
Cockroach Party Explained: সবার মুখে এখন ককরোচ পার্টি? কে তৈরি করলেন ভারতের নতুন রাজনৈতিক দল? মাত্র ৫ দিনেই হয়ে গেল ১০ মিলিয়ন ফলোয়ার্স! ঝড় উঠল নেটপাড়ায়।জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party) বা ককরোচ পার্টি (Cockroach Party) ছোট করে সিজেপি (CJP)। আচমকাই নেটপাড়ার তুমুল চর্চায় এক নতুন ‘রাজনৈতিক দল’। যদিও অনেকেই এখনও বুঝে উঠতে পারেননি যে, কী এই ককরোচ পার্টি? সেটা খায় না মাথায় দেয়? এখন ভারতে সর্বভারতীয় দল বলতে গেলে কংগ্রেস ও বিজেপি (Congress and BJP)। ১৪৩ বছরের দল কংগ্রেস আর ভারতীয় জনতা পার্টির বয়স ৪৬ বছর। সেখানে এই নতুন দল জন্মের মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই ১০ মিলিয়ন ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার্স জুটিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপিকেও মাত দিয়েছে ফলোয়ার্স সংখ্যায়! যা চমকে দিয়েছে সকলকে! তাদের ওয়েবসাইট ঘাঁটলেই পাওয়া যাচ্ছে ঠিকুজি-কোষ্ঠী।
ঘটনাচক্রে ককরোচ জনতা পার্টি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিতও নয়, এমনকী প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক দলও নয়। অনলাইনে চলমান এক ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনের নামই সিজেপি।মূলত দেশের বেকার যুবক এবং নেটিজেনরা এই আন্দোলনের শুরু করেছে। এক ডিজিটাল প্রতিবাদ ও বিদ্রূপাত্মক মঞ্চ। যদিও তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে রয়েছে। সেখানে সেই দলের সম্বন্ধে এ-টু-জেড লেখা রয়েছে। ১৭ মে তৈরি হওয়া দল বলছে, ‘আপনি যদি ভারতে টুইটার জগতে ঢুঁ মেরে থাকেন এবং ভেবে থাকেন যে, কেন আপনার টাইমলাইনে পোকামাকড়ের ইমোজি, ভোটার তালিকা বিষয়ক মিম এবং ‘ম্যায় ভি ককরোচ’ এই শব্দবন্ধ ছেয়ে গিয়েছে তবে এই নির্দেশিকা আপনার জন্যই।’
ককরোচ পার্টি যা বলছে
সিজেপি তরুণদের দ্বারা চালিত এক জনমত গঠনের অভিযান। ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মাত্র বাক্য থেকে যার সূত্রপাত ঘটেছিল, তিরিশ বছর বয়সী এক জনসংযোগ শিক্ষার্থীর হাতেই যার ভিত্তিপ্রস্তার স্থাপিত হয়েছে এবং মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এক লক্ষ সদস্য এই আন্দোলনে শামিল। সিজেপি-র পাঁচ-দফা ইশতেহার রয়েছে। দুই বর্তমান সংসদ সদস্য এর সম্মানসূচক সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। সিজেপি-র কোনও স্পনসর নেই এবং আপাতত নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও পরিকল্পনাও নেই।
শুরুর কথা; এক মন্তব্য থেকেই জনজোয়ার
গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত (সিজেপি ওয়েবসাইটে লিখেছে যে, যিনি ভুয়ো ড্রিগিধারী) শুনানির সময়ে এক শ্রেণির বেকার তরুণদের বর্ণনা করতে গিয়ে ‘ ককরোচ (আরশোলা)’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তাঁর মতে দেশের এই তরুণদের ‘কোনও পেশায় কোনও স্থান নেই’ এবং তারা ‘সবাইকে আক্রমণ করে’। সেই মন্তব্যের ভিডিয়ো ক্লিপ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সকালের মধ্যেই, বস্টন ইউনিভার্সিটির জনসংযোগ (পিআর) বিভাগের তিরিশ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী—অভিজিৎ দিপকে, একটি ডোমেইন নিবন্ধন করে ফেলেন, একটি লোগো তৈরি করেন, একটি স্লোগান লেখেন এবং একটি সাইন-আপ লিঙ্ক পোস্ট করেন। মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে, এক লক্ষেরও বেশি ভারতীয় তরুণ সেই ফর্মে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করে।
