জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে জলপাইগুড়িতে শুরু হয়েছে HPV টিকাকরণ পরিষেবা। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলিতে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। কারা এই টিকা নিতে পারবেন, কোথায় পাওয়া যাবে পরিষেবা এবং কেন HPV ভ্যাকসিন জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এত গুরুত্বপূর্ণ—জেনে নিন বিস্তারিত।
জলপাইগুড়িতে দেওয়া হচ্ছে এইচপিভি টিকা
জলপাইগুড়ি, সুরজিৎ দে: জরায়ুমুখ ক্যানসার মহিলাদের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রাণঘাতী ও সাধারণ ক্যানসার। এটি মূলত হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (HPV) ও অসুরক্ষিত যৌন সংসর্গ থেকে ছড়ায়। তবে প্রাথমিক অবস্থায় স্ক্রিনিং ও সচেতনতার মাধ্যমে এই ক্যানসার সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ও নিরাময় সম্ভব। ইচপিভি টিকা (HPV Vaccine) জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী।
এবার জলপাইগুড়িতে শুরু হল HPV ভ্যাকসিন! ১৪ বছরের মেয়েদের জন্য বড় সুযোগ কোথায়, কীভাবে পাবেন জেনে নিন এক ক্লিকে। জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে HPV ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচি, যা জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর শুভ সূচনার পর থেকেই জেলার একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই পরিষেবা চালু হয়েছে। মূলত ১৪ বছর বয়সি মেয়েদের জন্য এই ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী সারভাইকাল ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর।
জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়িতে মোট ১০টি সেন্টারে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ, মালবাজার সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল, ধূপগুড়ি সাব-ডিভিশনাল হাসপাতাল, ময়নাগুড়ি হাসপাতাল, নাগরাকাটা সাব-ডিভিশনাল হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন ব্লক হাসপাতাল এবং বানারহাট পিএইচসি। এই পরিষেবা আগামী তিন মাস ধরে চলবে। সোম থেকে শনিবার পর্যন্ত জলপাইগুড়ি মেডিকভাল কলেজে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে, তবে আউটডোর বন্ধ থাকলে সেদিন পরিষেবা মিলবে না। অন্যদিকে ব্লক হাসপাতালগুলিতে নির্দিষ্ট দিনে আউটডোর বন্ধ থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে ওই দিন ভ্যাকসিন দেওয়া হবে না। সরাসরি হাসপাতালে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহীরা আগে থেকেই অনলাইনেও রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এর জন্য U-WIN পোর্টালে গিয়ে দেখে নেওয়া যাবে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কবে সেশন রয়েছে। সেখান থেকেই প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা যাবে। সঙ্গে রাখতে হবে আধার কার্ড ও একটি মোবাইল নম্বর।
জেলা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুখেন্দু বিশ্বাস জানান, প্রশিক্ষিত এএনএম স্বাস্থ্যকর্মীরা এই ভ্যাকসিন প্রদান করছেন এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে জরায়ু ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।
(Feed Source: news18.com)