জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় সময়ে বৃহস্পতিবার সকালে ভয়ংকর ভূমিকম্প কেঁপে উঠেছে গোটা ভেনেজুয়েলা। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা USGS বলছে, ওই ভূমিকম্পে ১০০০০-এর বেশি মানুষের মারা যাওয়ার আশঙ্কা ৪৪%! আর ১ লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে ৩০%! দেখা যাচ্ছে, সেই আশঙ্কাই ক্রমশ সত্যি হচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের তিন দিন পরেও ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের খোঁজে চলছে মরিয়া উদ্ধার অভিযান। এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৩০ জন! নিখোঁজ রয়েছেন ৫১ হাজারেরও বেশি মানুষ। উদ্ধারকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, জীবিত কাউকে উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। আহত হয়ছেন ৩২০০ জন!
জোড়া কম্পনে কেঁপে উঠেছিল ভেনেজুয়েলার উপকুলবর্তী এলাকা। মাত্র ৩৯ মিনিটের ব্যবধানে পরপর দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল একের পর এক শহর। রিখটার স্কেলে একটি কম্পনের মাত্রা ছিল ৭.২ এবং অন্যটির মাত্রা ৭.৫। পাশাপাশি ছিল ২০টি আফটার শক। দু’টি ভূমিকম্পেরই উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ২৯০ কিলোমিটার পশ্চিমে। গত ১২৬ বছরের মধ্যে এটিই ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্প! এর আগে ১৯০০ সালে সেখানে ৭.৭ মাত্রার এক ভয়ংকর ভূমিকম্প হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেস বলেছেন, প্রত্যেক জীবিত মানুষকে উদ্ধার করা এখন একটা অলৌকিক ঘটনার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেস জানিয়েছেন, খাদ্য ও জলসরবরাহ করা হচ্ছে। জীবিতদের উদ্ধারে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে দেশ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আরও সহায়তা পৌঁছচ্ছে।
এদিকে শনিবার আরও ৪.৮ মাত্রার একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত আহতের সংখ্যা ৩৩০০ ছাড়িয়েছে এবং ২৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রায় ১৬০০ উদ্ধারকর্মী ইতিমধ্যে ভেনেজুয়ায় পৌঁছেছেন। জানা গিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখন সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আশঙ্কা করছে, এই দুর্যোগে প্রায় ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, যার মধ্যে রাজধানী কারাকাসেই প্রায় ২০ লাখ মানুষ রয়েছেন।
(Feed Source: zeenews.com)