)
US Iran 300 billion dollar peace deal: ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের রফায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি আমেরিকার? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরাট দাবি। বেকায়দায় ইয়রায়েল প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানইয়াহু।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: যুদ্ধে ইতি! আমেরিকার সঙ্গে ইরানের শান্তি চুক্তি। ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে আর কখনও পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না বলে রাজি হয়েছে ইরান। তবে কি ৩০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আমেরিকাকে পরমাণু অস্ত্রভান্ডার ছেড়ে দিচ্ছে ইরান? বিশ্ব কূটনীতি তোলপাড় এখন এই প্রশ্নে।
আমেরিকা-ইরান-ইসরায়েল, ত্রিমুখী এই যুদ্ধে গত কয়েক মাস ধরেই উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য। মাঝে কিছুদিন সংঘর্ষ বিরতি চললেও, ফের নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে ইরানের মাটিতে আমেরিরকার নতুন করে ‘অপারেশনে’। আর এরপরই এবার যুদ্ধরত মধ্যপ্রাচ্য থেকে নয়া আপডেট, বড় আপডেট। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র ছাড়তে বাধ্য করতে ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার খবর ভুয়ো! তবে, এই নিয়ে চর্চা থামছে না। ওদিকে ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তিতে নেতানইয়াহহু যে বেকায়দায় পড়ে গিয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলছিল সংঘাত। সেই সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরান কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা সংগ্রহ না করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে রাজি হয়েছে!” পাশাপাশি, তিনি এও লেখেন যে,”যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে বলে যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা সম্পূর্ণ ভুয়ো, ডেমোক্র্যাটদের ছড়ানো।”
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এখন শোরগোল ইরানকে আমেরিকার বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ার খবরে। যদিও সেই দাবিকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প। তবে ট্রাম্প তাঁর পোস্টে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কথা খারিজ করলেও, সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলিতে ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন প্যাকেজ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছিল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই তাঁকে সমর্থন করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সোশ্যাল মিডিয়ায় একে ট্রাম্প প্রশাসনের ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রায় দেড় পাতার একটি সমঝোতা চুক্তি (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শকরা ইরানে ফিরবেন ও সেদেশে মজুত ইউরেনিয়ামের ভান্ডার ধ্বংসের বিষয়ে সহযোগিতা করবেন।
যদিও ট্রাম্প সমালোচকেরা মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপকে ওবামা প্রশাসনের ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তির (JCPOA) চেয়েও দুর্বল বলে উল্লেখ করেছে। প্রসঙ্গত, এই ট্রাম্প-ই ওবামা আমলে হওয়া চুক্তির তীব্র বিরোধী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বেরও করে আনেন। তবে কি এখন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে পেরে না উঠেই সমঝোতার পথে হাঁটালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প? উঠছে সেই প্রশ্নও।
(Feed Source: zeenews.com)
