Iran US Ceasefire: যুদ্ধবিরতির পরই লেবাননে ভয়ংকর হামলায় নিহত ২৫৪, পাল্টা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান

Iran US Ceasefire: যুদ্ধবিরতির পরই লেবাননে ভয়ংকর হামলায় নিহত ২৫৪, পাল্টা হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গোটা বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে বুধবার ভোরেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। আর তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই লেবানানে ভয়ংকর হামলা চালাল ইসরায়েল। সেই হামলায় এখনওপর্যন্ত মোট ২৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ১১০০। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরপরই এরকম এক আক্রমণে ইসরায়েলের গুরুতর কোনও পরিকল্পনা রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ওই হামলার পরই লেবাননের পাশে দাঁড়িয়ে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিল ইরান। ফলে যে হরমুজ খোলার জন্য ট্রাম্প এতদিন হুংকার দিয়ে আসছিলেন বিশ্বাবাসীকে সেই গর্তে ফের ফেলে দিল ইসরায়েল।

হোয়াইট হাউস ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ করার আগে ইরান দুটি জাহাজকে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু এরপরই তারা তাদের সিদ্ধান্ত বদলে ফেলে এবং যাতায়াত বন্ধ করে দেয়।

ইসরায়েলের মতে, লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয়। তবে ইরান এই দাবি অস্বীকার করেছে। তেহরান দাবি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহ এবং ইরানের সমর্থনপুষ্ট অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর ইসরায়েলি হামলাসহ সব ধরনের সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “লেবাননের ওপর জায়নবাদীদের এই নৃশংস হামলার জবাবে এখনই হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া উচিত… লেবাননের মানুষ আমাদের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাই এক মুহূর্তের জন্যও আমাদের তাদের একা ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। যুদ্ধবিরতি হলে সব ফ্রন্টেই হতে হবে, নাহলে কোথাও হবে না।”

ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে অবশ্যই হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে হবে। তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল দাবি করেছে যে, ওয়াশিংটন নীতিগতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি মেনে নিয়েছে। ইরানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার আগে বৃহস্পতিবার বা শুক্রবারের মধ্যে তেহরান তাদের অবরোধ শিথিল করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরানের অনুমতির প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, ইরান এবং ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঝখানে অবস্থিত এই সরু জলপথটি পারস্য উপসাগরকে আরব সাগরের সাথে যুক্ত করেছে। বিশ্বের প্রতিদিনের ব্যবহৃত জ্বালানি তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে ইরান ওই রাস্তা আটকালে দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশের উপরেই তা চাপের সৃষ্টি করবে।

আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে এবং ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা বন্ধ রাখলেও, ইসরায়েল লেবাননের ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী বেইরুট, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক আস্তানায় বিশাল এক সমন্বিত হামলা চালিয়েছে। শক্তিশালী বিস্ফোরণে পুরো বেইরুট কেঁপে ওঠে এবং শহরজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং ৮০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইরানের সাথে ছয় সপ্তাহের যুদ্ধ বন্ধের যে চুক্তি হয়েছে, তা লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে যে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

(Feed Source: zeenews.com)