
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির উত্থানকে ‘নতুন দিগন্ত’ হিসেবেই দেখছে বাংলাদেশ। বুধবার (৬ মে, ২০২৬) বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপি-র পক্ষ থেকে বিজেপি-কে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বিএনপি-র তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের এই ক্ষমতার পরিবর্তন ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
তিস্তা চুক্তির বাধা কি কাটল?
বিএনপি-র অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়নের পথে প্রধান অন্তরায় ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় এই চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে মমতার আপত্তিতে তা ভেস্তে যায়।
আজিজুল বারী হেলাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা দেখেছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই ছিলেন তিস্তা ব্যারাজ চুক্তির প্রধান বাধা। এখন যেহেতু শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে, তাই আমাদের বিশ্বাস এই জট এবার কাটবে।’
‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা
ঢাকা মনে করছে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার (নরেন্দ্র মোদী সরকার) এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার– উভয় ক্ষেত্রেই বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় এখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে। আগে কেন্দ্রীয় সরকার চুক্তি করতে চাইলেও রাজ্য সরকারের বিরোধিতার কারণে তা সম্ভব হত না।
এখন কলকাতা ও দিল্লির মধ্যে নীতিগত মিল থাকায় তিস্তা চুক্তির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদী বিএনপি ও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন রসায়ন
আজিজুল বারী হেলাল আরও জানান যে, আদর্শগতভাবে বিএনপি ও বিজেপি আলাদা হলেও জাতীয় স্বার্থে দুই দেশ একে অপরের পরিপূরক। তিনি বলেন, ‘বিজেপির এই জয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সাহায্য করবে। তিস্তা চুক্তির মতো বিষয়গুলোতে আমরা এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারব।’
বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকও বর্তমান পরিস্থিতিতে এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানের জন্য দিল্লির কাছে ইতিবাচক সঙ্কেত পাঠিয়েছে।
তিস্তা চুক্তির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৮৩ সালের চুক্তি: একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে ৩৬% জল বাংলাদেশের এবং ৩৯% ভারতের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। বাকি ২৫% অনির্ধারিত ছিল।
২০১১ সালের প্রস্তাব: মনমোহন সিংয়ের আমলে প্রস্তাব ছিল বাংলাদেশ ৩৭.৫% এবং ভারত ৪২.৫% জল পাবে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, এতে উত্তরবঙ্গের কৃষকদের স্বার্থ বিঘ্নিত হবে।
২০২৪-২৬ পরিস্থিতি: তিস্তা ছাড়াও গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তির (১৯৯৬) মেয়াদ এ বছর শেষ হতে চলেছে। ফলে এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কী কী চ্যালেঞ্জ হতে পারে?
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠন করতে চললেও, কিছু বিষয়ে ঢাকা এখনও সতর্ক। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’ এবং ‘পুশ-ব্যাক’ নিয়ে বিজেপির যে কড়া অবস্থান ছিল, তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে বিএনপি-র মতে, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার কোনও বিকল্প নেই।
পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বিজেপির বসা বাংলাদেশের জন্য শুধু রাজনৈতিক খবর নয়, বিরাট বড় সুযোগও। যদি সত্যিই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন সরকার এবং দিল্লির মোদী সরকার মিলে তিস্তা চুক্তির সমাধান করতে পারে, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের মানুষ এখন ৯ মে-র শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিকে তাকিয়ে আছে, সেখানে তিস্তার জলবণ্টনের নতুন কোনও রূপরেখা তৈরি হবে।
এই মুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার অবসান এবং বিজেপি-র ‘ডাবল ইঞ্জিন’ শাসনের হাত ধরে তিস্তা চুক্তির দীর্ঘস্থায়ী জট কাটার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
(Feed Source: zeenews.com)
