
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্ব লিভার দিবসে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করল কেয়ার হেলথ ইনসিয়োরেন্স (Care Health Insurance)। সংস্থার বিশ্লেষণ বলছে, গত মাত্র তিন বছরে লিভারের রোগে স্বাস্থ্য বিমার দাবির সংখ্যা প্রায় ১০০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। শুধু সংখ্যা নয়, বেড়েছে চিকিৎসার খরচও। আর সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়টি হল, এই রোগ এখন আর বয়স্ক বা বড় শহরের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
কারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন?
তথ্য বলছে, অল্পবয়সী ভারতীয়দের মধ্যে লিভারের রোগ বছরে ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। ছোট শহর অর্থাৎ দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরগুলো থেকে দাবির সংখ্যা বাড়ছে বছরে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। মহিলাদের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যদিও লিভারের রোগ এখনো পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, মহিলা রোগীর সংখ্যা প্রতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ করে বাড়ছে।
লিভারের অসুখ এখন ‘নীরব মহামারী’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ (NAFLD) ইতিমধ্যে ভারতের জনসংখ্যার ৯ থেকে ৩২ শতাংশকে প্রভাবিত করছে। সহজ কথায়, প্রতি তিনজনে একজন এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা একে ‘নীরব মহামারী’ বলছেন, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণই থাকে না।
ভয় ধরানো আরেকটি তথ্য হল, লিভার সংক্রান্ত অসুস্থতার কারণে মৃত্যুর হার ইতিমধ্যে মোট মৃত্যুর ৬৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
শিশুরাও বাদ নেই
ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি অবজারভেটরি (World Obesity Observatory)-র তথ্য আরও উদ্বেগজনক। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১৯ লক্ষ ভারতীয় শিশু লিভারের রোগে আক্রান্ত হতে পারে। স্থূলতা এবং বিপাকজনিত সমস্যা এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
চিকিৎসার খরচ কোথায় যাচ্ছে?
তিন বছর আগের তুলনায় লিভারের চিকিৎসার খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। কেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্সের বিশ্লেষণ বলছে, ন্যূনতম ১৫ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বীমা এখন লিভারের রোগের চিকিৎসার জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে। চিকিৎসা পদ্ধতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে, এবং সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হাসপাতালের বিল।
কেয়ার হেলথ ইন্স্যুরেন্সের চিফ অপারেটিং অফিসার মনীশ দোদেজা বলেছেন, লিভারের রোগ এখন আর সংকীর্ণ কোনো গোষ্ঠীর সমস্যা নয়। আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, অল্পবয়সীরা প্রভাবিত হচ্ছেন এবং পরিবারের উপর আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। তিনি জানিয়েছেন, সচেতনতা, প্রাথমিক রোগ নির্ণয় এবং আর্থিক প্রস্তুতি যদি একসঙ্গে না এগোয়, তাহলে ঝুঁকি এবং প্রস্তুতির মধ্যে ব্যবধান বাড়তেই থাকবে।
কী করবেন?
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, অপেক্ষা না করে এখনই নিয়মিত লিভার পরীক্ষা করান। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শরীরচর্চা অভ্যাস করুন। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিস, স্থূলতা বা অ্যালকোহল সেবনের ইতিহাস আছে, তাঁদের আরও সতর্ক থাকা দরকার। পাশাপাশি বর্তমান স্বাস্থ্য বীমার পরিমাণ পর্যালোচনা করুন এবং প্রয়োজনে কভার বাড়ান।
লিভারের রোগ নীরবে আসে। কিন্তু ক্ষতিটা করে সশব্দে।
দ্রষ্টব্য:এই প্রতিবেদনটি তথ্যভিত্তিক এবং সচেতনতামূলক। এটি কোনও চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। যেকোনো শারীরিক সমস্যায় অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
(Feed Source: zeenews.com)
