জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় সংগীত জগতের অন্যতম আইকনিক জুটি আশা ভোঁসলে এবং আর.ডি. বর্মন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তাঁরা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক কালজয়ী গান। কিন্তু তাঁদের এই পেশাদার সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর এবং অমলিন প্রেমকাহিনী। ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আশা ভোঁসলে তাঁর ৯০তম জন্মদিনে পদার্পণ করার সময় আরও একবার চর্চায় উঠে এসেছিল তাঁদের সেই রূপকথার মতো সফর।
তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ ছিল বেশ নাটকীয়। এক সাক্ষাৎকারে আশা জানিয়েছিলেন, এক পাতলা, ফর্সা এবং মোটা ফ্রেমের চশমা পরা ছেলে তাঁর কাছে অটোগ্রাফ চাইতে এসেছিল। সেই ছেলেই ছিল রাহুল দেব বর্মন। সে সময় পঞ্চম কলকাতায় কলেজ ড্রপ-আউট। আশা তাঁকে পড়াশোনা শেষ করার পরামর্শ দিলে তিনি নাকি বেশ কয়েকদিন গাল ফুলিয়ে বসেছিলেন। কিন্তু সংগীতের টানে সেই বন্ধুত্ব গাঢ় হতে সময় লাগেনি।
আর.ডি. বর্মন কেবল আশার ব্যক্তিত্ব নয়, বরং তাঁর কণ্ঠের প্রেমে পাগল ছিলেন। মজার ছলে আশা একবার বলেছিলেন, “পঞ্চম সবসময় আমার সুরের প্রশংসা করত। সে আমার কণ্ঠের ওপর ফিদা ছিল। পিছনে পড়েই থাকত। শেষে আর কী করতাম? হ্যাঁ বলে দিলাম।” ১৯৮০ সালে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এটি ছিল দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে আশা গণপমরাও ভোঁসলে এবং পঞ্চম রিতা প্যাটেলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন।
পঞ্চমের প্রতিভা নিয়ে আশার মন্তব্য ছিল সোজাসাপ্টা— “ও পাগল ছিল।” হীরা বা দামি রত্নের চেয়ে পঞ্চমের কাছে গ্রামোফোন রেকর্ডের মূল্য ছিল অনেক বেশি। আশার মতে, পঞ্চম সময়ের থেকে অন্তত ৫০ বছর এগিয়ে সুর করতেন। আশির দশকের শেষের দিকে জীবনযাত্রার পার্থক্যের কারণে তাঁরা আলাদা থাকতে শুরু করলেও, একে অপরের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা আমৃত্যু অটুট ছিল। ১৯৯৪ সালে পঞ্চমের প্রয়াণের পরও তাঁর সুর আজও আশার কণ্ঠে জীবন্ত হয়ে রয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
