
দিদি নম্বর ১ থেকে সরানো থেকে শুরু করে NCPI এ যোগ দেওয়া নিয়ে বিস্ফোরক মন্তন্য করেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তিনি সাংসদ পদ থেকে সরবেন না, স্পষ্ট করেছেন৷
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ভীষণ স্পষ্টবাদী, তিনি রাখঢাক করে কথা বলতে জানেন না৷ একথা সকলেরই জানা৷ এবং কয়েকদিন ধরে তাঁর ভাবমূর্তি আরও একবার সকলের সামনে তুলে ধরলেন অভিনেত্রী-সাংসদ৷ প্রথমে দিদি নম্বর ১ শো থেকে সরে যাওয়া এবং NCPI এ যোগ দেওয়া নিয়ে বিস্ফোরক কথা বললেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
তৃণমূল ছেড়ে তিনি গিয়েছেন একদা নাম না জানা দল এনসিপিআই-তে৷ রাজনৈতিক মহল থেকে টিভির পর্দা সব জায়গায় অন্যতম আলোচ্য নাম রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রবিবার News18 bangla র সঙ্গে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক কথা তুলে ধরেছেন৷
অভিযোগ উঠেছে যে তৃণমূলের ভাল সময় তিনি ছিলেন, কিন্তু তারপর দল হারতেই তিনিও সরে দাঁড়ালেন? এখানেই আপত্তি তুলেছেন তিনি৷ রচনা বলেছেন, “আমি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, একজন জনপ্রিয় সেলিব্রিটি মুখ৷ লকেটকে হারানোর জন্যই দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আমাকে প্রার্থী করেছিলেন৷ আমি অনামী কেউ ছিলাম না যাকে অকারণে তুলে দিদি এনেছিলেন”৷ ফলে হুগলি থেকে জেতার পিছনে তাঁর সেলিব্রিটি স্টেটাস ও পরিশ্রমও রয়েছে বলে দাবি করেন রচনা৷ তিনি আরও বলেন, হুগলির সিট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দরকার ছিল, যে কারণে তাঁর দিদি নম্বর ১-এর জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে তৃণমূল৷ একেবারে চাঁচাছোলা ভাবে রচনা বলেন, “ঘরে বসে হাজার হাজার মানুষ দিদি নম্বর ওয়ান দেখেন, তাই তিনি আমাকে নিয়ে এসেছিলেন এবং দিদি নম্বর ওয়ান শোতেও এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ আমি জিতিয়ে দিয়েছি সিটটা, আমার ফেসভ্যালুর জন্য ওই সিটে জয় এসেছে৷”
তিনি আরও বলেন যে, তৃণমূল দলের সামনে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু পিছন থেকে দল চালান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “দুর্নীতির জন্য পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবি হল”৷ এত চুরি, এত দুর্নীতি হয়েছে, তা যদি তিনি জানতেন তাহলে তিনি তৃণমূলে আসতেন না৷ তিনি আরও বলেন যে, যারা ডিম ছুঁড়ছেন তারাও তৃণমূল৷ TMC এর লোকেরাই তাদের রাগের বহিঃপ্রকাশের জন্য ডিম ছুঁড়ছেন৷
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে৷ “উনি বলেছেন আমাদের পাশে আছেন”, জানিয়েছেন হুগলির সাংসদ৷
তাহলে কি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি-তে যোগ দেবেন? অভিনেত্রী বলছেন, মিঠুন চক্রবর্তী আমাকে বিজেপিতে আসার জন্য অনুরোধ করেছিলেন. কিন্তু আমি যাইনি৷ “দাদা হয়তো আমার উপর রেগেই আছেন”৷ ফলে এই নিয়ে স্পষ্ট কোনও বার্তা দেননি একসময়ের দিদি নম্বর ১৷ তবে সেই জল্পনা জিইয়ে রেখেছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হলেও রচনা ও মিঠুনের সম্পর্ক খুব ভাল৷ একসঙ্গে তাঁরা ছবিতে কাজও করেছেন৷ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার পাশাপাশি হিন্দি ছবিতেও কাজ করেছেন৷
(Feed Source: news18.com)
