সীতাপুর জেলার এই ছাত্রী প্রমাণ করলেন, তিনি অতীতে সম্মুখীন হওয়া কোনো সমালোচনার তোয়াক্কা না করে শুধু পড়াশোনাতেই মনোনিবেশ করেছেন।
সব ‘ট্রোল’কে জবাব দিয়ে দশমের পর দ্বাদশেও তিনিই টপার
লখনউ: ফের সাফল্য। উত্তর প্রদেশের প্রাচী নিগম। দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। আবারও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় ৯১.২০% নম্বর পেয়ে অসাধারণ পারদর্শিতার পরিচয় দিলেন তিনি। প্রমাণ করলেন নিজের যোগ্যতা।
দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় প্রাচী বেশ কয়েকটি বিষয়ে অসাধারণ ফল করেছেন তিনি। অঙ্কে ৯৯%, হিন্দিতে ৯৬%, রসায়নে ৯৫% এবং পদার্থবিজ্ঞানে ৯৩% নম্বর পেয়েছেন। ইংরেজিতে ৭৩ পেয়েছেন। লাইভ হিন্দুস্তানের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রাচী জানিয়েছেন যে তিনি JEE-এর মতো ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ফলে সেই কারণ ইংরেজিতে তাঁর ফল খারাপ হলেও হতে পারে। তাঁর লক্ষ্য সবসময়ই দেশের সেরা আইআইটিগুলোর কোনও একটিতে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া।
২০২৪ সালে প্রাচী দশম শ্রেণির ইউপি বোর্ড পরীক্ষায় ৬০০-এর মধ্যে অসাধারণ ৫৯১ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। সে সময়ই প্রচারের আলো গিয়ে পড়ে প্রাচী নিগম নামে এক ছাত্রীর উপরে। দশম শ্রেণির পরীক্ষায় তিনি ৯৮.৫০ শতাংশ নম্বর নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেন। ৬০০-র মধ্যে তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৫৯১। তবে এত ভাল ফল করা সত্ত্বেও প্রশ্ন উঠেছিল প্রাচীর লুক নিয়ে। আসলে এই কিশোরীর মুখে লোমের আধিক্যই রয়েছে চর্চার কেন্দ্রে। আর এর সঙ্গে সঙ্গে সমাজের একটা খারাপ দিকও প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেকেরই প্রশ্ন যে, “মহিলারা যতই এগিয়ে যান না কেন, তাঁদের সৌন্দর্য বা তাঁরা দেখতে কেমন, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। কিন্তু এই প্রশ্ন কবে বন্ধ হবে?” কেউ কেউ আবার বলছেন, “তথাকথিত সৌন্দর্য না থাকলে কি কারও গুণের কদর করা হবে না?”
আসলে প্রাচী নামের এই ছাত্রীর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। আর দুর্ভাগ্যজনক বিষয়টি হল, কিশোরীর সাফল্য উদযাপন না করে মানুষ তাকে কেমন দেখতে সেটা নিয়ে পড়েছে। ছাত্রীর লুকস নিয়ে হাসি-ঠাট্টা কিংবা ট্রোল করতে শুরু করেছে কিছু মানুষ। যা সমাজের দাঁত-নখ যেন আরও প্রকট করেছে।
(Feed Source: news18.com)