‘সে বুঝি শুয়ে আছে চৈত্রের হলুদ বিকেল, যেখানে চূর্ণ ফুল ঝরে তার আঁচলে…’ স্মৃতি, বিস্মৃতি, আসা-যাওয়ার মাঝে পয়লা বৈশাখ

‘সে বুঝি শুয়ে আছে চৈত্রের হলুদ বিকেল, যেখানে চূর্ণ ফুল ঝরে তার আঁচলে…’ স্মৃতি, বিস্মৃতি, আসা-যাওয়ার মাঝে পয়লা বৈশাখ

উঠোনে ছড়ানো মায়ের শাড়ির শুভ্র আঁচলের মতো স্নিগ্ধ। দোকানে দোকানে আম্রপল্লব আর গাঁদা ফুল। বাবার গায়ে ফতুয়া, মায়ের ছাপা শাড়ি, এ যেন নতুন বছরের গায়ে লেগে থাকা ছোঁয়াচে-সুখ।

স্মৃতি, বিস্মৃতি, আসা-যাওয়ার মাঝে পয়লা বৈশাখ

‘ক্রমে রোদ্দুরের তেজ পড়ে এলে চড়কতলা লোকারণ্য হয়ে উঠল। এদিকে চড়কতলায় টিনের ঘুরঘুরি, টিনের মুহুরি দেওয়া তল্‌তা বাঁশের বাঁশি, হলদে রং করা বাঁখারির চড়কগাছ, ছেঁড়া নেকড়ার তৈরি গুরিয়া পুতুল, শোলার নানা প্রকার খেলনা, পেল্লাদে পুতুল, চিত্তির করা হাঁড়ি বিক্রি করতে বসেচে। এক জন চড়কী পিঠে কাঁটা ফুঁড়ে নাচ্‌তে নাচ্‌তে এসে চড়কগাছের সঙ্গে কোলাকুলি কল্লে— মইয়ে করে তাকে উপরে তুলে পাক দেওয়া হতে লাগলো। সকলেই আকাশ পানে চড়কীর পিঠের দিকে চেয়ে রইলেন। চড়কী প্রাণপণে দড়ি ধরে কখনও ছেড়ে, পা নড়ে ঘুরতে লাগ্‌লো।’ (হুতোমপেঁচার নকশা, কালীপ্রসন্ন সিংহ)