জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চেন্নাইয়ে চাঞ্চল্য! আর্লি মর্নিং ফ্লাইট, সবে মাত্র ল্যান্ডি করেছে বিমানটি। রানওয়েতে ধীরে গতিতে এগোচ্ছে, আচমকাই বিমানের দরজা খুলে নীচে ঝাঁপ যুবকের। এই কাণ্ড দেখে বাকি যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিমানটি আরাবিয়ার ফ্লাইট, রবিবার ভোরে শারজা থেকে চেন্নাই এসে পৌঁছায়।
চেন্নাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি রানওয়েতে নামার পর যখন পার্কিং এলাকার দিকে যাচ্ছিল, তখন তার গতি ছিল বেশ কম। সেই সময় আচমকাই ওই যাত্রী ইর্মাজেন্সি পথ খুলে দেন এবং নীচে লাফ দেন। বিমানটি তখনও পুরোপুরি থামেনি। মাঝ আকাশে এমনটা ঘটলে বড় বিপদ হতে পারত, তবে মাটি ছোঁয়ার পর এই ঘটনা ঘটায় বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই যাত্রী পুরো যাত্রাপথের সময় খুব অসুস্থ বোধ করছিলেন। তিনি বিমানে দুবার বমিও করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অসুস্থতার কারণে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বা অস্থির হয়ে তিনি এমন কাজ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই ব্যক্তি তামিলনাড়ুর পুদুকোট্টাই জেলার বাসিন্দা।
ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানের পাইলট নিরাপত্তা কর্মীদের খবর দেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় থাকা সিআইএসএফ (CISF) কর্মীরা দ্রুত গিয়ে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। পরে তাঁকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই ঘটনার জেরে নিরাপত্তার খাতিরে বিমানবন্দরের মূল রানওয়েটি প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই সময় অন্য বিমানগুলোকে বিকল্প রানওয়ে দিয়ে ওঠানামা করানো হয়। তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় ওই যাত্রী প্রাণ হারাননি এবং বিমানেরও কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে বিমান চলাচলের নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘন করার অপরাধে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। বর্তমানে বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংস্থা জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা তারা কমিয়ে দেবে। অর্থাত্ বিদেশ পাড়ি দেওয়ার জন্য তারা আর বেশি বিমান আকাশে নামাবেন না। মূলত জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম এবং বিশ্ব ভূ-রাজনীতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত। অভ্যন্তরীণ এক বার্তায় সংস্থার সিইও ক্যাম্পবেল উইলসন জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত এই কড়াকড়ি জারি থাকবে।
তবে সংকটটি কেবল এয়ার ইন্ডিয়ার একার নয়। ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (FIA), এয়ার ইন্ডিয়া ছাড়াও ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেটের মতো বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে যুক্ত। সরকারের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তারা। বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে যে, বিমান পরিষেবা বর্তমানে ‘চরম চাপের’ (Extreme Stress) মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও দেশের বিমান পরিষেবায় সরকারি কিছু পদক্ষেপে ক্ষতির মাত্রা কিছুটা কম, কিন্তু আন্তর্জাতিক রুটে বিমান সংস্থাগুলো সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
