‘পুরো ইরান উড়িয়ে দেব’, ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ‘নেওয়া হবে প্রতিশোধ’, পাল্টা হুঙ্কার ইরানের

‘পুরো ইরান উড়িয়ে দেব’, ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, ‘নেওয়া হবে প্রতিশোধ’, পাল্টা হুঙ্কার ইরানের
Donald Trump: ‘পুরো ইরান উড়িয়ে দেব’, ফের ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের। তাঁর দেওয়া সময়সীমা পেরনোর মধ্যে যদি তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে পুরো ইরান উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। আমেরিকা হামলা করলে তা প্রতিশোধ নেবে তারা। ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা বিভিন্ন পরিকাঠামোতে চলবে জোরদার হামলা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, হয় ইরানকে তাদের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে সম্মত হতে হবে। নয়তো খুলে দিতে হবে হরমুজ প্রণালী। নাহলে নারকীয় পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে ইরান। যদিও ট্রাম্পের এসব হুমকিকে পাত্তাই দিচ্ছে না ইরান। বরং তাদের দাবি, ট্রাম্প অসহায়তার মধ্যে অস্থির হয়ে নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিচ্ছেন। নির্বোধের মতো বোকা বোকা হুমকি দিচ্ছেন।

একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টায় যদি ইরানের তরফে কোনও শান্তি চুক্তি না হয়, তাহলে পুরো ইরান উড়িয়ে দেব।’ Axios and Fox নিউজ সূত্রে খবর ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানের কাছে ভাল সুযোগ ছিল। কিন্তু যদি ওরা চুক্তি না করে তাহলে ওখানে যা আছে আমি সব জ্বালিয়ে দেব।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এও বলেছেন, ‘ইরান বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছে। দিন যত এগোবে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’ একেবারে সময় উল্লেখ করে হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘মঙ্গলবার রাত ৮টা, ইস্টার্ন টাইম অনুসারে’, যা ভারতীয় সময়ে বুধবার ভোরবেলার দিকের সময়। অনুমান, এই সময়ের পরেই হয়তো ইরানে হামলা করবে আমেরিকা। ইরানও যে পাল্টা জবাব দেবে এবং বেশ জোরকদমেই দেবে, সেটাও মোটামুটি স্পষ্ট। 

হরমুজ নিয়ে ইরান এবং ইরানের মধ্যে সংঘাত চলছেই। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, আগামী ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে বড়সড় হামলা চালাবে আমেরিকা। এরপর আবার কিছুদিন ট্রাম্প আগে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে রপ্তানি করা তেল আমেরিকার লাগবে না। বরং যাদের লাগবে তারা যেন হরমুজে নিরাপত্তা দেয়। এর কিছুদিন পরেই ফের হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন কথা বললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিভিন্ন সূত্রে খবর, ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি আলোচনা হয়েছে ইরান এবং আমেরিকা, উভয় পক্ষের মধ্যেই। তাহলে এবার যদি ফের আমেরিকা ইরানে হামলা চালায়, যেমনটা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাহলে ‘War Crime’ পরিস্থিতি তৈরি হবে। এই ‘War Crime’ পরিস্থিতি বা যুদ্ধ-অপরাধ হল এমন একটি বিষয় যেখানে যুদ্ধ আইনের আওতাধীন নিয়ম-নীতির উল্লঙ্ঘন করা হয়। সশস্ত্র সংঘাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এই যুদ্ধ আইন। সেখানে নিয়ম ভাঙা হলে তা নিঃসন্দেহে গুরুতর বিষয় বলেও গণ্য হয়। 

প্রায় ৫ সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চলছে পশ্চিম এশিয়ায়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর একযোগে আঘাত হেনেছিল আমেরিকা এবং ইজরায়েল। সেই আক্রমণে মৃত্যু হয় ইরানের তৎকালীন প্রধান শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের। একা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নন, তাঁর স্ত্রী, মেয়ে, জামাই এবং তাঁদের সন্তানের মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়। এরপরই ইরান জানিয়ে দেয় জোরদার প্রতিশোধ নেবে তারা। সেই মতোই ইরানের তরফে হামলা চালানো হয় ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় এলাকায় থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি এবং পরিকাঠামোর উপর। পাল্টা জবাব দেয় আমেরিকাও। সেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণ এখনও বজায় রয়েছে। 

(Feed Source: abplive.com)