পাকিস্তানে গুলিবিদ্ধ লস্কর-ই-তৈবার আমির হামজা, নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে ঝাঁঝরা

পাকিস্তানে গুলিবিদ্ধ লস্কর-ই-তৈবার আমির হামজা, নিউজ চ্যানেলের অফিসের বাইরে ঝাঁঝরা
নয়াদিল্লি: পাকিস্তানে গুলিবিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা। অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। লাহৌরে একটি খবরের চ্যানেলের দফতরের বাইরে গুলিবিদ্ধ হয় হামজা। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা যাচ্ছে। আততায়ীদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। লাহৌরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে হামজাকে। (Amir Hamza Shot in Lahore)

হাফিজ সইদের সঙ্গে মিলে লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠা করে হামজা। একাধিক নাশকতায় নাম জড়িয়েছে তার। ভারতে জঙ্গি হামলাতেও তার সংযোগ পাওয়া যায়। হামজা ‘আফগান মুজাহিদিন’ নামেও পরিচিত। জ্বালাময়ী ভাষণ এবং আলোড়ন সৃষ্টিকারী লেখালেখির জন্য পরিচিতি তৈরি হয়। লস্করের মুখপাত্রের জন্যও লেখালেখি করেছে হামজা। একাধিক বইও লিখেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ২০০২ সালের ‘কাফিলা দাওয়াত অউর শাহদত’। (Pakistan News)

আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ লস্কর-ই-তৈবাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। হামজার উপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। লস্করের কেন্দ্রীয় কমিটিতে যে সাত সদস্য রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম ছিল হামজা। সংগঠনের হয়ে অর্থ সংগ্রহ থেকে জঙ্গি নিয়োগ, জেলবন্দি জঙ্গিদের মুক্তি নিয়ে দরাদরিতে যুক্ত ছিল সে। লস্করের পত্রিকা ‘মাজাল্লাহ্ আল-দাওয়াতে’রও সূচনা হামজার হাত ধরেই। 

২০১৮ সালে লস্করের ছত্রছায়ায় থাকা অলাভজনক সংস্থা জামাত-উদ-দাওয়া, ফালাহ্-ই-ইনসানিয়তের আর্থিক লেনদেনের উপর খাঁড়া নেমে এলে, সংগঠনের থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে নেয় হামজা। পরবর্তীতে নিজের সংস্থা জইশ-ই-মানকফার প্রতিষ্ঠা করে। ওই সংগঠন জম্মু ও কাশ্মীরে নাশকতামূলক কাজকর্মে মদত জোগায়। জম্মু ও কাশ্মীর একদিন না একদিন পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হবে বলে একাধিক জ্বালাময়ী ভাষণও দিতে শোনা যায় হামজাকে। পাকিস্তানে ওই সংগঠন দিব্যি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে অবাধ বিচরণ ছিল হামজারও। এমনকি লস্কর নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে চলছে সে। হামজা হাফিজ সইদ এবং আব্দুল রহমান মাক্কি, দু’জনেরই ঘনিষ্ঠ বলে শোনা যায়। 

আদতে পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালার বাসিন্দা হামজা ২০০০ সালের আশপাশে ভারতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুতে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে যে হামলা হয়, তাতে তার হাত ছিল। এর আগে, ২০২৫ সালেও হামজার উপর হামলা হয়। সেবার বাড়িতেই তার উপর হামলা হয় বলে জানা যায়। লস্করের আবু সইফুল্লার মৃত্যুর পর পরই ওই ঘটনা ঘটে। সইফুল্লাকেও গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীরা।

(Feed Source: abplive.com)