
Cristiano Ronaldo: ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো জোড়া গোল করে আল নাসেরকে জেতালেন সৌদি প্রো লিগ। ভেঙে পড়লেন কান্নায়। ভিডিয়ো রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায় নেটপাড়ায়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: লোকে তখন বলেছিল, অবসর কাটাতেই সব ছেড়ে তিনি এসে ভিড়েছেন রুক্ষ মরুভূমিতে। তাঁদের ধারণা ছিল যে, ২০০ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল চুক্তির ভার এবং কিংবদন্তিতুল্য কেরিয়ায়ের সায়াহ্ণে এসে তাঁর ট্রফি জেতার সেই তীব্র খিদে ম্লান হয়ে যাবে! কিন্তু তাঁর নাম যে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ডস স্যান্টোস আভেইরো ওরফে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)। বয়সকে বুটের ফিতেতে বেঁধেই মাঠে নামেন। প্রাণশক্তি আর ফিটনেসে আজও তাঁর চেয়ে অর্ধেক বয়সিদেরও বলে বলে ঘোল খাওয়াতে পারেন। ৪১ বছর বয়সেও তিনি প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে ছারখার করে দিতে পারেন। তুড়ি মেরে করেন গোল শিকার।
গত বৃহস্পতিবার আলাওয়াল পার্কে, তীব্র গরমের রাতে যখন আল-নাসের ও দামাক ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজল, তখনই নিশ্চিত হয়ে যায় আল-নাসের সৌদি প্রো লিগ চ্যাম্পিয়ন। আর রোনাল্ডো আবারও প্রমাণ করে দিলেন যে, জয়ের অদম্য নেশা সময় এবং সমালোচনা, উভয়কেই হার মানায়। এই বয়সে দাঁড়িয়েও তিনি সৌদি জিততে পারেন। যাঁর বায়োডেটায় ম্যাঞ্চেস্টার, মাদ্রিদ এবং ঐতিহাসিক তুরিন জয় রয়েছে। সেই মানুষটাই জোড়া গোল করে জিতলেন জীবনের প্রথম সৌদি প্রো খেতাব। শিশুর মতো কান্নায় ভেঙে পড়লেন। কে বলবে, যাঁর ৩৫ ট্রফি জেতা হয়ে গিয়েছে জীবনে।
মরসুমের শেষ ম্যাচ তথা ফাইনালের রাতেই জ্বলে উঠলেন ফুটবল গ্রহের সর্বকালের অন্যতম সেরা মহানক্ষত্র। আল-নাসের নেমেছিল মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে, তারা ভালো করেই জানত যে, জয় ছাড়া অন্য যে কোনও ফলই শিরোপা তুলে দিতে পারত তাদের অপ্রতিরোধ্য ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল-হিলালের হাতে। স্টেডিয়ামের ভিতরের পরিবেশ ছিল আগুনে। হলুদ-নীল জনসমুদ্রের গর্জন ছিল অকল্পনীয়। ২০১৯ সাল থেকে আল-নাসেরের প্রো লিগ ছিল অধরা। ৩৩ ও ৫১ মিনিটে যথাক্রমে সাদিও মানে ও কিংসলে কোম্যানের গোল আল-নাসেরকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে এনে দিয়েছিল। কিন্তু ৫৭ মিনিটে পেনাল্টিতে গোল করে দামাক স্কোরলাইন ২-১ করে ফেলতেই স্টেডিয়ামে আল-নাসের সমর্থকদের স্নায়ুচাপ পৌঁছে যায় চরম সীমায়।
এরপর খেলার ৬২ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যখন ম্যাচের চিত্রনাট্য পুরোপুরি লিখে ফেলেন রোনাল্ডো। ২৫ গজ দূর থেকে অসাধারণ ফ্রি-কিক নিলেন। গতি আর কৌশলের মিশেলে রোনাল্ডোর শট রক্ষণের মানব-দেওয়াল ভেঙে এবং অজস্র পায়ের জঙ্গল ফুঁড়ে রকেটের মতো আছড়ে পড়ে জালে। পুরো স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে। যেন সেই সোনালি সময়ের রোনাল্ডোর পারফরম্যান্স—ঠিক তখনই কিংবদন্তি এমন জাদু দেখালেন যখন দল ত্রাতার খোঁজে মরিয়া ছিল। নির্ধারিত সময়ের ন’মিনিট বাকি থাকতেই মরসুমের গল্পের শেষ যতিচিহ্ন এঁকে দেন। ছ’গজ বক্সের কিনারা থেকে আসা নিখুঁত কাট-ব্যাক শট ধরে জোরাল শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। স্কোরলাইন ৪-১ হয়ে যায়। ক্লাবকে নিশ্চিত করে দেন ট্রফি।
দলের ম্যানেজার জর্জ জিসাস তাঁর অধিনায়ক রোনাল্ডোকে মাঠ থেকে তুলে নেন। যাতে পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে তাঁকে সম্মান জানাতে পারে। বেঞ্চে বসে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত গড়িয়ে যেতে দেখছিলেন, তখনই পর্তুগিজ মহাতারকার চোখ ভিজতে শুরু করে দেয়। কঠোর ও ভাবলেশহীন অভিব্যক্তি মুহূর্তেই গলে যায়। রোনাল্ডো দু’হাতে মুখে ঢেকে অঝোরে কাঁদতে শুরু করে দেন। যা ছিল গত তিন বছরের তাঁর দীর্ঘ যাত্রার আবেগি বহিঃপ্রকাশ। তীব্র চাপ আর প্রবল সংশয়ের সেই যাত্রা ২০২৩ সালের শুরুর দিকে শুরু হয়েছিল। সতীর্থদের কাঁধে চেপে সেলিব্রেট করার বদলে রোনাল্ডো চলে যান গ্যালারির কাছে। হাতে ড্রাম স্টিক তুলে নেন। আল-নাসের ‘আল্ট্রা’ সমর্থকদের ড্রামের ছন্দেই তিনি ড্রাম বাজাতে থাকেন। তাঁর ড্রাম বাজানোর সঙ্গে সঙ্গেই লক্ষ লক্ষ দর্শকের সমস্বরে গর্জন করে ওঠেন Suiiiiiiiii…
