
Guess the Celebrity: বলিউডের সেই অভিনেতা, যাঁর এক ঝলক দেখার জন্য ভক্তরা আজও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে। তাঁর পুরনো থেকে নতুন সব চরিত্রই দর্শকদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছে। কিন্তু একটা সময় ছিল যখন এই মানুষটি শুধু নাটক দেখার জন্য লুকিয়ে থিয়েটারে ঢুকতেন। তিনি বহুবার ধরা পড়েছেন, বহুবার বের করে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ কখনও কমেনি। এই আবেগই পরবর্তীকালে তাঁকে ভারতীয় সিনেমার একজন তারকায় পরিণত করে, যেখানে তিনি খলনায়ক, কমেডি এবং গম্ভীর চরিত্রে নিজেকে স্বতন্ত্রভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
কখনও তিনি থিয়েটারের বাইরে ঢোকার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতেন, আবার কখনও টিকিট ছাড়াই নাটক দেখতে চুপিচুপি ঢুকে পড়তেন। কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে অভিনয়ের প্রতি এই অনুরাগ একদিন তাঁকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। আজ তাঁর কৌতুকবোধ, অনবদ্য অভিনয় এবং স্মরণীয় চরিত্রগুলো লক্ষ লক্ষ মানুষের মন জয় করেছে। তিনি হলেন বলিউডের স্বনামধন্য অভিনেতা পরেশ রাওয়াল। (ছবি সৌজন্যে: আইএমডিবি)
১৯৫৫ সালের ৩০শে মে মুম্বইয়ের গুজরাতি পরিবারে জন্ম পরেশ রাওয়ালের। শৈশবে পার্লে ইস্ট এলাকায় কাটান, যেখানে কাছেই একটি খোলা নাট্যমঞ্চ ছিল। সেখানেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মায়। শৈশব জুড়ে তিনি পড়াশোনায় যেমন ভাল ছিলেন, তেমনি দুষ্টুও ছিলেন, কিন্তু তাঁর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল থিয়েটার। বলা হয় যে, মাত্র ৯ বছর বয়সে তিনি নাটক দেখার জন্য টিকিট ছাড়াই থিয়েটারে লুকিয়ে ঢুকতেন। তিনি প্রায়শই ধরা পড়তেন এবং তাঁকে বের করে দেওয়া হতো, কিন্তু তাঁর এই আবেগ কখনও কমেনি।
একবার তিনি একটি থিয়েটারে লুকিয়ে বারবার ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়ে ধরা পড়েন, তখন থিয়েটারের কর্মীরা তাঁর আগ্রহ বুঝতে পেরে তাঁকে নাটক দেখার অনুমতি দেন। ধীরে ধীরে, তিনি সেখানে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেতে শুরু করেন। এটিই তাঁর কর্মজীবনের ভিত্তি হয়ে ওঠে।
পরেশ রাওয়াল প্রথমে ব্যাঙ্ক অফ বরোদায় কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু সেখানকার চাকরিটা তাঁর ভাল লাগেনি। তিনি কয়েকদিনের মধ্যেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন।
তিনি ১৯৮৪ সালের ‘হোলি’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন এবং এরপর ১৯৮৫ সালের ‘অর্জুন’-সহ বেশ কয়েকটি ছবিতে ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৮৬ সালের ‘নাম’ ছবির মাধ্যমে তিনি পরিচিতি লাভ করেন, যেখানে তিনি তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশক জুড়ে একটানা কাজ করে যান এবং ১০০টিরও বেশি ছবিতে খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। ‘রাম লক্ষ্মণ’, ‘মোহরা’, ‘ক্রান্তিবীর’ এবং ‘দামিনী’-র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।
খলনায়কের ভূমিকার পাশাপাশি পরেশ রাওয়াল বেশ কিছু গম্ভীর ও হাস্যরসাত্মক চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। ২০০০ সালের চলচ্চিত্র ‘হেরা ফেরি’ তাঁর কেরিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তাঁর ‘বাবুরাও গণপত আপ্তে’ চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে তিনি ভারতীয় কমেডি সিনেমার এক স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।
এরপর তিনি ‘হাঙ্গামা’, ‘গরম মশলা’, ‘ভুল ভুলাইয়া’, ‘ওয়েলকাম’, ‘গোলমাল’ সিরিজ এবং ‘ওহ মাই গড’-এর মতো চলচ্চিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেন। তিনি প্রমাণ করেন যে, কমেডি হোক বা সিরিয়াস, যেকোনও চরিত্রেই তিনি সাবলীল। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন। তিনি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, একটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান এবং ২০১৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করে।
ব্যক্তিগত জীবনে পরেশ রাওয়াল প্রাক্তন মিস ইন্ডিয়া ও অভিনেত্রী স্বরূপ সম্পতকে বিয়ে করেছেন। কলেজে থেকে প্রেম তারপর বিয়ে, তাঁদের প্রেমের গল্পটি ছিল বেশ আকর্ষণীয়। পরেশ রাওয়াল রাজনীতিতেও প্রবেশ করেন এবং ২০১৪ সালে আহমেদাবাদ পূর্ব থেকে সংসদ সদস্য হন। তাকে ন্যাশনাল স্কুল অফ ড্রামার প্রধান হিসেবেও নিযুক্ত করা হয়েছিল।
(Feed Source: news18.com)
