
অভিশপ্ত দিনের স্মৃতি
তালসারিতে শ্যুটিংয়ের সেই অভিশপ্ত দিনের কথা মনে করে অম্বরীশ বলছেন, ‘আমরা একসঙ্গেই আউটডোরে গিয়েছিলাম। ২ দিন শ্যুটিং ও করেছি। যেদিন ঘটনাটা ঘটে, সেদিন সকালে ও-ই আমায় প্রথম ফোন করেছিল। বলেছিল, ‘আমার ঘরে এসো, ভাল চা খাওয়াব।’ যখন ওর ঘরে বসে চা খাচ্ছি, ও ও জানত না, আমিও জানতাম না যে, ওটা রাহুলের মৃত্যুদিন। বেলা ১২টা থেকে সমুদ্রের ধারে আমাদের শ্যুটিং শুরু হয়। মোহনার ধারে। আমাদের কোনও জলের দৃশ্য ছিল না, পাড়েই শ্যুটিং হয়। ৩টে নাগাদ আমাদের অধিকাংশেরই প্যাক আপ হয়ে যায়। রয়ে যায় শুধু রাহুল, নায়িকা আর ধারাবাহিকের যিনি দ্বিতীয় লিড ছিলেন। শুনলাম, তাঁদের আরও দৃশ্য বাকি রয়েছে। পরেরদিন শ্যুটিং হবে। ওদের বিদায় জানিয়ে আমরা হোটেলে ফিরে আসি। খাওয়া দাওয়া সেরে কলকাতায় রওনা হয়ে যাই। রাস্তায় খবর পেলাম, রাহুলের একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার কিছুক্ষণ বাদেই খবর পেলাম, ও আর নেই। এই ভয়ঙ্কর অভিঘাত.. এখনও অবধি আমি বিশ্বাস করতে পারিনি।’
অম্বরীশ আরও বলছেন, ‘আমাদের সঙ্গে রাহুলের জলের মধ্যের কোনও দৃশ্য ছিল না। গল্পে দেখানো হচ্ছিল, স্বামী, স্ত্রী মধুচন্দ্রিমায় গিয়েছে। আমরা ওদের বাড়ির সদস্য। আমরা ছদ্মবেশ ধরে লুকিয়ে লুকিয়ে গিয়েছি। সে নিয়ে হাসাহাসি হত প্রচুর। ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে গত ১০ বছর কাজ করেছি। একজন সাহিত্যিক, একজন লেখিকা হিসেবে দিদিকে (লীনা গঙ্গোপাধ্যায়) খুব পছন্দ করি। এই একটা ঘটনায় ওঁকে ভিলেন বানিয়ে দিতে পারছি না। তবে ম্যাজিক মোমেন্টস-এর কে কি বলেছেন জানি না। আমি শুধু লীনাদির কথাই বলছি..তবে রাহুলের মৃত্যুর পরে ওঁর যে মন্তব্য, সেখানে আমি আরও একটু সহানুভূতিশীলতা আশা করেছিলাম।’
(Feed Source: abplive.com)
