Bangladesh Spiritual Leader Death: ভর দুপুরে গোটা আস্তানা ঘিরে ফেলল অস্ত্রধারীরা, মগ্ন সাধককে বের করে পিটিয়ে মারল জনতা

Bangladesh Spiritual Leader Death: ভর দুপুরে গোটা আস্তানা ঘিরে ফেলল অস্ত্রধারীরা, মগ্ন সাধককে বের করে পিটিয়ে মারল জনতা

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভোটের পর বাংলাদেশে ফিরল গণপিটুনির স্মৃতি? এবার কুষ্টিয়ায় এক সুফি সাধককে তার আস্তানায় গিয়ে পিটিয়ে মারল জনতা। তার দরগা ভাঙচুর করে আগুন দিয়ে ক্ষুব্ধ জনতা। এলাকায় পীর বলে পরিচিত ওই ব্য়ক্তির নাম শামিম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর(৫৫)।

কেন এমন হামলা?

জানা যাচ্ছে শামিম রেজা ছিলেন সুফি ধরনায় বিশ্বাসী। ফলে কেবল নামাজ রোজার উপরেই কথা না বলে বলতেন অন্য ধারার কিছু কথা। তাতেই মানুষের রাগ তাঁর উপরে বাড়থিল। এদিকে তাঁর একটি পুরনো ভিডিয়ো সম্প্রতি ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতেই আগুনে ঘি পড়ে। শনিবার দুপুরে কয়েকশো মানুষ কুষ্টিয়ায় তাঁর আস্তানায় গিয়ে ভাঙচুর করে। শামিমকে আস্তানা থেকে বের করে এনে বেধড়ক মারধর। করে সেই হামলাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।

অভিযোগ, শামিম নিজেকে কখনও আল্লাহ, কখনও নবি বা ভগবান দাবি করতেন। ইসলামের মৌলিক ইবাদত নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন। এমনকি অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি দরবারে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী রীতিনীতি উপেক্ষা করে তাঁর দেখানো পথে চলতে বলতেন। পাশাপাশি পবিত্র কুরআন সম্পর্কেও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার দিন সকালে তার কর্মকাণ্ড ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালায়। এ সময় তাকে বেধড়ক মারধর করা হলে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দৌলতপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কে এই শামিম রেজা

স্থানীয়দের বক্তব্য, নিহত শামীম রেজা ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা। ঢাকা থেকে এমএ পাস করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করতেন। পরে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় মতবাদ প্রচার করতে থাকেন। এতে তার কিছু অনুসারী বা ভক্ত তৈরি হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে শামীম রেজার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছিল। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, আগেই ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে এরকম তাণ্ডব হয়েছে বাংলাদেশে। ২০২৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরাল পাগলা নামে এক কথিত পীরের দাফন করা লাশ কবর থেকে তুলে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে ফেলেন বিক্ষুব্ধ লোকজন। তার কিছুদিন পর গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক শ্রমিককে কারখানা থেকে বাইরে এনে পিটিয়ে হত্যার পর বিবস্ত্র করে গাছে ঝুলিয়ে তার লাশে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজবাড়ী বা ময়মনসিংহের ওই ঘটনাসহ মব সৃষ্টি করে কথিত পীর, বাউল-ফকিরদের ওপর হামলা, জোর করে চুল কেটে দেওয়া বা খুন-জখমের মতো বেশ কিছু ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ এই কুষ্টিয়া।

(Feed Source: zeenews.com)