IPL 2026 SHOCKING NEWS: একসঙ্গে ছাঁটাই ৩ ক্যাপ্টেন, আইপিএলের মাঝেই চাঞ্চল্যকর আপডেটে মহাঝড়, তালিকায় নাইট নেতা রাহানেও?

IPL 2026 SHOCKING NEWS: একসঙ্গে ছাঁটাই ৩ ক্যাপ্টেন, আইপিএলের মাঝেই চাঞ্চল্যকর আপডেটে মহাঝড়, তালিকায় নাইট নেতা রাহানেও?

IPL 2026 SHOCKING NEWS: একসঙ্গে ছাঁটাই হতে চলেছে ৩ ক্যাপ্টেন! আইপিএলের মাঝেই চাঞ্চল্যকর আপডেটে মহাঝড় উঠে গেলে। তালিকায় নাইট নেতা রাহানেও রয়েছেন?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চলতি আইপিএলের (IPL 2026) লিগ পর্ব শেষ হবে আর ৯ দিনেই। আর এর মাঝেই চাঞ্চল্যকর আপডেটে উঠল মহাঝড়। তিন অধিনায়ক এখনই চিহ্ণিত, যাঁরা চাকরি হারাচ্ছেন। রীতিমতো হতশ্রী পারফরম্যান্সের কারণেই তিন আইপিএল ক্যাপ্টেন বর্তমানে তীব্র সমালোচিত। আইপিএল ২০২৬ শেষ হলেই তাঁরা অধিনায়কত্ব হারাবেন বলে খবর। তালিকায় রয়েছন অক্ষর প্যাটেল (Axar Patel), অজিঙ্কা রাহানে (Ajinkya Rahane) এবং ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant)! টানা দুই মরসুমে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেও দলকে প্লে-অফে তুলতে তাঁরা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। সোজা কথায় কোনও পারফরম্যান্স নেই বলেই আর এই তিন ক্যাপ্টেনকে ফ্র্যাঞ্চাইজি আর রাখবে না বলেই এখন খবর। এখনও পর্যন্ত শুধুই লখনউ সুপার জায়ান্টস (LSG) আনুষ্ঠানিক ভাবে আইপিএল থেকে ছিটকে গিয়েছে। ফলে ব্যর্থতার দায়ভার সবচেয়ে বেশি বর্তেছে পন্থের উপর। তবে বলতে গেলে রাহানের নেতৃত্বে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) এবং অক্ষরের দল দিল্লি ক্যাপিটালসেরও (DC) আর নক-আউট পর্বে টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে

ঋষভ ও এলএসজি: পন্থের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। অধিনায়কত্ব তার জন্য নয়। তিনি বিভিন্ন পজিশনে ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু দেখে মনে হয়েছে যেন নিজের কাঁধে হাজার টনের বোঝা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ইকোসিস্টেমে তাৎক্ষণিক ফলাফলই স্বাভাবিক। সেখানে পরপর দুই মৌসুমে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া, এলএসজি-র মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার কাছে ভালো লাগার কথা নয়। গোয়েঙ্কা ২৭ কোটি টাকায় পন্থকে দলে নিয়েছেন। কিন্তু দেখতে গেলে সেই টাকা জলেই গিয়েছে পুরো। আধুনিক টি-টোয়েন্টির মানদণ্ডে ১৩৮ স্ট্রাইক-রেটে পন্থের ২৫১ রান কখনই বিবেচ্য নয়। পন্থ যে চাপের মধ্যে আছেন, তা এই পরিসংখ্যানেই প্রতিফলিত হচ্ছে। পন্থ ১১ ম্যাচে মাত্র ৯টি ছক্কা মেরেছেন। একসময় তাঁর সাবলীল মারকুটে ব্যাটিং ছিল বাইশ গজের চর্চায়। সেই পন্থের ফর্ম এখন ডুমুরের ফুল। দল গঠনের কিছু সিদ্ধান্ত, এমনকী এলএসজি-র কট্টর সমর্থকদেরও হতবাক করে দিয়েছে। আরশিন কুলকার্নি,সৈয়দ মুসতাক আলি ট্রফিতে ওপেনার হিসেবে প্রায় ১৩৪-এর কাছাকাছি স্টাইক রেটে ব্যাট করেছেন। তাঁকে কেন আইপিএলে ওপেন করতে পাঠানো হল? আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ওপেনার হিসেবে তাঁর ২৪ বলে ১৭ রান অবিশ্বাস্য! এই সিদ্ধান্ত কি পন্থ নিয়েছিলেন? নাকি কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং সাপোর্ট স্টাফদের মিলিত পরিকল্পনা? কুলকার্নির বাইরেও কিছু বলার রয়েছে। হিম্মত সিংয়ের বারবার সুযোগ পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন থাকছে। যিনি ঘরোয়া টি-টোয়েন্টিতেই স্ট্রাইক-রেট ১৩০-এর গণ্ডি খুব কম বার পার করেছেন। একই ভাবে আধুনিক টি-টোয়েন্টি ব্যাটিংয়ে প্রত্যাশিত শক্তিশালী পাওয়ার গেম না থাকা সত্ত্বেও কেন আয়ুষ বাদোনিকে বারবার ইনিংসের উপরের দিকে প্রাধান্য দেওয়া হল? নিঃসন্দেহে, নিকোলাস পুরান এবং আইডেন মার্করামের বাজে ফর্ম দলের অভিযানকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, কিন্তু পন্থকে কখনই এমন একজন অধিনায়ক বলে মনে হয়নি যাঁর এই ফরম্যাটের জন্য প্রয়োজনীয় কৌশলগত বিচক্ষণতা রয়েছে।

