
Bardhaman Rajbari History: রাজপরিবার মানেই জাঁকজমক, কিন্তু ইতিহাসের সোনালী পর্দার আড়ালে ঢাকা থাকে অনেক দীর্ঘশ্বাস। তেমনই এক মর্মস্পর্শী কাহিনির সাক্ষী বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের নাটমন্দির। যেখানে লেখা আছে, কেন মহারানী রাধারানী চিরতরে ত্যাগ করেছিলেন বর্ধমান।
কেন চিরতরে বর্ধমান ছেড়েছিলেন মহারানী রাধারানী?
বর্ধমান, সায়নী সরকার: রাজ পরিবার মানেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ঐশ্বর্য্য, আভিজাত্য আর জাঁকজমক। কিন্তু ইতিহাসের এই সোনালী পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে অনেক দীর্ঘশ্বাস আর না-বলা বেদনা। তেমনই এক মর্মস্পর্শী কাহিনী আজও সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের নাট মন্দিরে। নাট মন্দিরের দেওয়ালে শ্বেতপাথরের ফলকে খোদাই করা রয়েছে এক অভিমানী মহারানীর জীবনের শেষ বিদায়লিপি, যা লিখে তিনি চিরতরে ছেড়ে গিয়েছিলেন বর্ধমান।
বর্ধমানের রাজ পরিবারের ঐতিহ্য আর সর্বমঙ্গলা মন্দিরের মাহাত্ম্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু এই মন্দিরের নাট মন্দিরে গেলে আজও চোখে পড়ে দেওয়ালে ফলকের উপর লেখা এক মহিলার হৃদয়বিদারক কাহিনি। সেখানে মায়ের কাছে এক অসহায়া তনয়ার হৃদয়ের দুঃখের কথা লিখেছেন। যা লিখে মহারানী রাধারানী চিরতরে ত্যাগ করেন বর্ধমান। ইতিহাসবিদ সর্বজিত যশ বলেন, মহারাজাধিরাজ বিজয় চাঁদ মহাতাবের স্ত্রী ছিলেন রাধারানী মহাতাব। মাত্র ছয় বছর বয়সে বর্ধমানে এসেছিলেন তিনি এবং ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দের নয় বছর বয়সে বিবাহ হয় বিজয়ের চাঁদ মহাতাব ও রাধারানী মহাতাবের। বিবাহের নয় বছর পরে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপ গিয়েছিলেন বিজয়চাঁদ মহাতাব। সেখান থেকে তিনি তার পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে শিলা পিট নামের এক মহিলাকে বর্ধমানের নিয়ে আসেন। বিষয়টি ভালভাবে মেনে নেন নি মহারানী। এই মহিলা-কে নিয়ে তাদের মধ্যে শুরু হয় দ্বন্দ্ব।
মহারাজ ও মহারানী মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হওয়ায় কয়েক বছর পর বর্ধমান ছেড়ে ইংল্যান্ডে চলে যান শিলা পিট। স্ত্রীর উপর অভিমান করে পুত্রদের নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডে বেড়াতে চলে যান মহারাজাও। শিলা পিট চলে যাওয়ার পরে মহারাজাও চলে যাওয়ায় মহারানী অভিমানী হয়ে সিদ্ধান্ত নেন কাশিবাসী হওয়ার এবং তিনি তার মনের দুঃখের কথা সর্বমঙ্গলা মন্দিরে সামনে অবস্থিত নাট মন্দিরের একটি বড় শ্বেত পাথরের ওপর খোদিত করে ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দের চলে যান কাশিতে। বর্ধমান ফিরে মহারাজা বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। রাজত্ব চালানোর পাশাপাশি বিজয়বিহারে তিনি ধর্মীয় জীবন পালনে জোড় দেন। ১৯৪১ সালে তিনি মারা যান। অন্যদিকে, মহারানী রাধারানী মেহতাব ১৯৭২ সালে মারা যান কাশিতে। কাশিতে তিনি যে আশ্রমে থাকতেন তা আজও বর্তমান।
(Feed Source: news18.com)
