West Medinipur News: শতবর্ষের সাক্ষী, আধুনিকতার ভিড়েও অক্ষত শতবর্ষ প্রাচীন’রাজা নরেন্দ্রলাল খান’ জলাধার

West Medinipur News: শতবর্ষের সাক্ষী, আধুনিকতার ভিড়েও অক্ষত শতবর্ষ প্রাচীন’রাজা নরেন্দ্রলাল খান’ জলাধার

 

West Medinipur News: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জল সরবরাহের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলেও, মেদিনীপুর শহরের এই পুরনো জলট্যাঙ্কি আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে থেকে বহন করে চলেছে তার চিরাচরিত গৌরবময় ইতিহাসকে।

মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: সংস্কৃতি ও বিপ্লবের ইতিহাসে মেদিনীপুর এক অনন্য নাম। এককালে ব্রিটিশদের মূল ঘাঁটি হওয়া এই শহরের অলিন্দে কান পাতলে আজও শোনা যায় শতবর্ষ পুরনো ঐতিহ্যের নানা কথা। তৎকালীন ব্রিটিশ যুগে মেদিনীপুরের বুকে যেমন অত্যাচার ও বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের স্বার্থে গড়ে উঠেছে একাধিক পরিকাঠামো ও স্থাপত্য, যা আজ শহরের ল্যান্ডমার্ক হিসেবে পরিচিত।

এমনই এক প্রাচীন ঐতিহ্য ও ক্রমবর্ধমান ইতিহাসের ধারক ও বাহক হল মেদিনীপুর স্টেশন সংলগ্ন এলাকার শতবর্ষ প্রাচীন জলের ট্যাঙ্ক। বাইরে থেকে দেখলে এটিকে আর পাঁচটা সাধারণ জলের ট্যাঙ্কের মতো মনে হতে পারে, তবে এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শহরের সুদীর্ঘ একশো বছরের ইতিহাস ও পরম্পরা। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯২৪ সালে মেদিনীপুর শহরের সবচেয়ে উঁচু স্থান হিসেবে চিহ্নিত স্টেশন সংলগ্ন এই এলাকায় জলাধার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চারিদিকে ইটের দেওয়াল দিয়ে ঘেরা এবং বারোটি আর্চের মতো বিম দিয়ে তৈরি এই সুউচ্চ জলাধারটি বেশ কয়েক হাজার গ্যালন ক্ষমতা সম্পন্ন।

মেদিনীপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ৬০ বছর পরে জনস্বাস্থ্য দফতরের উদ্যোগে এই ট্যাঙ্কটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, যা দীর্ঘদিন ধরে গোটা পৌর এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ করেছে। পাথুরে এলাকা হওয়ায় জঙ্গলমহলের এই শহরের মানুষের বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই জলাধারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এই বিশাল জলাধার নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছে এক অনন্য সামাজিক সহযোগিতার ইতিহাস।

জানা যায়, তৎকালীন সময়ে এই জলাধার নির্মাণের জন্য ময়ূরভঞ্জের রাজা, বর্ধমানের রাজা, মহিষাদলের রাজা-সহ মোট ২৮ জন অর্থ সাহায্য করেছিলেন। এর পাশাপাশি মেদিনীপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজা নরেন্দ্রলাল খান এই প্রকল্পে এবং শহরের একাধিক স্থানে কল স্থাপনের জন্য বিপুল আর্থিক সহযোগিতা করেন। তাঁর এই বিশেষ অবদানের কথা স্মরণ করেই এই ট্যাঙ্কের নামকরণ করা হয় রাজা নরেন্দ্রলাল খানের নামে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জল সরবরাহের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে উঠলেও, মেদিনীপুর শহরের এই পুরনো জলট্যাঙ্কি আজও স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে থেকে বহন করে চলেছে তার চিরাচরিত গৌরবময় ইতিহাসকে।