
রবিবার আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমে কর্মবিরতির কথা জানানো হয়। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাহুল আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে। কিন্তু যেটা করে গেল, আমাদের পুরো ইন্ডাস্ট্রি, প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, কলাকুশলীকে একজোট করে গেল। সবাই মিলে আলোচনা করেছি যে, সত্যিই আমাদের শিল্পী, টেকনিশিয়ান, ক্যামেরাম্যান, ফাইটার-সকলের সুরক্ষা দরকার। প্রযোজকরা ভীষণ ভাবে আমাদের সঙ্গে আছেন। আমার ম্যান্ডেটরি করতে চাই যে এটাই নিয়ম। সবার জন্য এক। আমাদের শিল্পী, কলাকুশলী, ঘটনাটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু সবাই খুব ভীত। আমরা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছি না। তাই জন্য আমরা মঙ্গলবার থেকে সকলে মিলে কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একটা আবেগের জার্নি। সাত দিন আগে চলে গিয়েছে। আজ এই টুকু তো হয়েছে যে ইন্ডাস্ট্রির সকলে এক হয়েছেন। অনেক কথা শুনি যে এখানে ভাগ, ওখানে ভাগ। ছেলেটা আমাদের এক করে দিয়ে গিয়েছে। এমন একটা সিস্টেম তৈরি করতে চাই, যাতে সকলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিতকরণ সম্ভব হয়।” (Tollywood Artist Forum)
আর্টিস্ট ফোরামের তরফে জানানো হয়েছে, শিল্পী-কলাকুশলীদের নিরাপত্তায় প্রতিশ্রতিবদ্ধ সকলে। এ নিয়ে কোনও রকম আপস চলবে না। একটা SOP তৈরি করা হবে, যা সকলে মেনে চলবেন। কী ভাবে শুটিং চলবে, কী নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে, সব থাকবে তাতে। আশাকরি তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান হবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসও। তিনি বলেন, “আমাদের সবার কনসার্ন যে, দীর্ঘ দিন ধরেই চেষ্টা চলছিল। বিভিন্ন জায়গায় শুটিং করতে যাই আমরা, কখনও পাহাড়ে, কখনও সমুদ্রে, কখনও গঙ্গায়। শুটিংয়ের প্রয়োজনে শিল্পী এবং কলাকুশলীদের কী কী করতে হয়…কতটা গভীরে সমুদ্রে যেতে হবে, নদীতে বা পাহাড়ের কোথা থেকে শট দিতে হবে, আগুনের সামেন কী ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে, আমরা কেউ জানি না। কোনও শিল্পী বা কলাকুশলী কিন্তু গল্পের প্রয়োজনে পিছপা হন না। ডিওপি থেকে শিল্পী, সকলেই এগিয়ে যান। সকলে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে সব স্বাভাবিক লাগে, মানুষের নজর কাড়ে। ইন্ডাস্ট্রিটাকে বাঁচাতে চাই আমরা। ১১ হাজার বা পরিবারের চারজনকে নিয়ে ৪৪ হাজার নয়, যাঁরা চা দেন, জল দেন, মেটেরিয়াল সরবরাহ করেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ৩০-৪০লক্ষের কম নয়, প্রচুর মানুষ যুক্ত। সেই ইন্ডাস্ট্রির ন্যূনতম সিকিওরিটি এবং সেফটি না থাকলে রাহুলের মতো গুণী শিল্পী, এমনকি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সেই মামলা এখনও বিচারাধীন। অনেকে কাজ করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের কে দেখবে, কে লড়াই করবেন! তাই আমরা ঐক্যবদ্ধ। SOP দরকার।
স্বরূপের প্রশ্ন, “কে দায়ভার নেবেন? রাহুল যে আমাদের ছেড়ে চলে গেল, কে দায় নিচ্ছে? কেউ তো এগিয়ে আসছেন না! কেউ তো একটা কথাও বলছেন না? কেউ তো সত্যের উদঘাটন করছেন না! তাই আমাদের নিজেদের প্রয়োজনে, নিজেদের তাগিদে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতিতে যেতে হচ্ছে। আমরা চাইনি, আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ান কেউ চায় না। একদি বন্ধ মানে রুটি-রুজি বন্ধ করা। কিন্তু বন্ধ করতে হচ্ছে কেন? আমরা বাড়ি থেকে বেরোই, ফিরে আসব কি না জানি না। এবার সিকিওর করতে চাই যে, বাড়ি ফিরব, পরিবারের সঙ্গে কথা বলব আমরা। আমরা কর্মবিরতি কেউ চাই না, কিন্তু করতে বাধ্য হচ্ছি। প্রযোজক সংস্থাও বলেছে, এটা প্রয়োজন। এবার করতেই হবে। কাজের জায়গায় নিজেদের উজাড় করে দেব, কিন্তু নিজেদের বিসর্জন দেব না।”
পকিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “সর্বসম্মতিতে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত। সকলকে অনুরোধ, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় টেকনিশিয়ান স্টুডিওয় আসুন, যাতে সবাই একসঙ্গে থাকতে পারি আমরা। এখন দুর্ঘটনা, বিপদ খুব আকস্মিক। আগে থেকে বলা যায় না। কিন্তু এমন কিছু নিয়মাবলী রাখতে হবে, যাতে শিল্পী এবং তাঁর পরিবারের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে। রাহুলের পরিবার যেন জানতে পারে যে, তাদের প্রিয়জন কী ভাবে মারা গিয়েছে। সেটা না জানিয়ে থাকা যাবে বলে যদি ভাবেন কেউ, তা হবে না। সেই সত্য যাতে সামনে আসে সকলে চেষ্টা করছেন।”
আর্টিস্ট ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত বলেন, “মানবিকতার লড়াই। মানবিক ক্ষেত্রে আমরা শিল্পীরা প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ। একই ভাবে সাবধানতা নিয়ে ভাবতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে নেমেছি আমরা। আমাদের জীবননিয়ে সংগ্রাম। রাহুল যেভাবে চলে গেল, সেটা কাম্য নয়। আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ব, জানতে চাইব, কেন রাহুল এভাবে চলে গেল রাহুল। রাহুল একটা উদাহরণ তৈরি করে গেল, সবাইকে এক করে দিয়ে গেল যে, সত্যিই কি আমরা নিরাপদ?”
শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ৪০০০ শিল্পী-সদস্য, ফেডারেশনের ৭০০০ টেকনিশিয়ান-সদস্য, সমস্ত কলাকুশলী, শিল্পী, সকলের নিরাপত্তা, জীবনরক্ষার্থে এই লড়াইয়ে নামলেন তিনি। যে পরিস্থিতিতে কাজ চলছে, সকলে ভয়ভীত। শুটিং করতে বেরোলেও, ফেরার নিশ্চয়তা নেই। রাহুল শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছেন সিকিওরিটি ছাড়া বেরনো উচিত নয়। তাই মঙ্গলবার থেকে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত। যত ক্ষণ পর্যন্ত সুরক্ষা সম্পর্কে আশ্বস্ত করা যাচ্ছে, তত ক্ষণ চলবে কর্মবিরতি।
(Feed Source: abplive.com)
