)
International Yoga Day: ২০১৫ সালের ২১শে জুন বিশ্বজুড়ে প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়। মোদীজির এই সফল উদ্যোগের ফলে ভারতের হাজার বছরের প্রাচীন যোগবিদ্যা আজ একটি বৈশ্বিক গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্ব জানত যোগ ব্য়ায়াম ভারতের নিজস্ব বিষয়। ঋষি মুনিদের কাল থেকে ভারতে চলে আসছে যোগ-এর অভ্যাস। সেই যোগ-কে আন্তর্জাতিক আঙিনায় নিয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শেষপর্য়ন্ত আন্তর্জাতিক যোগ দিবস গিসেবে ২১ জুনকে স্বীকৃতি দেয়।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় প্রথমবার ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ পালনের প্রস্তাব দেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বলেন, যোগ কেবল মাত্র কিছু শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম নয়। এটি মূলত মানুষের মন, শরীর, চিন্তাভাবনা ও কর্মের মধ্যে এক অপূর্ব যেগাযোগ তৈরি করে। মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে মেলবন্ধন ঘটায়, মানসিক চাপ দূর করে। দ্রুত বদলে যাওয়া এই দুনিয়ায় নিরোগ থাকতে যোগ অত্যন্ত জরুরি। বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট দিন যোগচর্চার জন্য উৎসর্গ করার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বিশেষ দিনটির জন্য ২১শে জুন তারিখটি প্রস্তাব করেন, কারণ এটি উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন এবং বিশ্বের বহু সংস্কৃতিতে এই দিনটি তাত্পর্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রস্তাবটি বিশ্বমঞ্চে এক অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে। তাঁর ওই প্রস্তাবের মাত্র ৩ মাসের মধ্যে, ২০১৪ সালের ১১ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ ২১শে জুন তারিখটিকে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। রাষ্ট্রসংঘের ইতিহাসে এটি একটি অন্যতম ঐতিহাসিক ঘটনা। কারণ এই প্রস্তাবটি রেকর্ড সংখ্যক ১৭৭টি সদস্য দেশ সরাসরি সমর্থন করেছিল। এত বিপুল সংখ্যক দেশের সহ-পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো প্রস্তাব পাস হওয়া রাষ্ট্রসংঘের ইতিহাসে এটিই প্রথম।
২০১৫ সালের ২১শে জুন বিশ্বজুড়ে প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়। মোদীজির এই সফল উদ্যোগের ফলে ভারতের হাজার বছরের প্রাচীন যোগবিদ্যা আজ একটি বৈশ্বিক গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এটি বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে সুস্বাস্থ্যের এক সুতোয় বেঁধেছে এবং আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও কূটনৈতিক শক্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
যোগব্যায়াম বা ‘যোগ’ আজ বিশ্বমঞ্চে ভারতের সবচেয়ে সফল সাংস্কৃতিক ও সফট হাতিযার। কোনো সামরিক বা অর্থনৈতিক চাপ ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে গোটা বিশ্বকে ভারতের সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট করেছে। এর মূল কারণ, ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রস্তাবে রাষ্ট্রসংঘ ২১শে জুন তারিখটিকে ‘আন্তর্জাতিক যোগ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। রেকর্ড ১৭৭টি দেশের সমর্থনে এই প্রস্তাব পাস হওয়ায় যোগব্যায়াম একটি আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক উৎসবের রূপ পায়।
যোগ কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক শান্তির এক বিজ্ঞানসম্মত উপায়, যা আধুনিক বিশ্বের মানসিক চাপ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতি বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলো বড় বড় শিবিরের আয়োজন করে। আইফেল টাওয়ার থেকে শুরু করে টাইমস স্কোয়ার—বিশ্বের নামী সব জায়গায় যোগচর্চার মাধ্যমে ভারত নিজের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরছে।
হলিউড তারকা, আন্তর্জাতিক অ্যাথলেট এবং পশ্চিমা প্রভাবশালীদের মাধ্যমে যোগ আজ বিশ্বজুড়ে একটি আধুনিক জীবনযাত্রার অংশ ও ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে।
কোনো রাজনৈতিক সীমানা না মেনে, সুস্বাস্থ্যের বার্তা দিয়ে যোগ আজ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষকে ভারতের সাথে এক আত্মিক সুতোয় বেঁধে ফেলেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
