুঃখ টা হয়, এটা ঠিক সেই অনুভূতি , আর এই মনখারাপের শুধু শুরু আছে, শেষ নেই। সব থেকে বেশি কষ্ট হয় পরিবারের সদস্যদের, কাছের মানুষদের। সেদিন কাকিমার সাথে দেখা করতে গেছিলাম। কত পুরোনো কথা, কত পুরোনো স্মৃতি, রাহুলের ছোটবেলার কথা, পছন্দের খাবার, বই, মায়ের সাথে কাটানো পুরোনো সময় গুলোর কথা …. কত কিছু নিয়ে কথা হল …. রাহুলের ঘর, নতুন জিম সেটআপ, রাহুলের বই, পোস্টারের কালেকশন সবটাই পরে রয়েছে ওর অপেক্ষায়…কুট্টুসের সাথে দেখা হলো, ঠিক চিনতে পেরেছে এতো বছর বাদে, ওর কষ্টটা বোধহয় সবচেয়ে বেশী, কাউকে বলতেও তো পারছে না বেচারা …।’

সন্দীপ্তা আরও লিখেছেন, ‘কাকিমা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না, আদরের বাবিন কে হারিয়েছেন তিনি। খুব কষ্ট হচ্ছে দাদা-র কথা, বউরাণী-র কথা, রাহুলের স্কুলের বন্ধুদের কথা, আত্মীয়দের কথা , বাবলু দা-র কথা , সহজের কথা আর অবশ্যই প্রিয়াঙ্কার কথা ভেবে।… এ যে কি ভয়ংকর কষ্ট সেটা আমি-আপনি বুঝতে পারবো না। ছোট্ট সহজ, মাত্র ১৩ বছর বয়সে , বন্ধু-বাবা কে হারালো, এইটা বোঝা বা বোঝানোর ভাষা আমার কাছে নেই। আর প্রিয়াঙ্কা, নিজের মন শক্ত রেখে, এই অবস্থাতে একা হাতে মিডিয়া, পরিবার, কাজ সবটা সামলাচ্ছে।’

সন্দীপ্তা আরও লিখেছেন, ‘এরকম একটা সময়ে, এত খারাপ লাগার মধ্যে, আরও কষ্ট হয় যখন সোশাল মিডিয়ায় চোখ রাখি। সোশাল মিডিয়া তে মানুষরা যদি একটু সেন্সেবল হয়, সব বিষয়ে জাজ না করে, একটু নিরপেক্ষ ভাবে নিজেদের কষ্ট-যাপন করে, তাহলে মনে হয় আর কেউ না থাকুক, রাহুলের পরিবার , একটু ভালো, একটু শান্তিতে, একটু আড়ালে, নিজেদের মতো করে থাকতে পারে। আর আমরা তো প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা মানুষ, আলাদা আলাদা পার্সোনালিটি। আমাদের দুঃখ প্রকাশের ধরণ আলাদা আলাদা। কিন্তু সোশাল মিডিয়া তে ঘটে চলা এই অস্বাভাবিক শুনানি, ভার্ডিক্ট, মাত্র ১৩ বছর বয়সী একটা বাচ্চা ছেলের সমাজ সম্পর্কে কী ধারণা তৈরি করতে পারে সেটা কি আমরা ভেবে দেখছি ? একটু বোঝার চেষ্টা আমাদের সবাইকেই করতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে আমাদের তো একটু সংবেদনশীল, একটু পরিণত হতে হবে।’

সন্দীপ্তা আরও লিখেছেন, ‘তবে এটাও সত্যি, গাফিলতি তো হয়েছেই, প্রপার, নিরপেক্ষ ইনভেস্টিগেশন দরকার। গাফিলতি ছাড়া তো এরকম ঘটনা ঘটতেই পারেনা। এখন শুধু সত্যিটা সামনে আসার অপেক্ষা। এই অপেক্ষার মাঝেই আমাদের কে খুঁজে নিতে হবে একটু ভালো থাকা। রাহুল তো নিজেই ভালো থাকার প্রতি বেশি ঝুঁকে থাকতো। কারুর কাছে সে রাহুল, কারুর কাছে অরুণোদয়, বাবিন,

অরুণ ….. ভালো থাকুক রাহুল, তুমি মনে থাকবে চিরকাল …’

(Feed Source: abplive.com)