IndW vs NedW : ভারতীয় দলের ক্রিকেটার, তিনিও মানসিক অবসাদের শিকার! ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর তারকা ক্রিকেটারের স্বীকারোক্তি

IndW vs NedW : ভারতীয় দলের ক্রিকেটার, তিনিও মানসিক অবসাদের শিকার! ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর তারকা ক্রিকেটারের স্বীকারোক্তি

 

ম্যাচের শুরুতেই অধিনায়ক হরমনপ্রীত কউর তাঁকে বোলিং আক্রমণে আনেন এবং শ্রেয়াঙ্কা সেই আস্থার পূর্ণ মর্যাদা দেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তিন ওভারে মাত্র ১৭ রান খরচ করে তিনি ভারতের হয়ে সবচেয়ে কম রান দেওয়া বোলিং স্পেল করেন। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং ভারতের ১৭০ রানের লক্ষ্য সহজেই রক্ষা করতে সাহায্য করে।

মানসিক অবসাদের জন্য ক্রিকেট ছাড়তে চান-শুধু বোলিং নয়, ম্যাচে তাঁর নেওয়া একটি অসাধারণ ক্যাচও দর্শকদের মুগ্ধ করেছে, যা দীর্ঘদিন মনে রাখবেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তবে নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে বুধবারের ম্যাচের আগে শ্রেয়াঙ্কা নিজের জীবনের এক কঠিন অধ্যায়ের কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, এক সময় তিনি মানসিক অবসাদের মধ্যে দিয়ে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে উঠেছিল যে তিনি ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।

 

বর্তমানে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলো ছড়ালেও, সেই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার গল্প শ্রেয়াঙ্কার লড়াই এবং মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এশিয়া কাপের ম্যাচে আঙুলে চোট পেয়ে ফ্র্যাকচারের শিকার হয়েছিলেন শ্রেয়াঙ্কা পাটিল। সেই চোটের কারণে তিনি প্রায় ১৪ মাস ক্রিকেটের বাইরে ছিলেন।

তবে দুর্ভাগ্য সেখানেই শেষ হয়নি। পুনর্বাসনের সময় তাঁকে দুই পায়ের পেশিতে (ক্যাফে) গুরুতর সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি বাঁ হাতের বুড়ো আঙুলেও ফ্র্যাকচার ধরা পড়ে। একের পর এক চোট তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলে দেয়।

দীর্ঘ পুনর্বাসন এবং সংগ্রামের পর অবশেষে চলতি বছরের শুরুতে মহিলা প্রিমিয়ার লিগে (WPL) রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে মাঠে ফিরে আসেন শ্রেয়াঙ্কা। চোট কাটিয়ে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াইয়েরও এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

চোটের জন্য মানসিক অবসাদ গ্রাস করেছিল একটা সময়-তিনি বলেন, “আমি যদি বলি যে আমি অবসাদে ভুগিনি বা ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবিনি, তাহলে সেটা মিথ্যা হবে। চোটের সময় শুরুতে আমার ঠিক এমনই মনে হয়েছিল। কিন্তু আমার ভেতরে একটা কণ্ঠস্বর ছিল, যা বলছিল—যাই হোক না কেন, আমি এই খেলাটা ভালোবাসি। আমি এখানে শুধু এই কারণেই আছি যে আমি ক্রিকেট খেলতে ভালোবাসি।”

শ্রেয়াঙ্কা আরও বলেন, “তাই আমি এমন একটা জিনিস ছেড়ে দিতে পারিনি, যেটা করতে আমি এত ভালোবাসি। আমি সাহস ধরে রেখেছিলাম। আমার বাবা নিয়মিত আমার সঙ্গে কথা বলতেন এবং আমার পরিবার সবসময় পাশে ছিল। আমার চারপাশের পরিবেশ এবং শক্তিশালী সমর্থন ব্যবস্থা আমাকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। আমি সবসময় ভালো মানুষের সঙ্গেই ছিলাম।”

চাপের মুহূর্তে বোলিং করতে ভালবাসেন শ্রেয়াঙ্কা-ভারতীয় এই স্পিনার জানান, তিনি বরাবরই চাপের পরিস্থিতিতে বোলিং করতে পছন্দ করেন। বিশেষ করে পাওয়ার-প্লেতে বল হাতে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ তাঁকে অনুপ্রাণিত করে।

তিনি বলেন, “আমি সবসময় পাওয়ার-প্লেতে বোলিং করতে ভালোবাসি, সেটা রাজ্য দলের হয়ে হোক বা ভারতের হয়ে। চাপের মধ্যে বোলিং করতে দারুণ লাগে, কারণ আমি এই কাজটাই করতে পছন্দ করি এবং অতীতেও সফলভাবে করেছি।”

(Feed Source: news18.com)