
Aspergillosis: বাতাসে থাকা ছত্রাকের স্পোর, বায়ুদূষণ, নির্মাণকাজের ধুলো, ঘরের ভ্যাপসা বা কম বাতাস চলাচল করা পরিবেশ, বারবার এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার এবং ধূমপান এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়
ফুসফুসের অসুখ বলতেই আমরা বুঝি, যক্ষ্মা, হাঁপানি, সিওপিডি এবং নিউমোনিয়া! তবে এখন ‘অ্যাসপারজিলোসিস’ নামে একটি নতুন ধরনের ফুসফুসের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। ছত্রাকের সংক্রমণে এই অসুখ হয়। মুম্বইয়ের হিরানন্দানি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট পালমোনোলজিস্ট ডঃ স্বপ্নীল মেহতা বলেন, “অ্যাসপারজিলোসিস হল ফুসফুসের একটি ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, যা ‘অ্যাসপারজিলাস’ নামে এক ধরনের ছত্রাক থেকে হয়। এই ছত্রাক পরিবেশে এমনিই থাকে। সমস্যা হল, রোগটি সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায় না।”
প্রতি বছর সরা বিশ্বে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ অ্যাসপারজিলোসিস সংক্রমণে আক্রান্ত হন। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বা দীর্ঘদিনের ফুসফুসের রোগ রয়েছে, তাঁদের ঝুঁকি বেশি।শহুরে জীবনযাপনও এই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিকিৎসক বলেন, “ভারতে যক্ষ্মা, সিওপিডি, হাঁপানি এবং ব্রঙ্কিয়েক্টাসিসের মতো রোগ খুব বেশি দেখা যায়। এই রোগগুলি ক্রনিক পালমোনারি অ্যাসপারজিলোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে। এছাড়াও শহরের জীবনযাত্রার ধরনও সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ায়। দ্রুত নগরায়ন, বায়ুদূষণ, বেশি আর্দ্রতা, এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার এবং ধুলোর সংস্পর্শে আসা— এসব কারণে বাতাসে থাকা ছত্রাকের স্পোর শরীরে ঢোকার ঝুঁকি বাড়ে।”
অ্যাসপারজিলোসিস সম্পর্কে মানুষ খুব কম জানেন। এই সংক্রমণে আক্রান্ত হলে কারও ক্ষেত্রে হালকা অ্যালার্জি হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে। চিকিৎসক মহাবীর মোদি বলেন, “ভারতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। তবুও অ্যাসপারজিলোসিসকে এখনও জনস্বাস্থ্যের বড় হুমকি হিসেবে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না।”সাধারণত যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের মধ্যে গুরুতর সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। তবে বেশি ছত্রাকের সংস্পর্শে এলে সুস্থ মানুষেরও এই রোগ হতে পারে।
শহরের কিছু পরিবেশ এই সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। যেমন— বাতাসে থাকা ছত্রাকের স্পোর, বায়ুদূষণ, নির্মাণকাজের ধুলো, ঘরের ভ্যাপসা বা কম বাতাস চলাচল করা পরিবেশ, বারবার এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার এবং ধূমপান। যাঁদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের সমস্যা আছে অথবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাঁদের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতিগুলি সংক্রমণ ও অসুস্থতার কারণ হতে পারে।
স্থ মানুষ প্রতিদিন অ্যাসপারজিলাসের স্পোর শ্বাসের সঙ্গে নিলেও অসুস্থ হন না। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সংক্রমণ হতে পারে। চিকিৎসক বলেন, “কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ছত্রাকের কারণে অ্যালার্জিক অ্যাসপারজিলোসিস হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের হাঁপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাঁদের ঝুঁকি বেশি। আবার যাঁদের ফুসফুসে স্কার বা গর্ত রয়েছে, তাঁদের মধ্যেও দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।”
ক্যানসার রোগী, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা রোগী, দীর্ঘদিন স্টেরয়েড খাওয়া মানুষ বা আইসিইউ-তে থাকা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অ্যাসপারজিলোসিসের ঝুঁকি বেশি।চিকিৎসক বলেন, “ অ্যালার্জিক অ্যাসপারজিলোসিসে স্টেরয়েড ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধ ব্যবহার করা হয়। মূলত অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ওষুধ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে ফুসফুসে ফাঙ্গাল বল তৈরি হলে অস্ত্রোপচার করতে হতে পারে।”
(Feed Source: news18.com)
