জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে আন্দামান সাগরে ডুবে গেল যাত্রীবাহী নৌকো। এখনওপর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী কমপক্ষে ২৫০ জন নিখোঁজ। বোটটিতে কমপক্ষে ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। এরা বাংলাদেশ ও মায়ানমার থেকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্য যাত্রা করেছিলেন। মালয়েশিয়ার কোস্ট গার্ড মাত্র ৯ জনকে উদ্ধার করতে পেরেছে।
রাষ্ট্রসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে নৌকোটি বিপুল সংখ্যক যাত্রী নিয়ে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। অতিরিক্ত যাত্রী, প্রবল বাতাস এবং উত্তাল সমুদ্রের কারণে বোটটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। তবে নিখোঁজদের উদ্ধার প্রচেষ্টা এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্যভাবে শুরু হয়নি।
বেঁচে ফেরা ব্যক্তি তাদের সমুদ্রযাত্রার ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি মানব পাচার চক্র রয়েছে এই ঘটনার পেছনে। যার সঙ্গে তিনিও জড়িয়ে পড়েছিলেন। কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা রফিকুল ইসলাম জানান, ৪ এপ্রিল কাজের খোঁজে বাজারে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখান থেকে তাকে ধরে নিয়ে চার দিন আটকে রাখা হয় এবং ৭ এপ্রিল জোর করে একটি অযোগ্য নৌকায় তোলা হয়। ইসলাম বলেন, “যারা পালানোর চেষ্টা করত, তাদের নির্যাতন করা হতো।” তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় অনেক বাড়িই পাচারকারীদের দ্বারা আনা অভিবাসীদের জন্য অস্থায়ী কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
রফিকুল জানিয়েছেন, নৌকোয় প্রায় ১৫০ জন রোহিঙ্গা ও ১৩০ জন বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের মধ্যে ২১ জন মহিলা ও ৪ জন শিশু। ৪ এপ্রিল মেরিন ড্রাইভ এলাকা থেকে অনেককে একটি বড় মাছ ধরার নৌকায় তোলা হয়, যা পরে সেন্ট মার্টিনস দ্বীপের দিকে যাওয়ার কথা ছিল। ৮ এপ্রিলের মধ্যে নৌকাটি মিয়ানমারের জলসীমা ছেড়ে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের দিকে পৌঁছে যায়। আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে পাচারকারীরা যাত্রীদের নৌকার মূল অংশে থাকতে দিত না। বরং সবাইকে জোর করে নৌকার ছোট চারটি মাছ রাখার ঘরে ঢুকিয়ে রাখত। তিনি বলেন, “নৌকা ডোবার আগেই শুধু দমবন্ধ হয়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ২৫-৩০ জন মারা যেত। এছাড়া, যাত্রীরা যদি ওই ঘরগুলিতে থাকতে না চাইত তাহলে পাচারকারীরা নৌকাটি ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিত।
খারাপ আবহাওয়া ও প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় নৌকাটি উল্টে গেলে রফিকুল ইসলাম কোনোভাবে বেঁচে যান। তিনি একটি ২ লিটারের প্লাস্টিক পানির বোতল ধরে অনেকক্ষণ ভেসে ছিলেন, পরে ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ নামে একটি জাহাজ তাকে উদ্ধার করে। অন্য ২৫০ জনেরও বেশি যাত্রীর কী হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষয়টি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি খতিয়ে দেখছে।
(Feed Source: zeenews.com)
