)
Love And War Crew: মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে চিঠি লিখে সিনে সংগঠন দাবি করেছে, অবিলম্বে বনশালী ও ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করতে হবে এবং গোটা ঘটনার একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করাতে হবে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ক্রমশ চাপ বাড়ছে পরিচালকের উপর। সঞ্জয় লীলা বানশালী আগামী ছবি ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ (Love and War)-এর শ্যুটিং সেটে এক কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মৃত শ্রমিকের নাম চন্দ্রধারী সিং যাদব (৪২), যিনি পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন। এই দুর্ঘটনার পর এবার সরাসরি পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানশালী এবং প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলেছে অল ইন্ডিয়া সিনেমা ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (AICWA)। প্রযোজক-পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের, উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এবং মৃত কর্মীর পরিবারের জন্য এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের দাবিও তুলেছে সংগঠনটি।
গত ১৭ জুন মুম্বইয়ের ফিল্ম সিটির কাছে রয়্যাল পাম্প স্টুডিওতে ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ ছবির সেট তৈরির কাজ চলছিল। সেখানেই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তবে শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বর্তমানে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনেমা এমপ্লয়িজ (FWICE)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ওই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু AICWA-এর সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্তা এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, শ্যুটিং সেটের ছাদ বা কাঠামোর একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছিল, যার জেরেই চন্দ্রধারীর মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন কর্মী জখম হন। সেটে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা রয়েছে, ‘এই ঘটনাটি নতুন নয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে। ২০০০ সালে দেবদাস ছবির শ্যুটিংয়ের সময় কর্মী দিনদয়াল যাদব প্রাণ হারান, আরও বেশ কয়েকজন কর্মী গুরুতর আহত হন। ২০০১ সালে ওই ছবির শ্যুটিং চলাকালীন মারা যান কর্মী সুভাষ মোরক। পদ্মাবত ছবির শুটিং চলাকালীন ৩৪ বছর বয়সী ডাকিয়া দুর্ঘটনায় মারা যান। এবার আরও একবার তেমনই দুর্ঘটনা ঘটল।’
সিনেমার সেটে শ্যুটিং বন্ধ ও ১ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের দাবি
মৃত চন্দ্রধারী সিং যাদবই ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে স্ত্রী ও দুই নাবালিকা কন্যা অথৈ জলে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে এআইসিডব্লিউএ-এর দাবি, বনশালীর পক্ষ থেকে ওই অসহায় পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, মৃতের স্ত্রীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে এবং দুই মেয়ের পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে হবে। যতদিন না ওই শ্য়ুটিং স্পটের নিরাপত্তা অডিট সম্পন্ন হচ্ছে এবং সুরক্ষার শংসাপত্র মিলছে, ততদিন সেখানে সব ধরনের শ্যুট বন্ধ রাখতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে সুরেশ গুপ্তর দাবি, সঞ্জয় লীলা বনশালি, সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থা এবং ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুন, অবহেলাজনিত মৃত্যু-সহ প্রযোজ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হোক। শোনা যাচ্ছে, এই পরিস্থিতিতে বনশালীর টিম ওই কর্মীর পরিবারকে ৪০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সঠিক তদন্ত এবং চলচ্চিত্র জগতের শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে অনড় সিনেমা সংগঠন।
(Feed Source: zeenews.com)
