Indian Cricketer Announce Retirement: চলতি আইপিএলের মাঝেই নিজের কেরিয়ার নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল ভারতীয় তারকা। সোশ্যাল মিডিয়ায় জানালেন অবসরের সিদ্ধান্ত।
বিজয় শঙ্কর
আইপিএলের মাঝেই ক্রিকেটের সব ধরনের ফরম্যাট থেকে অবসর ঘোষণা করলেন ভারতীয়, তামিলনাড়ু এবং ত্রিপুরার অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার বিজয় শঙ্কর। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি নিজের অবসরের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তবে কেবল ক্রিকেটকে বিদায় জানানোই নয়, তিনি স্পষ্ট করেছেন যে জীবনের নতুন কোনো সুযোগের সন্ধান এবং ‘আরও বেশি ক্রিকেট খেলার’ তাগিদ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদায়বেলায় তাঁর সেই পরিচিত ‘থ্রিডি ক্রিকেটার’ নামেই সই করেছেন তিনি, যা একসময় তাঁর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় ট্রোলিংয়ের হাতিয়ার ছিল।
বিজয় শঙ্কর ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে ১২টি ওয়ানডে এবং ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় এবং ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে তিনি নিজের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি খেলেন। দেশের জার্সিতে তিনি মোট ৩২৪ রান করার পাশাপাশি ৯টি উইকেট শিকার করেন, যার মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ২২ রানে ২ উইকেটের এক স্মরণীয় পারফরম্যান্সও রয়েছে। এছাড়া আইপিএলের মঞ্চে তিনি ১,২৩৩ রান ও ৯টি উইকেট নিয়েছেন; যেখানে শেষবার ২০২৫ সালে তিনি নিজের ঘরের দল চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন।
অবসরের বার্তায় শঙ্কর লিখেছেন, “ক্রিকটই আমার জীবন। ১০ বছর বয়সে যখন খেলা শুরু করেছিলাম, তখন ভাবিনি ২৫ বছর পর আমি প্রতিটি স্তরে এবং দেশের হয়ে সর্বোচ্চ স্তরে খেলার সৌভাগ্য অর্জন করব। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জীবনের অন্যতম গর্বের এবং আনন্দের মুহূর্ত।” এর পাশাপাশি তিনি নাগপুরে ভারতের ৫০০তম ওয়ানডে ম্যাচে শেষ ওভার বল করার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা এবং ২০১৯ বিশ্বকাপে নিজের প্রথম বলেই উইকেট নেওয়ার মতো বিশেষ মুহূর্তগুলো অত্যন্ত আনন্দের সাথে স্মরণ করেছেন।
নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারে পাশে থাকার জন্য বিজয় শঙ্কর বিসিসিআই, ভারতীয় ক্রিকেট দল এবং আইপিএলের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি যেমন—গুজরাত টাইটান্স, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, দিল্লি ক্যাপিটালস ও সিএসকেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সাথে তামিলনাড়ু, ত্রিপুরা ও টিএনপিএল-এর দলগুলোর প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কেরিয়ারের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তাঁর সমস্ত কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, ফিজিও, ট্রেনার, সংবাদকর্মী ও চিকিৎসকদের অবদানের কথা তিনি ভোলেননি। বিশেষ করে তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি তিনি চিরকৃতজ্ঞ, যাঁরা আক্ষরিক অর্থেই ভালো-মন্দ সব সময়ে তাঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
২০১৯ বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়ার পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শঙ্করকে নিয়ে যে অবাস্তব ঘৃণা, সমালোচনা ও নেতিবাচকতা তৈরি হয়েছিল, বিদায়লগ্নে তা নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি সবসময় সমস্ত নেতিবাচকতাকে উপেক্ষা করে জীবনে এগিয়ে যাওয়াকেই বেছে নিয়েছিলাম। আমি যদি তা করতে পারি, তবে যে কেউ তা করতে পারবে।” পরিশেষে, “ক্রিকেট আমাকে জীবন শিখিয়েছে, ক্রিকেটই আমার জীবন,” এই কথা বলে এবং নিজেকে ‘আপনাদের থ্রিডি ক্রিকেটার’ হিসেবে উল্লেখ করে এক বুক কৃতজ্ঞতা নিয়ে মাঠ ছাড়লেন বিজয় শঙ্কর।
(Feed Source: news18.com)