অক্ষর ও ডিসি: অধিনায়ক এবং খেলোয়াড়, উভয় ভূমিকাতেই অক্ষর প্যাটেলের পরিসংখ্যান বেশ হতাশাজনক। ৯ ইনিংসে মাত্র ১০০ রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১১২.৫০। এই ১০০ রানের মধ্যে ৫৬ রানই মাত্র এক ইনিংস থেকে। বাকি ৪৪ রান তিনি করেছেন ৮ ইনিংস মিলিয়ে। যদিও অধিকাংশ সময়ই অক্ষর ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম পাঁচজনের মধ্যেই ব্যাট করেছেন। ১২ ম্যাচে অক্ষর মাত্র ৩৬ ওভার বল করেছেন, অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে ঠিক তিন ওভার করে বল করেছেন এবং ৮.০৮ ইকোনমি রেটে ১০ উইকেট শিকার করেছেন। অক্ষরের পার্টনার কুলদীপ যাদবকে যেভাবে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের হাতে যেভাবে নাজেহাল হতে হয়েছে, তা বিবেচনা করলে অক্ষরের ইকোনমি রেটকে সম্মানজনকই মনে হতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা হল, অক্ষর প্রায়শই নিজেকে দিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় কম বল করিয়েছেন। দিল্লি ক্যাপিটালসের মালিকানা যেহেতু যৌথ জেএসডব্লিউ এবং জিএমআর পালাক্রমে ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করে থাকে। তাই আগামী মরসুমে ক্রিকেট সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমের দায়িত্বভার গ্রহণ করবে পার্থ জিন্দাল এবং জেএসডব্লিউ। অধিনায়ক হিসেবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে অক্ষর পুরোপুরি ব্যর্থ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনি মূলত হেমাং বাদানি ও ভেনুগোপাল রাওয়ের উপরই নির্ভরশীল ছিলেন। এই অবস্থায় আগামী বছরও তিনি যদি অধিনায়কের পদ ধরে রাখতে পারেন, তবে তা এক অলৌকিক ঘটনাই হবে। আইপিএলের ভিতরের খবরাখবর রাখেন এমন একজন সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, ‘দলের পুরো কোচিং স্টাফকেও সম্ভবত আর বহাল রাখা হবে না।’ অভিষেক পোড়েলের মতো একজন মারকুটে ব্যাটারকে উপেক্ষা করা, মাধব তিওয়ারির মতো একজন অলরাউন্ডারকে নিয়মিত সুযোগ না দেওয়া এবং সাহিল পারখের মতো ছন্দহীন এক তরুণ ক্রিকেটারকে হুট করে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ঠেলে দিয়ে তাঁর কাছ থেকে বৈভব সূর্যবংশীর মতো পারফরম্যান্স আশা করা! দলের এমন সব সিদ্ধান্ত কারোর চোখ এড়ায়নি। পারখের মধ্যে নিঃসন্দেহে প্রতিভা রয়েছে, তবে একজন ক্রিকেটার হিসেবে তাঁর এখনও অনেক কিছু শেখা ও নিজেকে শানিয়ে নেওয়ার বাকি আছে। ২০২৭ সালে মেগা নিলাম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই হিসেবে একজন খেলোয়াড় হিসেবে অক্ষর হয়তো দলেই থেকে যেতে পারেন। কিন্তু একজন গতিশীল ও দূরদর্শী নেতা হিসেবে তাঁর যোগ্যতার প্রমাণ এখনও পর্যন্ত খুব কমই মিলেছে। যেহেতু সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা জিএমআর-এর হাত থেকে জেএসডব্লিউ-র হাতে ন্যস্ত হতে চলেছে, তা একজন নেতা হিসেবে অক্ষরের ভবিষ্যৎ যে খুব একটা নিশ্চিত বা অটল নয়, তা বলাই বাহুল্য।

