Water Tank: স্বপ্ন ছিল প্লেনে চড়ার, পূরণ হয়নি, বাড়ির ছাদেই বানিয়ে ফেললেন ‘এরোপ্লেন’! আসলে কী জানেন?

Water Tank: স্বপ্ন ছিল প্লেনে চড়ার, পূরণ হয়নি, বাড়ির ছাদেই বানিয়ে ফেললেন ‘এরোপ্লেন’! আসলে কী জানেন?

 

‘এরোপ্লেন বাড়ি’ দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ভিড়, চর্চায় দীনবন্ধু মাঝি।

রঘুনাথপুর, পুরুলিয়া, শর্মিষ্ঠা ব্যানার্জি: মানুষের শখ বিভিন্ন ধরনের হয়। কেউ ছবি আঁকেন, কেউ পুরনো জিনিস সংগ্রহ করেন, আবার কেউ নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তৈরি করেন এক অভিনব দৃষ্টান্ত। ঠিক তেমনই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কেড়েছে রঘুনাথপুর বিধানসভার শাঁকা এলাকায়।

এই এলাকার বাসিন্দা দীনবন্ধু মাঝির ছোটবেলা থেকেই ছিল আকাশে ওড়ার স্বপ্ন। ইচ্ছা ছিল একদিন এরোপ্লেনে চড়বেন, কাছ থেকে দেখবেন উড়ানের অনুভূতি। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ করা হয়ে ওঠেনি। তবে স্বপ্নকে হার মানতে দেননি তিনি।

নিজের কল্পনা আর অক্লান্ত পরিশ্রমকে সঙ্গী করে বাড়ির ছাদেই তৈরি করে ফেলেছেন আস্ত একটি এরোপ্লেনের আদল। দূর থেকে দেখলে অনেকেই প্রথমে সত্যিকারের বিমান বলেই ভুল করেন। তবে আসলে এটি একটি জলের ট্যাঙ্ক। অভিনব এই সৃষ্টি দেখতে এখন প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন আশপাশের বহু মানুষ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার কেউ অবাক হয়ে শুনছেন দীনবন্ধুর স্বপ্নপূরণের গল্প। এলাকাবাসীর কাছেও বাড়িটি এখন পরিচিত হয়ে উঠেছে “এরোপ্লেন বাড়ি” নামে।

এ বিষয়ে দীনবন্ধু মাঝি বলেন, ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন ছিল এরোপ্লেনে চড়ার কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবে পূরণ হয়নি। ‌ তাই তিনি এই বিকল্প রাস্তা বেছে নিয়েছেন নিজের স্বপ্ন পূরণের। প্রায় দু মাস সময় লেগেছে এই এরোপ্লেনটি বানাতে। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ ভিড় করে তার বাড়িতে।

এ বিষয়ে তার স্ত্রী মিঠু মাঝি বলেন,  তারা মধ্যবিত্ত, তাই শখ থাকলেও সেই শখ পূরণ করা হয়ে ওঠে না। এই কৃত্রিম এরোপ্লেনের মধ্য দিয়েই নিজেদের শখ পূরণ করেছেন তারা। এটা এখন তাদের পাড়ার একটি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে এলাকার এক বাসিন্দা শিপ্রা নন্দী বলেন, তাদের পাড়ায় এটাই এখন একটি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। কচিকাঁচা থেকে বড়রা সকলেই খুব আনন্দ উপভোগ করেন এই এরোপ্লেন দেখে। ‌দীনবন্ধু মাঝির এই উদ্যোগ যেন প্রমাণ করে দেয়— স্বপ্ন বড় হলে, সীমাবদ্ধতাও একদিন হার মানে মানুষের ইচ্ছাশক্তির কাছে।