নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করলেন মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। নিরাপত্তা, সীমান্ত স্থিতিশীলতা ও সংযোগ প্রকল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি চিনের প্রভাব মোকাবিলার কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।
মোদির সঙ্গে য়ানমারের রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ (Reuters)
নয়াদিল্লিঃ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সোমবার নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে বৈঠক করলেন মায়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং। পাঁচ দিনের ভারত সফরে আসা মায়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরকে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান চিনা প্রভাবের প্রেক্ষাপটে ভারত-মায়ানমার সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বৈঠক বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
দুই নেতার আলোচনায় সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাস দমন, গোয়েন্দা সহযোগিতা, বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। গত পাঁচ বছর আগে মায়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দেশটি অনেকটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
এর আগে রবিবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক করেন মিন অং হ্লাইং। সেখানে ভারত-মায়ানমার সীমান্তে জঙ্গি কার্যকলাপ, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং মাদক ও মানবপাচারের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। শনিবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মায়ানমার ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া এই প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তার জন্যও জরুরি। পাশাপাশি, চীনের প্রভাব মোকাবিলা এবং বিরল খনিজ সম্পদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতেও মায়ানমারের গুরুত্ব বাড়ছে।
এছাড়া কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প এবং ভারত-মায়ানমার-থাইল্যান্ড ত্রিপাক্ষিক মহাসড়ক প্রকল্প ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অন্যতম স্তম্ভ। ফলে মিন অং হ্লাইংয়ের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
(Feed Source: news18.com)