Narendra Modi: WFH-এ চালু, বিদেশ সফর ও সোনা কেনায় বন্ধের পরামর্শ: বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মোদির?

Narendra Modi: WFH-এ চালু, বিদেশ সফর ও সোনা কেনায় বন্ধের পরামর্শ: বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মোদির?

রবিবার তেলেঙ্গানায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং Strait of Hormuz ঘিরে অস্থিরতার ফলে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় নাগরিকদের “জাতীয় স্বার্থ আগে” নীতি মেনে চলতে হবে, এমনটাই জানান।

সাধারণ মানুষকে পেট্রোল এবং ডিজেলের ব্যবহার কমাতে, সম্ভব হলে গণপরিবহন ব্যবহার করার আহ্বান জানান। কোভিড-পর্বের মতো ভার্চুয়াল মিটিং ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম পদ্ধতি ফের চালু করার পরামর্শও দেন। পাশাপাশি, অন্তত এক বছরের জন্য বিদেশে ছুটি কাটানো, ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এবং অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এড়িয়ে চলার কথাও বলেন।

সরকারি মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান শুধু প্রতীকী নয়, বরং জ্বালানির বাড়তি আমদানি খরচ, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ এবং সম্ভাব্য মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কেন এখন WFH ও কম ভ্রমণের উপর জোর?

জ্বালানি সঙ্কটের সময়ে দ্রুত জ্বালানি ব্যবহার কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায় হিসেবে ওয়ার্ক ফ্রম হোমকে দেখা হচ্ছে। International Energy Agency-এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ৭০টিরও বেশি দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে দূরবর্তী কাজ ও ভ্রমণ কমানো উল্লেখযোগ্য।

থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ফিলিপিন্স ইতিমধ্যেই জ্বালানি চাহিদা কমাতে ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা অফিসে উপস্থিতি কমানোর নীতি ঘোষণা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শহরাঞ্চলে দৈনন্দিন তেলের বড় অংশই যাতায়াতে খরচ হয়। ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু থাকলে এই খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। পাশাপাশি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহার—যেমন এসি, আলো ও অন্যান্য যন্ত্রপাতির ব্যবহারও কমে যায়।

বড় অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত?

এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও বিধিনিষেধ জারি করেনি। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ভবিষ্যতে কঠোর অর্থনৈতিক সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সামলাতে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১,৬০০–১,৭০০ কোটি টাকা ব্যয় করছে। সামান্য জ্বালানি সাশ্রয়ও সরকারি ব্যয়ের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এছাড়া, বাড়তি আমদানি খরচ ও বিশ্ব ব্যাপী অনিশ্চয়তার কারণে গত ১০ সপ্তাহে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ থেকে বেরিয়ে গেছে বলেও জানা যাচ্ছে। সোনা আমদানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের একটি বড় অংশ হওয়ায়, সোনা কেনা স্থগিত রাখার আহ্বান অর্থনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, বিদেশ সফর কমানোও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

(Feed Source: news18.com)