হরমুজ নিয়ে ভোটাভুটি রাষ্ট্রপুঞ্জে, ভেটো দিল চিন ও রাশিয়া, গা বাঁচিয়ে বেরিয়ে গেল পাকিস্তান

হরমুজ নিয়ে ভোটাভুটি রাষ্ট্রপুঞ্জে, ভেটো দিল চিন ও রাশিয়া, গা বাঁচিয়ে বেরিয়ে গেল পাকিস্তান
নয়াদিল্লি: ইরানকে শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার রাতেই বড় কিছু ঘটবে বলে হুমকি দিয়েছেন তিনি। সেই আবহেই সেনাবাহিনী দিয়ে হরমুজ প্রণালী খোলা, সেনা মোতায়েন রেখে সেখান দিয়ে নিরাপদে পণ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা কার্যতই খারিজ হয়ে গেল। কারণ রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে হরমুজ নিয়ে ভেটো দিল চিন এবং রাশিয়া। দুই স্থায়ী সদস্য আপত্তি জানানোয় হরমুজ খোলার প্রস্তাব গৃহীত হল না। (China-Russia Veto)

বলপ্রয়োগ করে হরমুজ খোলার প্রস্তাব

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি যখন চরমে, সেই আবহেই হরমুজ নিয়ে বৈঠকে বসেছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদ। পুনরায় হরমুজ প্রণালী খোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় সেখানে। এর আগে, হরমুজ খোলার জন্য সামরিক হস্তক্ষেপ চেয়েছিল উপসাগরীয় দেশগুলি। সেসব ধরে, কিছু কাটছাঁট করেই প্রস্তাবটি পেশ করে বাহরাইন। প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, হরমুজ দিয়ে সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা গড়ে তোলা হোক, যাতে নিরাপত্তা দিয়ে সেখান থেকে জাহাজ বের করে আনা যায়। ওই  প্রস্তাবে সমর্থন ছিল আমেরিকার। (US-Iran War)

ভোটাভুটিতে কী হল?

এদিন সেই নিয়ে ভোটাভুটি শুরু হলে, প্রস্তাবটির সমর্থনে ভোট পড়ে ১১টি। অর্থাৎ ১১টি সদস্য দেশ হরমুজ খোলার সপক্ষে ভোট দেয়। দুই দেশ হরমুজ খোলার বিরোধিতা করে, চিন এবং রাশিয়া। ভোটদান থেকে বিরত থাকে দু’টি দেশ।রাষ্ট্রপুঞ্জ জানিয়েছে, বলপূর্বক হরমুজ খোলার পক্ষে ভোট দিয়েছে বাহরাইন, কঙ্গো, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, গ্রিস, লাটভিয়া, লিবারিয়া, পানামা, সোমালিয়া, ব্রিটেন, আমেরিকা। ভেটো দিয়েছে চিন ও রাশিয়া। ভোটদান থেকে নিজেদের বিরত রেখেছে কলম্বিয়া ও পাকিস্তান। বাহরাইনের বিদেশমন্ত্রী আব্দুল্লাতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলি এই প্রত্যাখ্যানে ব্যাথিত। উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরই ভোটাভুটির আয়োজন হয়, যাতে হরমুজ দিয়ে পণ্য সরবরাহ করা যায়।

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য কারা?

রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পাঁচটি দেশ, চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকা। স্থায়ী দেশগুলির মধ্যে যে কেউ ভেটো দিলেই প্রস্তাব আটকে যেতে পারে। পাকিস্তান স্থায়ী সদস্য নয়। তবে বর্তমানে অস্থায়ী সদস্য হিসেবে ভোটদানে অংশ নিয়েছিল। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দু’বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্যতা পেয়েছে তারা।

রাশিয়ার তরফে আগেই যদিও প্রস্তাবটি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। গত ৩ এপ্রিল রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সেরগেই লাভরভ জানান, জোরপূর্বক হরমুজ খুলতে গেলে সমঝোতার যে ক্ষীণ সম্ভাবনাটুকু রয়েছে, তাও নষ্ট হয়ে যাবে। বলপ্রয়োগ করে হরমুজ খোলায় আপত্তি ছিল ফ্রান্সেরও।

হরমুজের ভবিষ্যৎ কী?

এদিন ভোটাভুটির আগে রাষ্ট্রপুঞ্জে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রতিনিধি জানান, খাদ্যপণ্য, জ্বালানির দাম যে হারে বাড়ছে, নিত্য়প্রয়োজনের জিনিস থেকে কাঁচামাল যেভাবে আটকে রয়েছে, তাতে কোটি কোটি মানুষের পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। হরমুজকে মুক্ত রাখতে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এই মুহূর্তে। ইরান বেআইনি ভাবে হরমুজ বন্ধ রেখেছে বলেও দাবি করে আমিরশাহি। কিন্তু তার পরও প্রস্তাব পাশ হল না।

ফলে হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল নতুন করে ইরানে জোরাল আঘাত করতে পারে বলেও এই মুহূর্তে সরগরম আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি। কারণ মঙ্গলবার রাতের মধ্যেই ইরানের ‘গোটা সভ্যতা’ শেষ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরান যদিও সুর নরম করতে নারাজ। তাদের সাফ যুক্তি, আর আক্রমণ করা হবে না বলে আগে রাজি হতে হবে। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে তাদের।

(Feed Source: abplive.com)