)
মুম্বইয়ের বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী তরুণ রাজ সম্প্রতি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনার শিকার হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এক চরম পারিবারিক বিপর্যয়কে আশার আলোয় বদলে দিল মুম্বইয়ের একটি পরিবার। মাত্র ১৯ বছর বয়সে ব্রেন ডেথ (মস্তিষ্কের অকাল মৃত্যু) হওয়া সন্তান ‘রাজ’-এর অঙ্গদান করে ৬ জন মুমূর্ষু মানুষকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিলেন তাঁর বাবা-মা। শোকের পাহাড় বুকে চেপেও তাঁদের নেওয়া এই মানবিক সিদ্ধান্ত চিকিৎসা জগতে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
মুম্বইয়ের বাসিন্দা ১৯ বছর বয়সী তরুণ রাজ সম্প্রতি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনার শিকার হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভরতি করা হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়। চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত রাজকে ‘ব্রেন ডেড’ বলে ঘোষণা করেন।
একমাত্র তরতাজা সন্তানকে চিরতরে হারিয়ে ফেলার এই আকস্মিক আঘাত মেনে নেওয়া যে কোনও বাবা-মার পক্ষেই অসম্ভব। কিন্তু রাজের পরিবার এই চরম অন্ধকারের মধ্যেও অন্য এক মানবিক সিদ্ধান্ত নেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন রাজের সুস্থ অঙ্গগুলি দান করে দেওয়ার। যাতে তাঁর চলে যাওয়ার পরেও তাঁর শরীরের অংশ অন্য কারও মাধ্যমে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকে।
নতুন জীবন
পরিবারের সম্মতির পর হাসপাতালের চিকিৎসকেরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে রাজের শরীর থেকে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের (Organ Transplantation) প্রক্রিয়া শুরু করেন। রাজের দান করা বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে জীবন-মৃত্যুর সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা ছয়জন রোগী সম্পূর্ণ নতুনভাবে বাঁচার সুযোগ পেলেন।
অঙ্গদানের গুরুত্ব: চিকিৎসকদের মতে, ভারতে প্রতি বছর সঠিক সময়ে অঙ্গ না পাওয়ার কারণে হাজার হাজার মানুষ মারা যান। এই পরিস্থিতিতে ১৯ বছরের রাজের পরিবারের এই দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত অঙ্গদান সম্পর্কে সমাজের সচেতনতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
নিজের অকালমৃত্যুর পরেও রাজ আজ এক লহমায় ছয়টি পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে গেলেন। রাজের পরিবার প্রমাণ করে দিল, মানুষের চলে যাওয়া মানেই সব শেষ নয়; সঠিক ও মানবিক সিদ্ধান্তে মৃত্যুর পরেও অন্য কারও জীবনের স্পন্দন হয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব।
(Feed Source: zeenews.com)
