)
Yoga and Science: মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যোগব্যায়ামের প্রভাব বিপুল। নিয়মিত যোগচর্চা ও প্রাণায়াম শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়,
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শরীর ও মানসিক উজ্জীবনে যোগের ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে। সভ্যতা যত জটিল হচ্ছে ততই তার সঙ্গে মানুষের মানিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি কঠিন হয়ে উঠছে। এখানেই রয়েছে যোগের ভূমিকা। এমনই বলছে আধুনিক বিজ্ঞান।
মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যোগব্যায়ামের প্রভাব বিপুল। নিয়মিত যোগচর্চা ও প্রাণায়াম শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। যোগের গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়া মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ায়। এর ফলে মন শান্ত হয়, অবসাদ কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে। অনিদ্রা দূর করে ঘুমের মান উন্নত করে এবং মানুষের মনোযোগ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়। কোনো ওষুধ ছাড়াই মনকে ইতিবাচক, প্রফুল্ল ও আবেগের দিক থেকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখার সবচেয়ে সহজ ও প্রাকৃতিক বিজ্ঞানসম্মত উপায় হল যোগব্যায়াম।
মর্ডান লাইফস্টাইলের প্রধান সমস্যা হল স্ট্রেস। এটি কমাতে গেলে যোগব্যায়াম একটি অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিষেধক। ব্যস্ত জীবনযাত্রায় শরীরে যে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোন তৈরি হয়, নিয়মিত যোগচর্চা তার মাত্রা দ্রুত কমিয়ে আনে। বিশেষ করে শবাসন, বালাসন এবং অনুলোম-বিলোমের মতো প্রাণায়াম আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে। যোগের গভীর ও নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রক্রিয়া মস্তিষ্কে অক্সিজেনের প্রবাহ বাড়ায়, যা মনের চঞ্চলতা ও উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করে। এটি পেশির ক্লান্তি ও মানসিক চাপ দূর করে মনকে শান্তি দেয়। প্রতিদিন মাত্র ১০-১৫ মিনিটের যোগচর্চাও মনকে প্রফুল্ল রাখে।
আধুনিক জীবনে অনিয়ম থেকে সৃষ্ট ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং হৃদরোগের মতো ‘লাইফস্টাইল ডিজিজ’ নিয়ন্ত্রণে যোগব্যায়াম অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু আসন ও প্রাণায়াম চর্চা করলে শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায় এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া, যোগব্যায়াম রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রেখে কোলেস্টেরল কমায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। সবচেয়ে বড় কথা, এটি শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর পাশাপাশি মানসিক চাপ বা স্ট্রেস দূর করে, যা এই রোগগুলো বৃদ্ধির প্রধান কারণ। কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই প্রতিদিনের সামান্য যোগচর্চা এই জীবনযাত্রার রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে রেখে একটি দীর্ঘ ও সুস্থ জীবন উপহার দিতে পারে।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান অনুযায়ী, বার্ধক্যজনিত স্মৃতিভ্রম ও মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা হ্রাসের বিরুদ্ধে যোগব্যায়াম একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার। হার্ভার্ড ও ইউসিএলএ মতো নামী প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত যোগচর্চা ও ধ্যান মস্তিষ্কের ‘হিপোক্যাম্পাস’ এবং ‘প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশের গ্রে-ম্যাটার বা কোষের ঘনত্ব ধরে রাখতে সাহায্য করে, যা সাধারণত বয়সের সাথে সাথে সংকুচিত হয়ে যায়। এটি স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’ কমিয়ে এবং মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাকে উন্নত করে। ফলে অ্যালঝাইমার্স বা ডিমেনশিয়ার মতো জটিল রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
এইমস-এর গবেষকদের বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রমাণিত হয়েছে যে, যোগব্যায়াম কেবল শারীরিক কসরত নয়, বরং এটি মানবদেহের জিনগত ও কোষীয় স্তরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। এইমসের ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মিত যোগচর্চা শরীরের ‘অক্সিডেটিভ স্ট্রেস’ এবং কোষের প্রদাহ (Inflammation) উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, যা বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে। এছাড়া, তাঁদের গবেষণায় দেখা গেছে যে ১২ সপ্তাহের একটি সুনির্দিষ্ট যোগ ও প্রাণায়ামের সেশন বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং মৃদু স্মৃতিভ্রম (MCI)-এ আক্রান্ত রোগীদের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে ওষুধ বা সাধারণ কাউন্সেলিংয়ের চেয়েও বেশি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।
(Feed Source: zeenews.com)