রাহানে ও কেকেআর: কেকেআরে রাহানের অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ মূলত ক্লাসিক ‘টিনা’ (TINA-(There Is No Alternative), মানে আর কোনও বিকল্প নেই। শ্রেয়স আইয়ারকে ছেড়ে দেওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজির হাতে বিকল্প নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বের অভাব ছিল। বিষয়টি আরও সহজ হয়েছিল এই কারণে যে, তাঁর মুম্বইয়ের প্রাক্তন সতীর্থ অভিষেক নায়ার তখন দলের হেড কোচের দায়িত্বে ছিলেন। তবে কেকেআর বড় প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছিল। রাহানে এবং নায়ারেরই গড়ে তোলা শিষ্য অঙ্গকৃষ রঘুবংশী, উভয়েই আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে টপ-অর্ডার ব্যাটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত গতির সঙ্গে তাল মেলাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। রঘুবংশী ১৩৯-এর বেশি স্ট্রাইক-রেটে ৩৪০ রান করেছিলেন। অন্যদিকে অধিনায়ক রাহানে ১৩৩ -এর স্ট্রাইক-রেটে করেছিলেন ২৩৭ রান। দু’জনেই ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম তিনের মধ্যে ব্যাট করেছিলেন। যার ফলে প্রায় প্রতি ম্যাচেই দলের রানের গতি বা মোমেন্টাম ব্যাহত হয়েছিল। ১১ ম্যাচে এই জুটি সম্মিলিত ভাবে মাত্র ২৫ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে তাঁদের দু’জনের মিলিত গড় ছিল মাত্র দুই ছক্কা। দেখতে গেলে আদর্শগত ভাবে, রাহানে এবং রঘুবংশীর একই একাদশে একসঙ্গে খেলা উচিত হয়নি। আর ম্যানেজমেন্টের এই অনমনীয় বা একগুঁয়ে মনোভাবেই ফ্র্যাঞ্চাইজিকে বেশ চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। এই মরসুমের শুরুর দিকে যখন রাহানের স্ট্রাইক-রেট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, তখন তিনি সমালোচকদের ‘ঈর্ষান্বিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু ৩৭ বছর বয়সে এসে সম্ভবত তাঁর এখন আত্মবিশ্লেষণ করা প্রয়োজন যে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে তিনি আদৌ আর তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম কি না!

মোদ্দা কথা: অক্ষর এবং পন্থের খেলোয়াড় হিসেবে আইপিএলে চাহিদা থাকবে। তবে রাহানের ক্ষেত্রে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, পরবর্তী মিনি নিলামে কোনোও ফ্র্যাঞ্চাইজিই তাঁর প্রতি আগ্রহ দেখাবে না। অবশ্য যদি না কেকেআর কোনও এক অদ্ভুত বা বিস্ময়কর সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁকে আরও এক মরমের জন্য দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

(Feed Source: zeenews.com)