হাত-পা বাঁধা, মুখের মধ্যে কাপড় গোঁজা, অবসরপ্রাপ্ত আই পি এস আধিকারিকের স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, হায়দরাবাদে হাড়হিম দৃশ্য

হাত-পা বাঁধা, মুখের মধ্যে কাপড় গোঁজা, অবসরপ্রাপ্ত আই পি এস আধিকারিকের স্ত্রীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, হায়দরাবাদে হাড়হিম দৃশ্য

সূত্রের খবর, মৃতার নাম তনুজা রঞ্জন (৬২), তিনি বিনয় রঞ্জন রায়ের স্ত্রী। তাঁকে বাড়ির প্রথম তলার শোবার ঘরে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায়। ১৯৮৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার বিনয় রঞ্জন রায় ২০১৯ সালে ডিজি, প্রিজনস পদ থেকে অবসর নেন। তিনি প্রায় এক সপ্তাহ আগে বেঙ্গালুরু গিয়েছিলেন। বাড়িতে ছিলেন তনুজা এবং তাঁদের দুই মেয়ে। বাড়িটির নিচতলা অন্য একটি পরিবারের কাছে ভাড়া দেওয়া ছিল।

পুলিশের সন্দেহ, এই খুনের ঘটনায় জড়িত পরিবারের এক গৃহকর্মী, যিনি নেপালের বাসিন্দা এবং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই বাড়িতে কাজ করছিলেন। অভিযোগ, খুনের পর তিনি মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে গিয়েছেন।

তদন্তকারীদের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে তনুজা নিজের ঘরে ঘুমোতে যান, আর তাঁর দুই মেয়ে দ্বিতীয় তলায় আলাদা ঘরে ছিলেন। শুক্রবার সকাল প্রায় ৯টা ১৫ মিনিট নাগাদ আরেক গৃহকর্মী বাড়িতে এসে বারবার কলিং বেল বাজান। তখন মেয়ে সুনন্দা নিচে নেমে দেখেন, গৃহকর্মী কল্পনা নিখোঁজ। পরে তিনি মায়ের ঘরে ঢুকে দেখেন, তনুজা মেঝেতে পড়ে আছেন। তাঁর মুখে রক্তমাখা কাপড় গোঁজা ছিল এবং হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ছিল।

তড়িঘড়ি তাঁকে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তে ঠোঁটে একাধিক আঘাতের চিহ্ন, কব্জিতে বাঁধনের দাগ এবং জিভের ডগায় কামড়ের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। পুলিশের অনুমান, শ্বাসরোধ করেই তাঁকে খুন করা হয়েছে।

শহরের পুলিশ কমিশনার ভি সি সাজ্জনার জানান, রাত প্রায় ২টো নাগাদ এই খুনের ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “দুষ্কৃতীরা তাঁর হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। চিৎকার করতে না পারেন, তাই মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়েছিল। আমরা সন্দেহ করছি, নেপালি একটি চক্র এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এটি স্পষ্টতই লুটপাটের উদ্দেশ্যে করা খুন।” সাজ্জনার আরও জানান, গৃহকর্মী কল্পনাকে প্রথমে ওই আইপিএস অফিসারের মায়ের দেখাশোনার জন্য রাখা হয়েছিল, পরে তিনি বাড়ির অন্যান্য কাজও করতেন।

পুলিশের সন্দেহ, আরও তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি এই ঘটনায় জড়িত। অভিযুক্তরা একটি ব্যাগ নিয়ে পালায়, যাতে চুরি হওয়া মূল্যবান সামগ্রী ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, তারা অটোরিকশায় করে জুবিলি হিলস থেকে নামপল্লি রেলস্টেশনে যায় এবং সেখান থেকে নাগপুরগামী তেলেঙ্গানা এক্সপ্রেসে ওঠে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তনুজা তাঁর মেয়েদের সঙ্গে ছিলেন। এরপর তাঁরা উপরে চলে যান। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দুই মেয়ে রাত প্রায় ৩টে পর্যন্ত জেগে ছিলেন, কিন্তু কোনও অস্বাভাবিক শব্দ শুনতে পাননি।

পরিবারের গাড়িচালক সুরেশ সংবাদমাধ্যমকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, রাত ১টা নাগাদ তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মূল গেট দিয়ে বাড়িতে ঢোকে এবং রাত ২টো থেকে আড়াইটার মধ্যে বেরিয়ে যায়।

(Feed Source: news18.com)