US-Iran War: নিখোঁজের সন্ধান; ‘ভয়ংকরতম মারণাস্ত্রে সজ্জিত’ বুক কাঁপানো ১২ এয়ারক্রাফ্ট, ইউএস স্পেশ্যাল ফোর্সের ১০০ ট্রুপের রুদ্ধশ্বাস ‘বিস্ট’ অপারেশন ইরানে

US-Iran War: নিখোঁজের সন্ধান; ‘ভয়ংকরতম মারণাস্ত্রে সজ্জিত’ বুক কাঁপানো ১২ এয়ারক্রাফ্ট, ইউএস স্পেশ্যাল ফোর্সের ১০০ ট্রুপের রুদ্ধশ্বাস ‘বিস্ট’ অপারেশন ইরানে

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘আমরা তাকে উদ্ধার করেছি’। রবিবার ৫ মার্চ, গর্বের সঙ্গে ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump)। ইউএস স্পেশ্যাল ফোর্সের অসম সাহসি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশনের পরেই নিখোঁজ এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের (F-15 fighter jet crew member) এক ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেই জানান ট্রাম্প! ‘বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর মারণাস্ত্রে’ সজ্জিত ১২ ইউএস এয়ারক্রাফ্টই করেছে এই অপারেশন। গত শুক্রবার, আমেরিকার যুদ্ধবিমান (দুই আসন বিশিষ্ট এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল) গুলি করে মাটিতে নামিয়েছিল ইরান। বিমানে একজন পাইলট এবং ওয়েপনস সিস্টেম অফিসার ছিলেন। পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, ওই অফিসার নিখোঁজ ছিলেন বলেই জানা গিয়েছিল। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দীর্ঘ পোস্টে অপারেশনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন যে, কীভাবে নিখোঁজ হওয়ার দু’দিন পর ওই ক্রু সদস্যকে কীভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমার নির্দেশে মার্কিন সেনা, তাকে উদ্ধার করতে বিশ্বের সবচেয়ে মারণাস্ত্র সজ্জিত ১২টি এয়ারক্রাফ্ট পাঠিয়েছিল। সে আঘাত পেয়েছে বটে, তবে সে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে।’

ইউএস স্পেশ্যাল ফোর্সের ১০০ ট্রুপ

সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, ‘এই উদ্ধার অভিযানে শয়ে শয়ে স্পেশ্যাল ফোর্সের সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন। সেনারা ইরানের ভূখণ্ডের একেবারে গভীরে প্রবেশ করেই ওই নিখোঁজ সতীর্থকে উদ্ধার করেছেন। তাঁকে ইতোমধ্যেই বিমানে করে নিরাপদে ইরানের বাইরে আনা হয়েছ এবং বর্তমানে তিনি নিরাপদেই আছেন। রাতের অন্ধকারে শুরু হয়ে দিনের আলোয় শেষ হওয়া আমেরিকার এই রুদ্ধশ্বাস হাড়হিম অভিযান কিন্তু পুরোপুরি পরিকল্পনা মাফিক এগোয়নি। রিপোর্ট বলছে সেখানে আমেরিকা-ইরানের মধ্যেই গোলাগুলি চলেছে এবং সেই সংঘর্ষ চলাকালীনই মার্কিন বাহিনী ওই বিমানের সেনাকে উদ্ধার করতে পেরেছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্টে জানা যাচ্ছে যে, দু’দিন ধরে চলা এই অভিযানে ইউএস স্পেশ্যাল ফোর্সের ১০০ ট্রুপ অংশ নিয়ে। এই সময় মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলি বোমা বর্ষণ ও ইরানের সামরিক বহর লক্ষ্য করে গুলিও চালিয়েছিল যাতে তারা ওই বিমানসেনার গোপন আস্তানার কাছাকাছি পৌঁছাতে না পারে।

ইউএস স্পেশ্যাল ফোর্সের হাতিয়ার কী ছিল

ট্রাম্প এই অপারেশনকে ‘অলৌকিক’ বলছেন। কারণ এই সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন ছিল ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বলয়ের গভীর অভ্যন্তরে। অবিরাম ক্ষেপণাস্ত্র ও রাডারের হুমকির মুখে পড়েও যা থামেনি। মার্কিন বাহিনীর এই অভিযানে এইচএইচ-৬০ ডব্লিউ জলি গ্রিন টু রেসকিউ হেলিকপ্টারের সঙ্গে এ-১০ ওয়ার্টহগ অ্যাটাক জেট। ছিল এইচসি-১৩০ ট্যাংকার- যা আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ করে। নিরাপদ দূরত্বেই ছিল ভয়ংকর এম-৩৫ স্টেলথ জেট, বিশেষ বাহিনী এবং একটি বিশেষ ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ (সিএসএআর) ইউনিট ব্যবহার করেছিল। তবে এই অভিযানে দানব হয়ে ধরা দিয়েছিল সিএসএআর জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টার। এমনিও যার নাম ‘বিস্ট’। পুরনো এইচএইচ-৬০জি পেভ হক  হেলিকপ্টারের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার লক্ষ্যেই নকশা করা হয়েছে। ‘সেলফ-সিলিং’ অর্থাত্‍ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছিদ্র বন্ধকারী জ্বালানি ট্যাংক দিয়ে তৈরি হেলিকপ্টার দীর্ঘ যাত্রার কথা ভেবেই তৈরি। রাতের অন্ধকার ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় কাজ করার উপযোগী উন্নত সেন্সর রয়েছে। শত্রুপক্ষের গোলাগুলির মুখেও দ্রুত কাউকে উদ্ধার করে তুলে আনার জন্য একটি শক্তিশালী ‘হোইস্ট’ বা উত্তোলন যন্ত্র। অবতরণের সময় এর দরজায় লাগানো বন্দুকগুলি  আলাদা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কাজে লাগে। এই হেলিকপ্টারে প্যারাট্রুপার ও উদ্ধারকাজের সরঞ্জাম বহনের জন্য বিশাল কেবিন রয়েছে।

মার্কিন উদ্ধার অভিযান নিয়ে ইরানের বক্তব্য

ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিখোঁজ মার্কিন ক্রুকে জীবিত অবস্থায় ধরে দিতে পারলে নাগরিকদের প্রায় ৬৬০০০ ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে দ্বিতীয় মার্কিন বিমানসেনার উদ্ধার প্রসঙ্গে তেহরান এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি। ওদিকে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস জানিয়েছে, নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু-সদস্যের সন্ধানে নিয়োজিত এক মার্কিন বিমান ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

(Feed Source: zeenews.com)