Panchayat Actor Vinod Suryavanshi: আমার গ্রামে এখনও আমাকে মন্দিরে ঢুকতে দেয় না, কারণ আমি দলিত: বিস্ফোরক অভিযোগ ‘পঞ্চায়েত’ অভিনেতার

Panchayat Actor Vinod Suryavanshi: আমার গ্রামে এখনও আমাকে মন্দিরে ঢুকতে দেয় না, কারণ আমি দলিত: বিস্ফোরক অভিযোগ ‘পঞ্চায়েত’ অভিনেতার

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রুপোলি পর্দার চাকচিক্য যে কতটা মরীচিকা হতে পারে, তার প্রমাণ দিলেন অভিনেতা বিনোদ সূর্যবংশী। ‘পঞ্চায়েত’, ‘থাম্মা’ কিংবা ‘জলি এলএলবি ৩’-এর মতো জনপ্রিয় কাজ যাঁর ঝুলিতে, সেই মানুষটিকেই আজও লড়তে হচ্ছে শৈশবের ভয়াবহ জাতিবিদ্বেষের স্মৃতি আর দারিদ্র্যের দগদগে ক্ষতের সঙ্গে। সম্প্রতি এক পডকাস্টে বিনোদ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালেও তাঁর গ্রামে দলিতদের জন্য নিয়ম কতটা মধ্যযুগীয়।

কর্ণাটকের এক প্রত্যন্ত গ্রামের ছেলে বিনোদ। সেখানে আজও উচ্চবর্ণ এবং নিম্নবর্ণের মানুষের জন্য আলাদা পাড়া নির্দিষ্ট করা আছে। বিনোদ জানান, “আমার গ্রামে আজও জাতিভেদ প্রবল। দলিতদের থাকার জায়গা গ্রামের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা।” শৈশবের এক হাড়হিম করা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি বলেন, “একবার বাবার সঙ্গে এক হোটেলে খেতে গিয়েছিলাম। সেখানে খাওয়ার পর আমাদের নিজেদের থালা নিজেদেরই ধুতে হয়েছিল, আবার খাবারের দামও পুরো দিতে হয়েছিল। আজও আমাদের গ্রামের মন্দিরে ঢোকার অনুমতি নেই আমাদের।”

সাধারণ মানুষের কাছে দীপাবলি বা অন্য কোনো উৎসব আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও, বিনোদের পরিবারের কাছে তা ছিল যন্ত্রণার। অভিনেতা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “সবাই যখন উৎসবের আনন্দে মাতত, আমরা তখন কাঁদতাম। কারণ আমাদের উৎসব পালন করার মতো সামর্থ্য ছিল না। ভাবতাম কেন এই দীপাবলি আসে? কেউ দয়া করে কিছু দিলে তবেই আমাদের বাড়িতে উনুন জ্বলত।”

সাফল্য পাওয়ার আগে দীর্ঘ সংগ্রাম করেছেন বিনোদ। মুম্বইয়ে টিকে থাকতে সিকিউরিটি গার্ড বা দারোয়ানের কাজও করেছেন তিনি। টানা দাঁড়িয়ে ডিউটি করতে গিয়ে পায়ে ফোস্কা পড়ে যেত তাঁর। বিনোদ আক্ষেপের সুরে বলেন, “সমাজ মানুষকে তার কাজ দিয়ে বিচার করে। কাজ যত বড়, সম্মান তত বেশি—এটাই আমাদের সমাজের নগ্ন সত্য।”

‘পরি’ বা ‘সত্যমেব জয়তে’-র মতো ছবিতে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় শুরু করলেও, অ্যামাজন প্রাইমের জনপ্রিয় সিরিজ ‘পঞ্চায়েত’-এর মাধ্যমেই তিনি পরিচিতি পান। এরপর নেটফ্লিক্সের ‘ইয়ে কালি কালি আঁখে’ এবং বড় পর্দায় ‘জলি এলএলবি ৩’-তে নিজের জাত চিনিয়েছেন বিনোদ। কিন্তু তাঁর লড়াইটা শুধু ক্যামেরার সামনে নয়, বরং সেই আদিম কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যা আজও তাঁকে নিজের গ্রামে ‘অস্পৃশ্য’ করে রাখে।

(Feed Source: zeenews.com)