)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টোল প্লাজায় হাড়হিম দুর্ঘটনা। ভারী কংক্রিট বোঝাই মিক্সার ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি চলন্ত বিএমডব্লিউ (BMW) গাড়ির ওপর উলটে পড়ে। মর্মান্তিক ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যায় বিএমডব্লিউ গাড়িটি। গাড়ির ভেতরেই মৃত্যু হয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী বি. শ্রীনিবাস রাও-এর।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল ৪টে ১৫ মিনিট নাগাদ কাঞ্চিকাচলা মণ্ডলের কিসারা টোল প্লাজার সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিএমডব্লিউ গাড়িটি তখন টোল গেট পার হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় উলটো দিক থেকে আসা একটি রেডি-মিক্স কংক্রিট বহনকারী বিশালকার ট্রাক হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি বিলাসবহুল গাড়িটির ওপর আছড়ে পড়ে। ট্রাকের প্রচণ্ড ওজন এবং সিমেন্টের ভারে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই লাল রঙের বিএমডব্লিউ গাড়িটি লোহার পাতলা পাতের মতো চ্যাপ্টা হয়ে যায়।
নিহত বি. শ্রীনিবাস রাও ছিলেন হাইকোর্টের একজন অত্যন্ত পরিচিত আইনজীবী। জানা গেছে, সেদিন সকালে তিনি অমরাবতীতে বার কাউন্সিলের নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। ভোটদান শেষে নিজের গাড়িতে করে তিনি হায়দরাবাদে ফিরছিলেন। কিন্তু মাঝপথেই এই করুণ পরিণতি তাঁর জীবন কেড়ে নিল।
ঘটনার পরপরই টোল প্লাজার কর্মী এবং পুলিস উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তবে ট্রাকটি এতই ভারী ছিল যে সাধারণ উপায়ে সেটিকে সরানো সম্ভব হচ্ছিল না। শেষমেশ বিশালাকার ক্রেন এবং জেসিবি (JCB) মেশিন আনিয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ট্রাকটি তোলা হয়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বিএমডব্লিউ গাড়ির ভেতর থেকে আইনজীবীর নিথর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
বিজয়ওয়াড়ার পুলিস কমিশনার এসভি রাজশেখর বলেন, ‘আমরা সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে, বাঁক নেওয়ার সময় ট্রাকটির ব্রেক ফেল হয়েছিল। ট্রাকটি অতিরিক্ত মালবোঝাই ছিল কি না অথবা চালকের অন্য কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।’
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জেরে জাতীয় সড়কের ওপর দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে বেশ খানিকটা সময় লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দৃশ্যটি এতটাই ভয়ংকর ছিল যে বিএমডব্লিউ গাড়িটিকে চেনার কোনো উপায় ছিল না। পুলিসের তদন্ত এখনও চলছে।
প্রসঙ্গত, শনিবার বিকালেই বিহারের কাটিহার জেলায় ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে। বাস ও পিক আপ ভ্য়ানের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় অন্তত ১৩ জনের। ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মৃতদেহগুলো রাস্তার ওপর চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়।
দুর্ঘটনায় পিকআপ ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে দলা পাকিয়ে যায়। বাসটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। খবর পেয়েই পুলিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যায়।
কীভাবে এমন দুর্ঘটনা? প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, দ্রুতগামী বাসটি প্রথমে দুই মোটরসাইকেল আরোহীকে চাপা দেয়। এরপর সম্ভবত পালানোর চেষ্টা করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে বাসটি পিকআপ ভ্যানটিকে গিয়ে মারে। এর জেরেই বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে য়ায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর আশঙ্কাজনক রোগীদের পূর্ণিয়া সরকারি মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসকরা ১৩ জনকে মৃত ঘোষণা করেন।
(Feed Source: zeenews.com)
