
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে হুমকিবার্তা পোস্ট করেছেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ‘ইরানে হামলা চালিয়ে যাবে আমেরিকা (যাদের নৌবাহিনী, বায়ুসেনা, রেডার, হামলা প্রতিরোধকারী যুদ্ধবিমান, সব রকমের প্রতিরক্ষা, প্রতিরোধের যাবতীয় ক্ষমতা ভেঙে পড়েছে’! (US-Iran War)
ভেনিজুয়েলার প্রসঙ্গ টেনে ইরানকে নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরেন ট্রাম্প। লেখেন, ‘একটা সময় পর, অদূর ভবিষ্যতে খার্গ দ্বীপ, অন্য তৈল পরিকাঠামো দখল করব আমরা। ওদের তেল এবং গ্যাসের বাজার পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে, ঠিক ভেনিজুয়েলার মতোই। ভেনিজুয়েলা এবং আমেরিকা, দু’পক্ষই কিন্তু লাভবান হয়েছে তাতে’। ‘ট্রাম্পের এই মন্তব্য অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। কারণ চলতি বছরের শুরুতে একরাতে ভেনিজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপ করে আমেরিকা। দেশের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যায় আমেরিকার সেনা। ভেনিজুয়েলার তেলের উপর এই মুহূর্তে তাদেরই কর্তৃত্ব।
“The United States will be hitting Iran (Whose Navy, Air Force, Radar, Anti Aircraft, and all other forms of Defense, together with most of its offensive capability, are GONE!), VERY HARD TONIGHT…” – President Donald J. Trump pic.twitter.com/9enjml7gkw
— The White House (@WhiteHouse) June 11, 2026
শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই হুমকিবার্তা পোস্ট করেননি ট্রাম্প। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা সব নিয়ে নেব, তবে আমি বরাবরই খার্গ দ্বীপ দখল করাকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছি। আমি সেটিকে প্রাধান্য় দিচ্ছি। জানি না আমেরিকা হজম করতে পারবে কি না।”
ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের উপর হামলার সময় থেকেই খার্গ দ্বীপের উপর নজর ট্রাম্পের। ইরানের তৈল ব্যবসার মেরুদণ্ড ওই খার্গ দ্বীপ। পৃথিবীর যেখানে যত তেল সরবরাহ করে তারা, তা খার্গ দ্বী থেকেই যায়। প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ তেলের ব্যারেল জাহাজে তোলা হয় সেখান থেকে, যার অধিকাংশই পৌঁছয় চিনে। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তি ঘিরে দোলাচলের মধ্যেই খার্গ দখলের পরিকল্পনা খোলসা করলেন ট্রাম্প। এতে পরিস্থিতি আরও বিগড়োতে পারে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।
শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে ইরানের নজরদারি প্রযুক্তি, কমিউবিকেশন নেটওয়র্ক এবং বায়ুসেনার ঘাঁটির উপর হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। আমেরিকার শর্ত মেনে শান্তিচুক্তিতে রাজি না হলে, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপেরও হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরান যদিও নিজের অবস্থানে অনড়। আমেরিকার হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিতে রকেট বর্ষণ করেছে তারাও। এই অবস্থা চলতে থাকলে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চরম সঙ্কট নেমে আসবে বলে আশঙ্কিত সকলে।
