‘অন্তত এক বছর সোনা কিনবেন না’, বার্তা নরেন্দ্র মোদির, ওয়র্ক ফ্রম হোম, জ্বালানি বাঁচানোয় জোর

‘অন্তত এক বছর সোনা কিনবেন না’, বার্তা নরেন্দ্র মোদির, ওয়র্ক ফ্রম হোম, জ্বালানি বাঁচানোয় জোর
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়েছে। তেলের বাজারে তার প্রভাব পড়েছে যেমন, বিঘ্ন ঘটেছে সরবরাহেও। সেই আবহেই ভারতের নাগরিকদের কাছে বিশেষ আর্জি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দেশের ভাঁড়ারে সঞ্চিত পেট্রোল, ডিজেল এবং বিদেশি মুদ্রার মজুত অক্ষুণ্ণ রাখতে পেট্রোল-ডিজেল নির্ভর গণ পরিবহণ এড়াতে বললেন নাগরিকদের। অপ্রয়োজনে বিদেশযাত্রা, এমনকি খুব প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনা থেকেও বিরত থাকতে আবেদন জানালেন। (Narendra Modi)

রবিবার হায়দরাবাদ থেকে ভারতীয়দের জ্বালানি সাশ্রয়ে আহ্বান জানালেন মোদি। বললেন, “সীমান্তে প্রাণ বিসর্জন দেওয়াই শুধুমাত্র দেশপ্রেম নয়। বর্তমান সময় দাঁড়িয়ে দায়িত্বশীল হওয়া, দৈনন্দিন জীবনে দেশের প্রতি কর্তব্যপালনও দেশপ্রেম। তাই বৈশ্বিক সঙ্কটের সময় কর্তব্যকে এগিয়ে রাখতে হবে। কিছু সঙ্কল্প নিতে হবে আমাদের, তার প্রতি সমর্পিক থাকতে হবে।” (Narendra Modi on Work From Home)

কোন কোন ক্ষেত্রে সংযম প্রয়োজন, তাও জানিয়ে দেন মোদি। বলেন, “সঙ্কল্প নিতে হবে, পেট্রোল-ডিজেল ব্যবহারে সংযমী হতে হবে। পেট্রোল-ডিজেলের ব্যবহার কমাতে হবে আমাদের। মেট্রো শহরগুলিতে বেশি মেট্রো ব্যবহার করতে হবে। বেশি করে মেট্রোয় যাতায়াত করুন। গাড়িতে যেতে হলে, কারপুলের চেষ্টা করুন। অন্যদের গাড়িতে বসান। কোথাও জিনিস পাঠাতে হলে চেষ্টা করতে হবে, রেল পরিষেবার মাধ্যমে পাঠাতে। বিদ্যুৎচালিত রেল পরিষেবায় তেল লাগে না। যাঁদের বিদ্যুৎচালিত গাড়ি রয়েছে, তা ব্যবহার করুন।”

এদিন বাড়ি থেকে কাজের পরামর্শও দেন মোদি। অতিমারি পরিস্থিতির উল্লেখ করে বলেন, “করোনার সময় আমরা ওয়র্ক ফ্রম হোম, অনলাইন মিটিং, ভিডিও কনফারেন্স করেছি। এমন অনেক উপায় বেরিয়েছিল। অভ্যাসও হয়ে গিয়েছিল আমাদের। আজ পরিস্থিতি এমন যে, ফের ওই উপায়ে ফিরলে তাতে দেশের মঙ্গল হবে। ওয়র্ক ফ্রম হোম, অনলাইন কনফারেন্স, ভার্চুয়াল মিটিংয়কে প্রাধান্য দিতে হবে। আজ যে সঙ্কট নেমে এসেছে, তাতে বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে জোর দিতে হবে আমাদের। পৃথিবীর সর্বত্র পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া। তাই পেট্রোল-ডিজেল কেনা কমিয়ে বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে হবে । ছোট ছেট চেষ্টাতেই দেশ উপকৃত হবে।”

মোদি আরও বলেন, “আজকাল বিদেশে বিয়ে করা, বিদেশে বেড়াতে যাওয়া, ছুটি কাটাতে যাওয়ার সংস্কৃতি বাড়ছে মধ্যবিত্তদের মধ্যে। আমাদের ঠিক করতে হবে, সঙ্কটকালে, দেশের খাতিরে অন্তত এক বছর বিদেশযাত্রা বন্ধ রাখা উচিত আমাদের। বিদেশি মুদ্রা বাঁচানোর সব উপায় দেখতে হবে। সোনা কেনার ক্ষেত্রেও বিদেশই মুদ্রা বেশি খরচ হয়। এককালে সঙ্কটের সময়, যুদ্ধের সময় দেশের স্বার্থে সোনা দান করতেন মানুষ। আজ দানের প্রয়োজন নেই। কিন্তু দেশের স্বার্থে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, অন্তত এক বছর, যে অনুষ্ঠানই হোক না কেন, সোনার গয়না কিনব না আমরা। সোনা কিনব না। বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে, আমাদের দেশপ্রেম চ্যালেঞ্জের মুখে। বিদেশি মুদ্রা বাঁচাতে হবে।”

(Feed Source: abplive.com)