)
Koel Mallick: গত ফেব্রুয়ারিতে, রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে তৃণমূল। সেই তালিকায় রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয়, মেনকা গুরুস্বামী ছাড়াও অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিকের নাম ছিল। পরে এপ্রিল মাসে দিল্লিতে রাজ্যসভার সাংসদ পদে শপথ নিতে যান অভিনেত্রী।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: টলিপাড়ার গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে সোজা পা রেখেছিলেন দিল্লির সংসদের উচ্চকক্ষে। গত এপ্রিলেই সপরিবারে দিল্লিতে গিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। পাশে বসা সাংবাদিকদের হাসিমুখে বলেছিলেন, ‘এটা তো অনেক বড় দায়িত্ব, দেশের সেবা, মানুষের সেবা— এর থেকে মহৎ কাজ আর হতে পারে না।’ কিন্তু রাজনীতির অলিন্দে সেই ‘মহৎ কাজের’ মেয়াদ ফুরোল মাত্র দুটো মাসেই!
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর বাংলায় যে বেনজির রাজনৈতিক মহাপ্রলয় শুরু হয়েছে, তার সাম্প্রতিকতম সংযোজন টলি ক্যুইন কোয়েল মল্লিক। জল্পনা সত্যি করে বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।
আসলে, বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরে কার্যত ধস নেমেছে। একের পর এক হেভিওয়েট নেতা মমতা-অভিষেকের হাত ছাড়ছেন। লোকসভা ও বিধানসভায় দল ভাঙানোর খেলা চললেও, রাজ্যসভায় বিদ্রোহীরা নিয়েছেন এক্কেবারে অন্য রণকৌশল। সংসদের উচ্চকক্ষে একসঙ্গে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ জোট করা কঠিন, তাই ‘এক এক করে উইকেট ফেলার’ স্ট্র্যাটেজি নিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা।
শুরুটা করেছিলেন প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। বুধবার ইস্তফাপত্র পাঠান সুস্মিতা দেব। আর লক্ষ্মীবারে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ইস্তফা দিলেন প্রকাশ চিক বরাইক এবং খোদ কোয়েল মল্লিক। একের পর এক ইস্তফার জেরে রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা ১৩ থেকে কমে একধাক্কায় এসে ঠেকল মাত্র ৯-এ! রাজনৈতিক মহলের খবর, চলতি সপ্তাহেই আরও এক এবং আগামী সপ্তাহে আরও দুই-তিন জন তৃণমূল সাংসদ ইস্তফা দিতে পারেন।
পতনের মুখে তৃণমূলের দিল্লি দুর্গ?
বিধানসভায় ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৪ জন বিধায়ক ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন। লোকসভাতেও কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ এনডিএ -তে শামিল হওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। আর এবার রাজ্যসভাতেও দল কার্যত ধূলিসাৎ হওয়ার পথে। বর্তমান বিধানসভার যা পাটিগণিত, তাতে এই ফাঁকা হওয়া রাজ্যসভার আসনগুলিতে উপনির্বাচন হলে সবকটিই চলে যাবে বিজেপির ঝুলিতে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যখন রাজীব কুমার, বাবুল সুপ্রিয়দের সঙ্গে কোয়েলের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল তৃণমূল, তখন তা চমক ছিল। কিন্তু জুন মাস আসতেই সেই মোহভঙ্গ! দলের এই চরম দুর্দিনে তৃণমূলের থেকে দূরত্ব বজায় রাখতেই কি এই তড়িঘড়ি ইস্তফা? নাকি টলিপাড়ার ‘মিতিন মাসি’ আগেই টের পেয়ে গেছেন ডুবন্ত নৌকার ভবিষ্যৎ? প্রশ্নটা কিন্তু রেখেই গেলেন কোয়েল!
(Feed Source: zeenews.com)