সিজেপি আসলে কী চায়? (ওয়েবসাইটে তারা যা যা লিখেছে)
১) ভারতের কোনও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির জন্য রাজ্যসভার কোনও আসন দেওয়া যাবে না। বিচার ব্যবস্থার সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তি যদি বেঞ্চে থাকাকালীনই পরবর্তী পদ পাওয়ার জন্য ‘অডিশন’ দেন, তাহলে বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা বজায় থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
২) নির্বাচনী তালিকা থেকে কোনও বৈধ ভোট বাদ পড়ার ক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অবশ্যই UAPA-র অধীনে জবাবদিহি করতে হবে। CJP-এর যুক্তি, একজন নাগরিকের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া কোনও ভাবেই সন্ত্রাসবাদের চেয়ে কম গুরুতর অপরাধ নয়।
৩) নারীদের জন্য আসন সংরক্ষণ ৩৩% (যা ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-এর ন্যূনতম সীমা) থেকে বাড়িয়ে ৫৫%-এ উন্নীত করতে হবে।
৪) ভোট তালিকা থেকে কোনও ট বাদ পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তার উপর একটি সময়সীমা-বদ্ধ তদন্ত পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি সেই তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামও জনসমক্ষে আনতে হবে।
৫) ভারতের তরুণ প্রজন্মের জন্য রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হবে পরবর্তী নির্বাচনী চক্রে পঞ্চায়েত, পৌরসভা এবং রাজ্য-স্তরের নির্বাচনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা।
সিজেপি-র নেপথ্যে কে রয়েছেন? (ওয়েবসাইট যা যা বলছে)
প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, বস্টন ইউনিভার্সিটির ৩০ বছর বয়সী এক ভারতীয় শিক্ষার্থী, যিনি বর্তমানে জনসংযোগ বা পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ২০২০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া দলের হয়েও কাজ করেছেন। আর ঠিক সেখান থেকেই তিনি রাজনৈতিক যোগাযোগের সেই সহজাত দক্ষতাগুলি অর্জন করেন। যা বর্তমানে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন যে, এই উদ্যোগটির সূচনা ছিল সম্পূর্ণই ‘স্বতঃস্ফূর্ত’ এবং তিনি কখনোই এমন বিপুল সাড়ার প্রত্যাশা করেননি।
সংসদের দুজন বর্তমান সদস্য—মহুয়া মৈত্র (তৃণমূল কংগ্রেস, কৃষ্ণনগর) এবং কীর্তি আজাদ (তৃণমূল কংগ্রেস, বর্ধমান-দুর্গাপুর) প্রকাশ্যেই সিজেপি-র প্রতীকী সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন। তাঁরা উভয়েই বর্তমানে টিএমসি-র নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে বহাল রয়েছেন। সিজেপি-তে তাঁদের এই সদস্যপদ মূলত সম্মানসূচক। অভিজিতের বয়ান তুলে ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, ‘আমরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই নিজেদের যুক্ত করব না। বিশেষ করে বিজেপির সঙ্গে তো নয়ই। বিরোধী দলের নেতারা যদি প্রকাশ্যে আমাদের সমর্থন জানাতে চান, তবে তাতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু কোনও বিদ্যমান দলীয় কাঠামোর সঙ্গে নিজেদের অঙ্গীভূত করার ব্যাপারে আমাদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।’ ককরোচ পার্টির আসল এক্স হ্যান্ডেল ভারত থেকে তুলে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরেও তারা নতুন করে একটি হ্যান্ডেল চালু করে।
(Feed Source: zeenews.com)
