Pahalgam Terror Attack:ফলস ফ্ল্যাগ তত্ত্ব মিথ্যে, পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র ফাঁস; পহেলগাঁও হমলার চার্জশিটে স্পষ্ট তথ্য

Pahalgam Terror Attack:ফলস ফ্ল্যাগ তত্ত্ব মিথ্যে, পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র ফাঁস; পহেলগাঁও হমলার চার্জশিটে স্পষ্ট তথ্য

 

NIA Chargesheet: ‘কাশ্মীর ফাইট’ টেলিগ্রাম চ্যানেলটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বট্টগ্রাম এলাকা থেকে চালানো হচ্ছিল। অন্যদিকে ‘TheResistanceFront_OfFcial’ নামের দ্বিতীয় চ্যানেলটির উৎস ছিল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো:  ২০২৫-এর এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র পহেলগাঁও ২৬ জন পর্যটকের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে এবার চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ সামনে এনেছে ‘ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি’ (NIA)। সম্প্রতি এনআইএ-র পেশ করা চার্জশিটে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই গোটা হামলার ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়েছিল পাকিস্তানের মাটিতে এবং সেখান থেকেই কন্ট্রোল করা হয় পুরো অপারেশন।

পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার পরপরই লস্কর-ই-তৈবা এবং তার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’-এর পক্ষ থেকে ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামক একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার পরেই যখন রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ-সহ আন্তর্জাতিক মহল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা শুরু করে, তখন সুর বদল করতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক চাপ থেকে বাঁচতে TRF দাবি করে যে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলটি হ্যাক করা হয়েছিল এবং এই হামলায় তাদের কোনও হাত নেই। ভারতকে কালিমালিপ্ত করতে একে ভারতেরই একটি ‘ফল্স ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বলে প্রচার করতে শুরু করে পাকিস্তান।

তবে এনআইএ-র সাইবার তদন্তে পাকিস্তানের এই মিথ্যাচার পুরোপুরি ধোপে টেকেনি। ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করে এনআইএ প্রমাণ করেছে পাকিস্তানের যোগ।

ডিজিটাল প্রমাণ: ‘কাশ্মীর ফাইট’ টেলিগ্রাম চ্যানেল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বট্টগ্রাম এলাকা থেকে চালানো হচ্ছিল। অন্যদিকে ‘TheResistanceFront_OfFcial’ নামের দ্বিতীয় চ্যানেলটির উৎস ছিল পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি।

মোবাইল ফোন ট্র্যাক: ‘অপারেশন মহাদেব’-এ নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি মোবাইল ফোনে সরাসরি পাকিস্তানের যোগ। এর মধ্যে একটি ফোন অনলাইনে কিনে লাহোরের কায়েদ-ই-আজম ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটের একটি ঠিকানায় পাঠানো হয়েছিল এবং অন্যটি কেনা হয়েছিল করাচির শাহরা এলাকা থেকে।

যেভাবে চালানো হয়েছিল অপারেশন

চার্জশিট অনুযায়ী, এই হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড লস্কর ও টিআরএফ কমান্ডার সাইফুল্লাহ ওরফে সাজিদ জাঠ ওরফে ‘ল্যাংড়া’। বর্তমানে ভারতের অন্যতম ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ এই জঙ্গি লাহোরে বসে সরাসরি হামলার তদারকি করছিল। গত ১৫ এবং ১৬ এপ্রিল সাইফুল্লাহর নির্দেশে ফয়সাল জাঠ, হাবিব তাহির এবং হামজা আফগানি নামের তিন পাকিস্তানি জঙ্গি পহেলগামের ‘বাইসরন উপত্যকা’ এবং তার আশেপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যটকদের গতিবিধি খতিয়ে দেখতে নজরদারি চালায়।

পরে হামলার দিন লাহোর থেকে জঙ্গিদের সঙ্গে অনবরত যোগাযোগ রাখছিল সাইফুল্লাহ। সে জিপিএস কোঅর্ডিনেটস, লুকিয়ে থাকার জায়গা এবং পালানোর রুট সম্পর্কে রিয়েল-টাইম নির্দেশাবলী পাঠাচ্ছিল। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, পারভেজ এবং বশির আহমেদ নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দা এই পাকিস্তানি জঙ্গিদের রাস্তা দেখানো ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছিল। এনআইএ-র এই অকাট্য তথ্যপ্রমাণ সমৃদ্ধ চার্জশিট আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদী মুখকে আরও একবার সামনে এনে দিল।

(Feed Source: zeenews.com)