
৩ মে হয়েছে মেডিক্যালের প্রবেশিকা পরীক্ষা৷ এই পরীক্ষার সঙ্গেই সম্ভাব্য প্রশ্নফাঁসের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাজস্থান পুলিশের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (SOG) তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, কেরলের এক এমবিবিএস ছাত্র ১ মে একটি প্রশ্নপত্রসদৃশ নথি সিকারের এক বন্ধুর কাছে পাঠায়। পরে সেই নথি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, কোচিং নেটওয়ার্ক, পিজি আবাসন এবং কেরিয়ার কাউন্সেলরদের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
SOG-এর তদন্ত অনুযায়ী, ওই নথিতে থাকা প্রায় ৩০০টি প্রশ্নের মধ্যে ১৪০ থেকে ১৫০টি প্রশ্ন হুবহু NEET পরীক্ষায় এসেছে। কিছু প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মোট ৭২০ নম্বরের মধ্যে প্রায় ৬০০ নম্বরের প্রশ্নের সঙ্গে ওই নথির মিল পাওয়া গিয়েছে। বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে কারণ তদন্তকারীরা দেখেছেন, বহু প্রশ্নের উত্তর বিকল্পগুলির ক্রমও আগেই ছড়িয়ে পড়া নথির সঙ্গে মিলে গিয়েছে।
যেহেতু প্রতিটি NEET প্রশ্নের মান ৪ নম্বর, তাই অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি র্যাঙ্কিং ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেরাদুন, সিকার ও ঝুনঝুনু থেকে ১৩ জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে SOG। এছাড়াও সিকারের এক কোচিং-সংযুক্ত ক্যারিয়ার কাউন্সেলরকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেই সূত্রের খবর৷
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এটি শুধুই অত্যন্ত নির্ভুল “গেস পেপার” ছিল, নাকি পরীক্ষার আগেই NEET প্রশ্নব্যাঙ্ক ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে এই প্রশ্নগুলি ছড়িয়ে পড়েছিল। উদ্ধার হওয়া কিছু চ্যাটে “forwarded many times” ট্যাগও দেখা গিয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে পরীক্ষার আগেই বহু ছাত্র ছাত্রীদের কাছে ওই প্রশ্ন পৌঁছে গিয়েছিল।
সিকারের এক পিজি আবাসন পরিচালকের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে। অভিযোগ, তিনি প্রথমে এই নথি ছড়িয়ে দেন, পরে আবার পুলিশ ও ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বছর দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রবেশিকা পরীক্ষা NEET UG-এ ২২ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এই পরীক্ষার মাধ্যমেই MBBS, BDS এবং অন্যান্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোর্সে ভর্তি হয়। পরীক্ষায় অনিয়ম রুখতে কর্তৃপক্ষ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল GPS-ট্র্যাকড যানবাহন, AI-ভিত্তিক ক্যামেরা, ৫জি জ্যামার এবং বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ।
এদিকে, রাজস্থান SOG-এর পদক্ষেপের পর NEET (UG) ২০২৬ পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে রবিবার বিবৃতি জারি করেছে NTA। এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে NTA জানিয়েছে, ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা “সম্পূর্ণ নিরাপত্তা প্রোটোকল” মেনেই দেশের সব কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছিল।
NTA-র দাবি, প্রশ্নপত্রগুলি GPS-ট্র্যাকড গাড়িতে বহন করা হয়েছিল এবং প্রতিটি প্রশ্নপত্রে ইউনিক ও ট্রেসযোগ্য ওয়াটারমার্ক ছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে AI-সহায়িত CCTV নজরদারি চালানো হয়েছিল। প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ করা হয় এবং ৫জি জ্যামারও সক্রিয় ছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, ৭ মে তারা পরীক্ষাকে ঘিরে সম্ভাব্য অনিয়ম সংক্রান্ত কিছু তথ্য পায়। NTA বলেছে, “এই তথ্যগুলি ৮ মে ২০২৬ সালের সকালে স্বাধীন যাচাই ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির কাছে পাঠানো হয়েছিল।”
(Feed Source: news18.com)
