ইউরোপের জ্বালানি সঙ্কট কি ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর দরজা খুলছে? আর সেই পথ কি ভারতের দফতর সংস্কৃতিতেও ঢুকে পড়তে পারে—এই প্রশ্ন এখন ক্রমশ জোরাল হচ্ছে।
জ্বালানি সঙ্কটে ধুঁকছে বিশ্ব, ফের কি ফিরছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’? ভারতের অফিস কালচারেও কি আসছে বড় বদল?
কোভিড পরবর্তী সময়ে অফিসে ফেরার প্রবণতা বাড়লেও, নতুন করে জ্বালানি সঙ্কট নীতিনির্ধারকদের ভাবাচ্ছে। ইউরোপে এখন শুধু জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো নয়, বরং মানুষের কাজের ধরন ও দৈনন্দিন যাতায়াত বদলে জ্বালানির ব্যবহার কমানোর দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় কমিশন নাগরিকদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ করার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
দিল্লির বাসিন্দা নীলম অরোরার মতো লক্ষ লক্ষ কর্মজীবী মানুষের অভিজ্ঞতাই এই বাস্তবতাকে সামনে আনছে। প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে অফিস যাওয়া, বাড়তে থাকা জ্বালানির খরচ, সময় ও ক্লান্তি—সব মিলিয়ে কাজের ধরন এখন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বৃহত্তর অর্থনীতির উপরও প্রভাব ফেলছে। তাঁর কথায়, জ্বালানির দাম বাড়া মানে শুধু যাতায়াত নয়, সংসারের খরচও বেড়ে যাওয়া—যার চাপ সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর।
বিশ্বব্যাপী সরবরাহে টানাপোড়েন এবং পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথে কোনও বিঘ্ন ঘটলেই তার প্রভাব পড়ে ইউরোপ, এশিয়া-সহ বহু অঞ্চলে। এর জেরে তেলের দাম বাড়ছে, সরবরাহ শৃঙ্খল চাপে পড়ছে, এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলি বিপাকে পড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপে নীতির বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। শুধু বেশি জ্বালানি জোগাড় নয়, বরং ব্যবহার কমানো—এই ভাবনাই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে। ইউরোপীয় কমিশনের জ্বালানি প্রধান ড্যান জর্গেনসেন সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কাজের ধরন ও যাতায়াতের অভ্যাস বদল জরুরি।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার কর্তা ফাতিহ বিরোলও একই সুরে বলেছেন, বিশ্ব এখন জ্বালানি নিরাপত্তার বড় সংকটের মুখে। তাঁর মতে, সরকার, সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ—সবাইকে জ্বালানি ব্যবহারে সংযমী হতে হবে। এর জন্য একাধিক পদক্ষেপের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—যেমন গণপরিবহণ ব্যবহারে উৎসাহ, ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা, কার শেয়ারিং বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় বিমানযাত্রা এড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো।
এই প্রেক্ষাপটে বড় প্রশ্ন—ভারত কি একই পথে হাঁটবে? বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ভারতের মতো দেশে যেখানে শহুরে যাতায়াত জ্বালানি খরচের বড় অংশ, সেখানে আংশিক বা হাইব্রিড ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নীতি জ্বালানি সাশ্রয়ের কার্যকর উপায় হতে পারে। যদিও কর্পোরেট সংস্থাগুলির নীতি, কাজের ধরন এবং অবকাঠামোর উপর এই সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি সঙ্কট এখন শুধু অর্থনীতি বা কূটনীতির বিষয় নয়—এটি ধীরে ধীরে কর্মসংস্কৃতিরও অংশ হয়ে উঠছে। কাজের ধরন বদলেই হয়তো আগামী দিনের জ্বালানি নীতির নতুন রূপরেখা তৈরি হবে।
WFH: জ্বালানি সঙ্কটে ধুঁকছে বিশ্ব, ফের কি ফিরছে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’? ভারতের অফিস কালচারেও কি আসছে বড় বদল?
(Feed Source: news18.com)