
নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় ফের কি নতুন করে যুদ্ধ শুরু হচ্ছে? শুক্রবার গভীর রাতের ঘটনাবলী এই প্রশ্নই উস্কে দিল। কারণ ইরানের ফের হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ভাণ্ডার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। হামলা চালানো হয়েছে উপকূলীয় রেডার কেন্দ্রগুলিতেও। এর পাল্টা ওই অঞ্চলে আমেরিকার ঘাঁটি লক্ষ্য় করে হামলা চালাতে শুরু করেছে ইরানও। আর তাতেই ফের প্রমাদ গুনতে শুরু করল আন্তর্জাতিক মহল। একদিন আগে একটি মালবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। আর তার পরই ফের ইরানের উপর হামলা চালাল আমেরিকা। এর ফলে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়েও ফের প্রশ্ন উঠে গেল। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ফেরানো নিয়েও নতুন করে বাড়ল চিন্তা। (US Strikes Iran)
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আমেরিকার হামলার জবাবে পাল্টা আঘাত হানতে শুরু করেছে ইরানও। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ডস আমেরিকার একাধিক ঘাঁটিকে নিশানা করেছে। আমেরিকাকে মুখের মতো জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গভীর রাতে দক্ষিণের বন্দর শহর তাহেরুয়েতে হামলা চালানো হয়েছে। প্রজেক্টাইল ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। অন্য দিকে, আমেরিকার দাবি, হরমুজ প্রণালী পেরনোর সময় একদিন আগে মালবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল তেহরান। (US Attacks Iran)
U.S. Central Command (CENTCOM) forces conducted strikes against Iran on June 26, as a powerful response to yesterday’s attack on a commercial ship that was transiting the Strait of Hormuz. pic.twitter.com/UBJEhSkRJU
— ANI (@ANI) June 26, 2026
হরমুজে মালবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় গতকালই কড়া বার্তা দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য ছিল, “আমাদের শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করে নিঃসন্দেহে বোকামি করেছে ওরা।” এর ঠিক পর পরই ইরানে হামলা চালানোর কথা প্রকাশ করে US Central Command (CENTCOM). আমেরিকার এই হামলায় হরমুজ খুলে রাখা নিয়ে নতুন করে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যে শান্তি-আলোচনা চলছে, তাও প্রভাবিত হবে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
ইরানের তরফে আগেই জানানো হয়, তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ দিয়ে কোনও জাহাজ ঢুকতে পারবে না, বেরোতেও পারবে না। তার পরও কিছু রুট ধরে জাহাজ চলাচল করছিল। Kpler জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ইরানের অনুমতি ছাড়াই দক্ষিণ দিক দিয়ে, ওমান উপকূল ধরে হরমুজ পেরোয় কিছু জাহাজ।
রাষ্ট্রপুঞ্জের উপকূলীয় সংস্থা জানিয়েছে, ১১৫টি জাহাজকে উদ্ধার করা গিয়েছে। উদ্ধার করা গিয়েছে ২৫০০ নাবিককে। কিন্তু নতুন করে হামলায় উদ্ধারকার্য ব্যহত হয়েছে। যুদ্ধবিরতির জেরে হরমুজে ফের স্থিতাবস্থা ফিরে এসেছে বলে আশা করা হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামেও তাই পতন লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু নতুন করে হামলায় ফের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
(Feed Source: abplive.com)
