আটলান্টিক মহাসাগরে হান্টাভাইরাসের প্রকোপ, প্রমোদতরীতে মৃত্যু ৩ জনের, সংক্রমিত আরও

আটলান্টিক মহাসাগরে হান্টাভাইরাসের প্রকোপ, প্রমোদতরীতে মৃত্যু ৩ জনের, সংক্রমিত আরও

 

নয়াদিল্লি: আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে প্রমোদতরীতে হান্টা ভাইরাসের প্রকোপ। বেঘোরে মৃত্যু তিন যাত্রীর। অসুস্থ আরও অনেকে। ওই প্রমোদতরীতে প্রায় ১৫০ যাত্রী ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। আফ্রিকার পশ্চিমে দিক থেকে এই মুহূর্তে স্পেনের দিকে রওনা দিয়েছে জাহাজটি। (Hantavirus Hits Cruise Ship)

BBC জানিয়েছে, দুই যাত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের জাহাজ থেকে নামানো সম্ভব হয়েছে। চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছে নেদারল্যান্ডসে। আর এক যাত্রীকে উদ্ধার করা হয় বিমান পাঠিয়ে। তাঁকে উদ্ধার করতে দেরি হয় বেশ কিছুটা। প্রমোদতরীটি এই মুহূর্তে স্পেনের দিকে রওনা দিয়েছে বলে খবর। (Hantavirus News)

প্রমোদতরী পরিচালনা সংস্থা Oceanwide Expeditions জানিয়েছে, MV Hondius বর্তমানে স্পেনের কানারি আউল্যান্ডের দিকে রওনা দিয়েছে। আফ্রিকার পশ্চিমে কাবো ভার্দে দ্বীপপুঞ্জে তিন দিন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল সেটি। যে তিনজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে একজন ব্রিটেনের নাগরিক, দ্বিতীয়জন ডাচ এবং তৃতীয় জন জার্মান।

Oceanwide Expeditions জানিয়েছে, যে জার্মান নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি এক জর্মান মহিলার সঙ্গে ছিলেন জাহাজে, যিনি গত ২ মে মারা গিয়েছেন। এক মাস আগে আর্জেন্টিনা থেকে রওনা দেয় জাহাজটি। অসুস্থ যাত্রীরা চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। অন্য দিকে, প্রমোদতরী থেকে বাড়ি ফিরেছেন আমেরিকার তিন নাগরিক। তাঁদের উপর নজর রাখা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ওই জাহাজ থেকে একজন সুইৎজারল্য়ান্ডে ফিরেছেন। তিনিও হান্টাভাইরাস পজিটিভ। জুরিখের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তাঁর। এখনও জাহাজটিতে ২৩ দেশের মানুষজন রয়েছেন। WHO-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত। আক্রান্ত পাঁচ জন।

হান্টাভাইরাসের প্রকোপ কোথায়?

দক্ষিণ আফ্রিকা জানিয়েছে, হান্টাভাইরাসের আন্দিজ স্ট্রেইনের প্রকোপ লাতিন আমেরিকাতেই বেশি। সেখান থেকেই যাত্রা শুরু করে প্রমোদতরীটি। এর আগেও হান্টাভাইরাসের আন্দিজ স্ট্রেই থেকেই প্রকোপ দেখা দেয়। 

কী থেকে ছড়ায় হান্টাভাইরাস?

মূলত ইঁদুর, ছুঁচো থেকেই হান্টাভাইরাস ছড়ায়। তাদের মূত্র, শরীর থেকে নির্গত তরল, লালা বা থুতুর সংস্পর্শে এলেই সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে বাতাস থেকেই ছড়ায় সংক্রমণ। বিশেষ করে কোনও জায়গা পরিষ্কার করার সময় বাতাসে পার্টিকল মিশে যায়। শ্বাস-প্রশ্বাস চলাকালীন শরীরে ঢুকে যায় মানুষের। 

কতটা সংক্রমণপ্রবণ হান্টাভাইরাস?

আবার একজন সংক্রমিতের থেকে অন্যজনের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে। প্রমোদতরীতে তেমনটাই ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অঞ্চল বিশেষে রোগের আচরণ ভিন্ন ভিন্ন। কোথাও ফুসফুসে প্রভাব পড়ে, কোথাও আবার কিডনিতে, কোথাও আবার রক্তনালীতে। 

হান্টাভাইরাসের উপসর্গ

এক্ষেত্রে এক থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে উপসর্গদখা দেয়। জ্বর, পেশির যন্ত্রণা, পেটের সমস্যা হয়। সাধারণ সংক্রমণ বলে ভুল করেন অনেকেই। আমেরিকায় রোগীদের ফুসফুসে তরল জমা হতে দেখা গিয়েছে। ক্রমশ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রোগী। হান্টা ভাইরাসের দরুণ মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ। যদিও এশিয়া এবং ইউরোপে হান্টাভাইরাসের স্ট্রেনের জেরে মৃত্যুর হার ১ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে। 

চিকিৎসা কী?

হান্টাভাইরাসের কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। নেই কোনও টিকা। মূলত রোগীর বিশ্রামের উপর জোর দেন চিকিৎসকরা। অবস্থা গুরুতর হলে রাখা হয় ভেন্টিলেটরে, দিতে হয় অক্সিজেন।

(Feed Source: abplive.com)