মা বলে ডেকেছিলেন আশা ভোঁসলেকে, ‘আই’-কে হারিয়ে শোকস্তব্ধ সচিন তেন্ডুলকর

মা বলে ডেকেছিলেন আশা ভোঁসলেকে, ‘আই’-কে হারিয়ে শোকস্তব্ধ সচিন তেন্ডুলকর
  • সঙ্গীত শিল্পী আশা ভোঁসলে ও ক্রিকেটার শচিন তেন্ডুলকরের মধ্যে এক মাতৃ-পুত্রীয় সম্পর্ক ছিল।
  • শচীন আশা ভোঁসলেকে ‘আই’ (মা) বলে সম্বোধন করতেন, যা তাঁদের সম্পর্ককে আরও গভীর করে।
  • আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শচীন তেন্ডুলকর শোকপ্রকাশ করে বলেন, তিনি ‘মাতৃহারা’ হয়েছেন।
  • শচীন মনে করেন, আশার গান ও স্মৃতি চির অমর হয়ে থাকবে।

কলকাতা: একজনকে বলা হয়, সঙ্গীতের জগতের ঈশ্বর। আর একজনকে বলা হয়, ক্রিকেটের ঈশ্বর। দুটি বিষয়ের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে কোনও যোগ নেই, থাকার কথাও নয়। কিন্তু খুব অদ্ভুতভাবে, একটা অদ্ভুত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এই ২ জগতের মধ্যে। আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle) আর সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)। একে অপরের পরিবারের প্রায় অংশ হয়ে উঠেছিলেন মুম্বইয়ের এই ২ তারকা। সচিন আশা ভোঁসলেকে ডাকতেন, ‘আই’ বলে। আশার প্রয়াণে যেন মাতৃহারা বলেন, ক্রিকেটের কিংবদন্তি।

মা আর ছেলের সম্পর্কে সচিনকে বেঁধেছিলেন আশা

সচিনের নামকরণের পিছনেও রয়েছে একটা ইতিহাস। সুরকার শচীন দেব বর্মনের নাম অনুসারে, সচিনের নামকরণ করা হয়েছিল। শচীন দেব বর্মনের পুত্রবধূ ছিলেন আশা। সেখান থেকেই যেন তৈরি হয়েছিল পরবর্তীকালে এক মা ছেলের এক গল্প। বাবার বাড়ির পরিবারের মতোই, ক্রিকেটের অনুরাগী ছিলেন আশা। সেই সূত্রেই প্রথমে ২২ গজে, আর তারপরে ব্যক্তিগত ভাবে আলাপ সচিন আর আশা ভোঁসলের। সঙ্গীতশিল্পী নিজেই একবার বলেছিলেন, সচিন তাঁকে ‘আই’ বলে ডাকেন। মারাঠিতে ‘আই’ শব্দের অর্থ মা। এই শ্রদ্ধা পেয়ে আপ্লুত হয়েছিল আশা। আজ সেই, ‘আই’ -কেই হারালেন সচিন। 

‘মাতৃহারা’ সচিনের বিলাপ

সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ সচিন একটি লম্বা পোস্ট করে লিখেছেন, ‘গোটা ভারতের জন্য, সমস্ত পৃথিবীর সঙ্গীত-প্রেমীদের জন্য আজ একটা ভীষণ কষ্টের দিন। আমাদের কাছে, ‘আশা তাই’ একটা পরিবারের মতো ছিলেন। আমরা আজকে যে হারালাম, তার কাছে গোটা বিশ্ব ভীষণ ছোট। এক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, হৃদয় যেন থেমে গিয়েছে। আর তারপরেই মনে পড়ল একের পর এক সুর, একের পর এক গান যা উনি আমাদের জন্য রেখে গেলেন। মনে হচ্ছে, সময় যেন নিজে থেকেই থেমে গিয়েছে। আপনার গানগুলোর মতোই, আপনিও অমর হয়ে রয়ে যাবেন। তাই, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের জীবনকে উষ্ণতা, আনন্দ আর না ভোলার মতো সুর দিয়ে ভরিয়ে তোলার জন্য। আপনাকে কতটা মিস করছি.. সেটা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’

বিভিন্ন সময়ে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সচিনকে দেখা যেত, তাঁর ‘আশা তাই’-এর খেয়াল রাখতে। আশাও বারে বারে বলেছিলেন, সচিন তাঁর ছেলের মতো। তাঁর খেলা দেখতে ভীষণ ভালবাসেন আশা। তিনি চলে গেলেন, সচিনের জন্য রেখে গেলেন প্রচুর গান আর না ভোলার মতো কিছু স্মৃতি। শেষবার, সচিন পুত্রের ছেলের বিয়েতেই দেখা গিয়েছিল আশা ভোঁসলেকে।

(Feed Source: abplive.com)