Ruturaj Gaikwad: সোমবার চিপকের এম এ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচে এক লজ্জার রেকর্ডের মালিক হলেন চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়।
Ruturaj Gaikwad
সোমবার চিপকের এম এ চিদম্বরম স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচে এক লজ্জার রেকর্ডের মালিক হলেন চেন্নাই সুপার কিংসের অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। আইপিএলের ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে ওপেন করতে নেমে কোনো চার বা ছক্কা না মেরে ২০ বলের বেশি খেলার নজির গড়লেন তিনি। এই ম্যাচে ২১ বল খেলে মাত্র ১৫ রান করে আউট হন সিএসকে অধিনায়ক।
আইপিএলের ইতিহাসে এর আগে ডেভিড ওয়ার্নার, ক্রিস গেইল, শিখর ধাওয়ান এবং মনীশ পাণ্ডের মতো আরও সাতজন ওপেনার কোনো বাউন্ডারি ছাড়া ২০টির বেশি বল খেলার নজির গড়েছেন। আবার স্টিভেন স্মিথ, রোহিত শর্মা ও এমএস ধোনির মতো অধিনায়করাও এই তালিকায় আছেন। তবে ওপেনিং ব্যাটিং ও অধিনায়কত্ব—উভয় ভূমিকায় থেকে এমন মন্থর ব্যাটিং করার নজির গায়কোয়াড়ই প্রথম গড়লেন।
বর্তমান ২০২৬ সালের আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের যুগে একজন ওপেনারের পক্ষে বাউন্ডারি ছাড়া ২০টির বেশি বল নষ্ট করা অত্যন্ত হতাশাজনক। দিন দিন এই ফরম্যাট আরও দ্রুতগতির হয়ে উঠছে, যেখানে পাওয়ার প্লে-র প্রথম ছয় ওভারের ফায়দা তোলা যেকোনো দলের জন্য সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। চিপকের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা কঠিন হলেও, প্রথম ছয় ওভারে আক্রমণাত্মক হওয়া কতটা জরুরি ছিল, তা সিএসকে-র অন্য দুই ব্যাটার সঞ্জু স্যামসন ও উরভিল প্যাটেল প্রমাণ করে দিয়েছেন।
এই ইনিংসে গায়কোয়াড়ের স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৭১.৪২, যা চলতি আইপিএলে অন্তত ২০টি বল ফেস করা ব্যাটারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। শুধু তাই নয়, আইপিএল ২০২৬-এ গায়কোয়াড়ের সামগ্রিক স্ট্রাইক রেটও সমস্ত ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ—১২৪.৬০। দলের অধিনায়ক ও প্রধান ওপেনার হয়েও গায়কোয়াড়ের এই মন্থর ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত তাঁর দলকে পাওয়ার প্লে-তে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, গায়কোয়াড়ের এই ব্যাটিং স্টাইল কোনো পিচের সমস্যা নয়, বরং এটি তাঁর নিজস্ব মন্থর কৌশলের অংশ। ম্যাচের মাঝামাঝি সময়ে সিএসকে কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের একটি সাক্ষাৎকারেই এর আসল কারণ স্পষ্ট হয়েছে। কোচ জানিয়েছিলেন, তিনি চান দলের একজন ব্যাটার যেন পুরো ২০ ওভার ধরে খেলুক। বর্তমান যুগের মারকুটে ক্রিকেটে এই প্রাচীন ও সেকেলে চিন্তাভাবনা বজায় রাখলে ভবিষ্যতে চেন্নাইকে আরও বড় মাশুল গুনতে হতে পারে।
প্রসঙ্গত, এদিন ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮০ রান করে সিএসকে। সর্বোচ্চ ৪৪ রান করে ডিওয়াল্ড ব্রেভিস। রান তাড়া করতে নেমে ইশান কিশানের ঝোড়ো ৭০ ও হেনরিক ক্লাসেনের ৪৭ রানের ইনিংসের সৌজন্যে এক ওভার বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় অরেঞ্জ আর্মি। এই হারের ফলে প্লেঅফের রেস একপ্রকার অসাধ্য সাধন হয়ে গেল সিএসকের কাছে। আর আরসিবি পর গুজরাত ও হায়দরাবাদ পরের রাউন্ডে পৌছে গেল।
(Feed Source: news18.com)