
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আগেই জানা গিয়েছিল, ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন সিনলাকু (Super Typhoon Sinlaku)! ভয়ংকর শক্তিশালী টাইফুনটি (powerful typhoon) মধ্য-এপ্রিল নাগাদ ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে খবর। ২০১৮ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে আছড়ে পড়া ক্যাটাগরি ৫-এর (Category-5) সুপার টাইফুন ‘ইউটিউ’ (Super Typhoon Yutu)-র পরে এত ভয়ংকর ঝড় আসেনি। এই ‘সিনলাকু’ ক্রমশ এক বিভীষিকার জন্ম দিচ্ছে। সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন এটি।
২০২৬ সালের বিভীষিকা
সিনলাকুতে আক্রান্ত হতে চলেছে উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা দ্বীপ। বছরের প্রথম দিকেই ধেয়ে আসছে খুবই বিরল শক্তিশালী এই ঝড়। কয়েকদিন আগেই এসেছিল ঘূর্ণিঝড় ভায়ানু (Cyclone Vaianu)। নিউজিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ডে আঘাত হেনেছিল এই ঘূর্ণিটি। ২০১৮ সালের অক্টোবরের শেষের দিকে আছড়ে পড়েছিল ক্যাটাগরি ৫-এর সুপার টাইফুন ‘ইউটু’। এর পর এই ‘সিনলাকু’। ‘সিনলাকু’র গোত্রের ভয়ংকর ঝড় এর মধ্যে আসেনি। ২০২৬ সালের বিভীষিকা হতে চলেছে এটি।
দ্বিতীয় চক্ষু
দ্বীপগুলির যত কাছে এটি অগ্রসর হচ্ছিল, ‘সিনলাকু’র চারপাশে একটি দ্বিতীয় বহিরাগত আইওয়াল (eyewall) বা মেঘের প্রাচীর তৈরি হচ্ছিল; যার প্রভাবে দ্বীপগুলোতে প্রচণ্ড বাতাস এবং প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তীব্র গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা আমরা অন্তত একবার বা একাধিকবার ঘটতে দেখি।
এল নিনোর প্রভাব
এল নিনো পৃথিবীর পরিবেশ-প্রকৃতিতে ক্রমশ এক ভয়ংকর বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। পরোক্ষভাবে এর প্রভাব থেকেই যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় পরেও থাকবে। ঘূর্ণিঝড় বিলীন হওয়ার অনেক পরেও এই গ্রীষ্মে বিশ্ব জুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে এল নিনো।
উইন্ড বার্স্ট
একটি বায়ুপ্রবাহ বা উইন্ড বার্স্ট (wind burst) এই ঘূর্ণিঝড় গঠনে সহায়তা করেছিল। অতিরিক্ত পুবালি বায়ুপ্রবাহ এই ঝড় তৈরি করেছে। আর এল নিনো এই ঝড়ের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এই শক্তিশালী বাতাস হাওয়াই এবং নিউ গিনির মাঝে থাকা উষ্ণ জলরাশিকে দক্ষিণ আমেরিকার দিকে অর্থাৎ পূর্ব দিকে ঠেলে দেবে, যা বছরের শেষের দিকে এল নিনো সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।
সিনালাকু-সংবাদ
নাসার বিজ্ঞানীরা এই প্রচন্ড শক্তির টাইফুনটিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। সিনলাকুর মতো শক্তিশালী ঝড়গুলি কীভাবে সমুদ্রের উষ্ণতা থেকে কোনও ঝড় শক্তি সঞ্চয় করে, তা বুঝতে সাহায্য করে। আর ঝড়ের এইসব তথ্য ভবিষ্যতের ঘূর্ণিঝড়ের সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য আবহাওয়া মডেলকে আরও বেশি করে সাহায্য করবে।
সুপার টাইফুন সিনলাকু
মহাকাশ থেকে দেখা গিয়েছে সিনলাকুর বিধ্বংসী রূপ। ফিলিপিন্স সাগরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সুপার টাইফুন সিনলাকু যখন তার শক্তির শিখরে পৌঁছয়, তখন নাসার উপগ্রহ থেকে এর এই অসাধারণ ও ভয়াবহ চিত্রটি ধরা পড়ে। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়। সিনলাকু যখন সুপার টাইফুনের রূপ নেয়, তখন এর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৪০ কিলোমিটার (১৫০ মাইল)! নাসার মডারেট রেজলিউশন ইমেজিং স্পেকট্রোরেডিওমিটার (MODIS) দিয়ে তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে, টাইফুনটির ‘চোখ’ বা কেন্দ্র অত্যন্ত সুগঠিত এবং মেঘমুক্ত, যা এক ভয়ংকর শক্তিশালী ঝড়ের লক্ষণ। ঝড়টি কয়েকশো কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ছিল, যার চারপাশ ঘিরে ছিল ঘন মেঘের কুণ্ডলী এবং প্রবল বজ্রপাতপূর্ণ মেঘরাশি। সিনলাকু ফিলিপিন্স ও তাইওয়ানের উপকূলীয় অঞ্চলের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। যদিও এর মূল কেন্দ্রটি স্থলভাগের কিছুটা দূর দিয়ে অতিক্রম করেছিল। তাই সেই ভয়ংকর ক্ষতিটা ঘটেনি। তবুও এর প্রভাবে সৃষ্ট প্রবল বাতাসে সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠে। পরে টাইফুনটি চিনের পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ে। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে বন্যা, ভূমিধস হয়। মানুষ এবং সম্পত্তির ক্ষয় হয় বিপুল পরিমাণে। সব মিলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে হয়।
(Feed Source: zeenews.com)
